মেইন ম্যেনু

পাউবোর ক্রসবার বাঁধ সংস্কারে কাজে চায়নাদের একদিকে গড়িমশি, অন্যদিকে অনিয়ম

সিরাজগঞ্জে যমুনার পশ্চিম পাড়ে পাউবোর ৪টি ক্ষতিগ্রস্ত ক্রসবার বাধঁ সংস্কারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘চায়না-হারবার’-এর বিরুদ্ধে গড়িমশি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গড়িমশির মধ্যে রয়েছে বাঁধগুলোর শক্তিশালীকরন কাজে প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত শিলা পাথর সংগ্রহ করে ঠিকাদারী সাইটে যথাসময়ে না আনা। চুক্তিনুযায়ী চলতি বছরের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সংস্কারকৃত ক্রসবার-৩’র পূর্বপাড় ঘেষে বার্জ দিয়ে যমুনায় শিলাপাথর নিক্ষেপ কাজ শুরু না করা। আর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে একই ক্রসবারের ব্লক বিছানোর কাজে নির্মানের খোয়া ব্যবহার করা। এদিকে, গত ২৫এপ্রিল পাউবোর মহাপরিচালক নিজেই সিরাজগঞ্জ সাইটে এসে চায়নার চায়নাদেরকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন। আগামী ৩১ মে তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল, শিলাপাথর ও যন্ত্রপাতি আনার ডেডলাইন বেধেঁ দেন তিনি।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, যমুনার পশ্চিম পাড়ে বিগত বছরে ক্ষতিগ্রস্ত পাউবোর ৪টি ক্রসবার বাধঁ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘চায়না-হারবার’কে দিয়ে গত বছর থেকে সংস্কার করা হচ্ছে। সদর উপজেলার পাইকপাড়া, চর-মালশাপাড়া, রানীগ্রাম ও খোকশাবাড়িতে যমুনার ক্যাপিটাল ড্রেজিং কাজের বালি দিয়ে এগুলো গত ৪ বছর আগে নির্মান করা হয়। প্রায় দেড় থেকে পৌনে ২ কিঃমিঃ দৈর্ঘের প্রতিটি বালির বাঁধ নির্মানের পর পরই অগ্রভাগ বার বার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। ক্রসবার বাঁধগুলো সংস্কারে ভাটিতে ও উজানে প্রায় ২৫বর্গ কিঃমিঃ আয়তনের ভূ-খন্ড জেগে উঠবে এমন পরিকল্পনায় প্রায় আড়াই’শ কোটি টাকা ব্যায়ে পাউবো চায়নাদের নিয়োগ করে। চায়নারা বাধঁগুলোর সংস্কার কাজ গত অর্থ বছরের জুন মাসে শুরু করে।

এদিকে, সদর উপজেলার চর-মালাশাপাড়া ও পাইকপাড়ার ক্রসবার বাঁধ দু’টি বেশী মাত্রায় ভাঙ্গন কবলিত ও ঝুঁকিপূর্ন হওয়ায় এগুলোর সংস্কার আগে শুরু করা হয়। কিন্তু শুরু থেকেই বাঁধ সংস্কারের মূল কাজের অংশ হিসেবে বাঁধ এলাকায় বালি ও শিলা পাথর সংগ্রহ করার কাজে চায়নারা শুরু থেকেই গড়িমশি করে। প্রয়োজনীয়, দক্ষ জনবল ও বার্জ সংগ্রহ করে বাঁধের তলদেশে পাথর ফেলার কাজেও গড়িমশি দেখা যায়। বাঁধের দু’পাশে ব্লক বিছানোর কাজেও নির্মানের খোয়া ব্যাবহারের অভিযোগ উঠে চায়নাদের বিরুদ্ধে।

পাউবোর স্থানীয় সেকশন অফিসার মোঃ রফিকুল আজিজ জানান, নির্মানের খোয়া সাইটে আনার বিষয়ে বার বার সতর্ক করার পর চায়নারা বর্তমানে একটু সাবধান হয়েছে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী রনজিত কুমার সাহা জানান, শুরু থেকে এরা নানা তাল-বাহানা শুরু করে। মোটেই কথা শুনতে চায়নারা।

এসব বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী লিঃ-এর কমারশিয়াল ম্যানেজার জিয়ান ওয়েজি রোববার সমকালকে বলেন, চলতি বছরের শুরুতে আমরা যখন শিলাপাথর আনা শুরু করি তখন স্থানীয় লোকজনের চাঁদাবাজির পাশাপাশি দেশব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে প্রকল্পে কিছুটা বিলম্ব হয়। বিষয়টি আমরা পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। পাথর ও খোয়ার জন্যও আমরা স্থানীয় লোকজনের ওপর নির্ভরশীল। তারপরেও বিষয়টি জন্য আরো সতর্কতা নেয়া হচ্ছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম ২৬ এপ্রিল সকালে এ প্রতিনিধির সামনেই চায়নার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাইট ম্যানেজার জিয়ানকে শতর্ক করেন। তিনি আরো বলেন, গত এক মাসে কমপক্ষে তার অফিস থেকে ৫টি এবং প্রকল্প পরিচালকও আলাদাভাবে ৬টি সতর্ক পত্র দিয়েছেন। তারপরেও চায়নাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। মহাপরিচালক মহাদ্বয় ২৫এপ্রিল এসে তাদেরকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে গেছেন। চাঁদাবাজির বিষয়টি চায়নারা একে অপরকে বললেও আমাদের কখনই লিখিতভাবে জানায়নি।






মন্তব্য চালু নেই