মেইন ম্যেনু

পরাজয়ের ‘ময়নাতদন্তে’ নামছে বিএনপি

কী হয়েছে নারায়ণগঞ্জে, কোথায় তাদের ভুল, কোথায় সরকারের চালাকি- এমন সব ভাবনা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। তাদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। তারা রীতিমতো বিস্মিত ও হতবাক। গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের দৃষ্টিতে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ায় এ নিয়ে সরাসরি অভিযোগও করতে পারছে না দলটি। কারণ ভোটগ্রহণের শেষ পর্যন্ত দলের কেন্দ্র থেকে নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগও করা হয়নি।

বিএনপির দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জে বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের দায়িত্ব দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। খুব শিগগিরই একটি প্রতিনিধিদল নারায়ণগঞ্জে যাবে। সেখানে সিটি নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তারা দলের চেয়ারপারসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন।

এ প্রসঙ্গে নাসিক নির্বাচনের সমন্বয় কমিটির প্রধান আহ্বায়ক ও দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নির্বাচন শেষ হলেও এ নিয়ে দলের পক্ষ থেকে এখনো অনেক কাজ বাকি। কারণ এমন ফলাফল কেন কীভাবে হলো তা অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে। আমরা সেই চেষ্টা করছি। কোনো রেজাল্ট হলে আপনারা জানতে পারবেন।

এদিকে বর্তমানে বিএনপির যেটা মূল চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা হলো শেষ পর্যন্ত আগামী জাতীয় নির্বাচন একইভাবে অনুষ্ঠিত হলে, একই ধরনের ফলাফল হবে। তাই নাসিক নির্বাচনে কেন কীভাবে এমন ফলাফল হলো, তার কারণ খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন দলের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান বলেন, নাসিকে শান্তিপূর্ণ ভোটের আড়ালে সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে। এই প্র্যাকটিস চলতে থাকলে তা শুধু বিএনপি নয়, গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি খুঁজে বের করতে না পারলে সামনের নির্বাচনগুলোতে পরিণতি আরো বিপর্যয়ের দিকে যাবে, যা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে না।

আহমদ আজম খান বলেন, আমরা আশাবাদী দলীয় তদন্ত শেষে অবশ্যই বেরিয়ে আসবে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে আসলে কী ঘটনা ঘটেছে। কারণ ভোটের দিন বেলা ৩টা পর্যন্ত ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর বাকি এক ঘণ্টায় অর্থাৎ বেলা ৪টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৩৫ শতাংশ। এটা অবশ্যই চিন্তার বিষয়। কেননা বিকেলে সেদিন ভোটারদের উপস্থিতি অনেক কম ছিল। তিনি বলেন, ভোট পড়ার এই ব্যবধান শুধু বিএনপি নয়, পর্যবেক্ষদেরও উদ্বিগ্ন করেছে।

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না- এমন বক্তব্য গত কয়েক বছর ধরে বারবার দিয়ে আসছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। অতঃপর গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জের ভোটকে দিনভর সুষ্ঠু বলেছিলেন দলের নেতারা। কিন্তু গণনার পর দেখা গেল তাদের প্রার্থী হেরেছেন ৮০ হাজার ভোটে। এ নিয়ে দলের নেতারা আসলে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। খোদ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জে কী হয়েছে, সেটা তারা বুঝতে পারছেন না। আর দলের মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন ‘বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি’।

নাসিকে কাজে আসেনি প্রচার-প্রচারণা: তফসিল ঘোষণার পরপরই নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ করতে কেন্দ্রীয় টিম করে বিএনপি। এছাড়া ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হয় তিনটি টিম। সিদ্ধান্ত হয় প্রচারের সুযোগ থাকা পর্যন্ত এসব টিমের নেতারা প্রতিনিয়ত দলীয় মেয়র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাবেন। সে অনুযায়ী বিএনপি ও জোটের শীর্ষ নেতারা নারায়ণগঞ্জের আনাচে-কানাচে চষে বেড়িয়েছেন।

তবে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাখাওয়াত হোসেন খানের পক্ষে গণসংযোগে অংশ নিতে যাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নানা কারণ দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ যাননি খালেদা জিয়া।

এদিকে প্রচার-প্রচারণা চালানোর সময় বিএনপি নেতাদের দাবি ছিল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে সাখাওয়াত জয়ী হবেন। কেন্দ্র থেকে দাবি করা হয়েছিল, লক্ষাধিক ভোটে বিজয়ী হবেন ধানের শীষের প্রার্থী। অবশেষে নাসিক নির্বাচনের ফলাফল হয়েছে পুরো উল্টোটা।

অন্যদিকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অনেকে মনে করছেন, বাহ্যিকভাবে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা থাকলেও তা কাজে এসেছে কম। কারণ কোনো কিছুই গোছানো ছিল না। কারো কারো দাবি, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই দলীয় মেয়র প্রার্থীর চেয়ে নিজেদের প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন বেশি। ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেয়ে রাস্তায় ঘুরে টিভির পর্দায় নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন তারা। যে কারণে ধানের শীষের সমর্থন থাকলেও ভোটে তার প্রতিফলন ঘটেনি।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোট। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৪ ভোট। এই নির্বাচনে প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে আইভীর কাছে পরাজিত হন সাখাওয়াত।






মন্তব্য চালু নেই