মেইন ম্যেনু

পাখিপ্রেমী সমর কুমারের অনন্য দৃষ্টান্ত

রবিউল ইসলাম শাহীন, জেলা প্রতিনিধি পাবনা : একেক মানুষের শখ একেক রকম। কারো শখের সঙ্গে মিশে থাকে মমত্ববোধ আর ভালোবাসা। শখের বশে করা কাজ অনেকের নজর কাড়ে, সৃষ্টি করে অনন্য দৃষ্টান্ত। কেউবা শখের বসে করা কাজের মাঝে খুঁজে ফেরেন মানসিক প্রশান্তি। তেমনি একজন পাবনার পাখিপ্রেমী সমর কুমার ঘোষ।
প্রতিদিন ভোরে শালিক পাখিদের চানাচুর দিয়ে আপ্যায়ন করেন সমর কুমার ঘোষ। আর এ কাজটি তিনি করছেন প্রায় পাঁচ বছর ধরে। শালিকদের এমন আপ্যায়নের দৃশ্য নজর কাড়ে প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া মানুষের। শালিক ও সমরের এই সখ্যতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সুধীজনেরা।
পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ সড়ক, কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর, তখনো সূর্য ওঠেনি, ঘুম থেকে ওঠেননি অনেকে। কেউ বের হয়েছেন প্রাতঃভ্রমণে, কেউবা গন্তব্যস্থলের উদ্দেশে। এর মধ্যে বিভিন্ন ভবনের ছাদ ও বৈদ্যুতিক তারে ঝাঁকে ঝাঁকে শালিকের অপেক্ষা, কখন আসবেন তিনি, কখন দেবেন খাবার। ঠিক সময়মতো বস্তা ভর্তি চানাচুর নিয়ে হাজির তিনি। উৎফুল্ল শালিকের দল। কিচিরমিচির শব্দে ছুটোছুটি-হুড়োহুড়ি। এরপর পেটপুরে চানাচুর খেয়ে ছুটে যায় দিকবিদিক।
নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে পাখিদের খাবার দিয়ে দেখছেন সমর কুমার ঘোষ
শত শত শালিককে আপ্যায়নের এ দৃশ্যের দেখা মেলে প্রতিদিন ভোরে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে শ্যামল দই ভাণ্ডারের সামনে। গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে শালিকদের এভাবেই আপ্যায়ন করে চলেছেন শ্যামল দই ভাণ্ডারের মালিক সমর কুমার ঘোষ।
সমর কুমার ঘোষ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই পশুপাখির প্রতি আমার দরদ ছিল। ব্যবসার কারণে প্রতিদিন খুব ভোরে দোকানে আসতে হয়। একদিন দোকানের সামনে কয়েকটি শালিককে খাবারের জন্য চেঁচামেচি করতে দেখে তাদের চানাচুর খেতে দেই। পরদিন থেকে খাবারের জন্য পাখির সংখ্যা বাড়তে থাকে। এভাবে শালিকদের সঙ্গে আমার তৈরি হয় সখ্যাতা। বর্তমানে পাখি বাড়তে বাড়তে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজারে। প্রতিদিন এই দুই হাজার শালিককে চানাচুর দিয়ে আপ্যায়ন করি।’
তিনি বলেন, ‘শালিককে খাওয়ানোর এ আয়োজন যাতে ভবিষ্যতেও চালু থাকে সে উদ্যোগ নিয়েছি। আমি না থাকলেও আমার ভাই, ছেলে বা দোকানের কর্মচারীরা পাখিদের এই খাওয়ানোর কাজ চালিয়ে যাবে। আমি আশা করি, আমার দেখাদেখি পাখিদের আপ্যায়নে অন্যরাও এগিয়ে আসবেন।’
শহরের প্রধান সড়কে প্রতিদিন ভোরের এই দৃশ্য আনন্দ দেয় বহু পথচারীকে। প্রাতঃভ্রমণে ও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ অবাক হয়ে দৃশ্যটি উপভোগ করেন। কেউ মুঠোফোনে ছবি তোলেন, ভিডিও করেন, সাধুবাদ জানান সমর কুমারকে।
উত্তরাঞ্চলের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘স্বাধীন জীবন’র নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক নাসিম বলেন, সমর কুমারের উদ্যোগ অনেক প্রশংসনীয়। তার এই পাখিপ্রেম জীববৈচিত্র ও প্রকৃতি সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে।
সামাজিক বন বিভাগ পাবনার বন কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ বলেন, পাবনার আব্দুল হামিদ সড়কে সমর কুমার ঘোষ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা সত্যিই অনন্য। সামাজিক বন বিভাগ এটাকে খুব ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সমর কুমারের মতো অন্যরাও এভাবে পশুপাখির প্রতি ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে আসবে বলে মনে করি।’






মন্তব্য চালু নেই