মেইন ম্যেনু

পিয়াস করিমের বাসায় খালেদা

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সদ্যপ্রয়াত ড. পিয়াস করিমের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে সোমবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে তার ধানমণ্ডির বাসায় যান। এসময় বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘সত্য প্রকাশে এক নিঃশঙ্কচিত্ত নির্ভিক ব্যক্তিত্ব ড. পিয়াস করিমের পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ায় এক বিশাল ক্ষতি হলো। তার চিরবিদায় এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করলো।’
তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। এসময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবিউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এম এ জাহিদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের প্রখ্যাত সমাজ বিজ্ঞানী, জনপ্রিয় টক-শো ব্যক্তিত্ব, রাজনীতি বিশ্লেষক এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম (৫৮) সোমবার ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। তখনই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার মৃত্যুর খবরে সবর্ত্রই শোকের ছাড়া নেমে আসে। সকাল থেকেই রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ও সহকর্মীরা তার মৃত্যুর খবর শুনে ধানমণ্ডির বাসায় ছুটে যান।
ড. পিয়াস করিমের পারিবারিক সূত্র জানায়, রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত তাকে রাজধানীর পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু
হাসপাতালে নেয়ার আগেই তিনি মারা যান বলে জানান হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মল্লিকা সরকার। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সকাল সাড়ে ৫টার
দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের অধ্যাপক পিয়াস করিমের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। তার বাবার নাম অ্যাডভোকেট এমএ করিম। পিয়াস করিম কুমিল্লা মডার্ন স্কুল, কুমিল্লা জিলা স্কুল, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।
সেখানে কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে সমাজবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে দেশে ফিরে গত আট বছর ধরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছিলেন।
পারিবারিক জীবনে দ্রাবিড় করিম নামে তার একমাত্র সন্তান রয়েছে। স্ত্রী আমেনা মহসিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক। পিয়াস করিমের ছোটভাই জহির করিম। এছাড়া তার তিন বোন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
ড. পিয়াস করিমের ছোট ভাই জহির করিম জানান, তাদের তিন বোন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ভারতে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় যারা থাকেন তাদের আসতে সময় লাগবে। সে হিসেবে মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে যে, কবে তাকে দাফন করা হবে। তবে বুধবার পর্যন্ত মৃতদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।
পিয়াস করিমের মৃত্যুতে দেশের শিক্ষাবিদ বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী,রাজনৈতিক মহলসহ সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী তরিকুল ইসলামসহ পেশাজীবী, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন ব্যক্তি শোক প্রকাশ করেছেন।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই