মেইন ম্যেনু

পদ নয়, দায়িত্ব চান দূত এরশাদ

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত করা হয়েছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। তবে দূত হিসেবে অফিস ও জনবল পেলেও ছয় মাসেও কোনো দায়িত্ব পাননি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। সরকারের আচরণে ক্ষুব্ধ হলেও দূত হিসেবে নিজের দায়িত্ব চান এরশাদ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সফর করে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য আগ্রহী তিনি।

অবশ্য এরশাদ সাবেক রাষ্ট্রপতি হয়েও মন্ত্রী পদমর্যাদার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত পদ পাওয়ায় সন্তুষ্ট নয় জাতীয় পার্টির নেতারা। একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান ছিলেন রাষ্ট্রপতি। তার জন্য মন্ত্রী পদমর্যাদার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত পদ বেশিকিছু নয়। আবার তাকে পদ দেয়া হলেও সেই পদের দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তবে আমাদের চেয়ারম্যান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে জনশক্তি রপ্তানিসহ দু’দেশের সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চান।

দূত হিসেবে এরশাদ মধ্যপ্রাচ্যে সফরের সুযোগ পেলে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হাবিবুর রহমানও। তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তার (এরশাদ) সুসম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি জনশক্তি ও পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বেশকিছু প্রস্তাবও দিয়েছেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে মধ্যপ্রাচ্যের ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে হারানো বাজার ফিরিয়ে আনতেও কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।’

অন্যতম প্রধান দল বিএনপিকে ছাড়াই আওয়ামী লীগের কথামতো ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয় জাতীয় পার্টি। স্বীকৃতি স্বরূপ রওশন হন বিরোধী দলীয় নেতা, আর এরশাদকে করা হয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। সরকার দূত হিসেবে এরশাদকে জাতীয় সংসদে কার্যালয়ও দিয়েছে। তার জন্য রয়েছে নিরাপত্তা প্রটোকল, গাড়ি, সম্মানী ভাতা। যদিও এরশাদ সরকারি বাড়ি ব্যবহার করছেন না। সংসদে তার কার্যালয়ে রয়েছে একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব এবং দু’জন অফিস সহকারী। শুধু নেই দূত হিসবে কোনো কাজ!

এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব পেয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চান স্যার (এরশাদ)। তিনি শ্রমবাজার নিয়ে বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে অতীতের সম্পর্ক কাজ লাগাতে চান। ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও জনশক্তি বিষয়ে সঙ্কটের সমাধান করতে চান। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে তাকে দূতের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি।’

জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে, এরশাদকে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দেশেই সফরে যেতে বলা হয়নি। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান ও চীন সফর করেছেন। একাধিক মন্ত্রী, এমপি ও প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় সফরে গেছেন। কিন্তু এরশাদ বারবার সুযোগ চেয়েও যেতে পারেননি বিদেশের কোনো অনুষ্ঠানে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে নিজের পদের কী কাজ এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না পেয়ে এরশাদ খুবই ক্ষুব্ধ।

জানা গেছে, মার্চে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলেন এরশাদ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য সফরের কথা জানান। এদিকে এপ্রিলেই সৌদি আরব, কুয়েত এবং চীন সফরের জন্য সরকারের কাছে আবেদনও করেছেন। কিন্তু এরপরও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগই নেয়া হয়নি।

এছাড়া শ্রমবাজারে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে তিনি আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপানসহ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার ধনী রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি করবেন বলেও প্রচেষ্টা চালান। বিশেষ করে যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও ম্যানপাওয়ার বিষয়ে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে বা সম্পর্কের ঘাটতি রয়েছে সেসব দেশের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে সম্পর্কোন্নয়ন ঘটাতে চেয়েছেন। কিন্তু এরশাদ যেসব দেশে সফরে যেতে আবেদন করেছেন সেসব কোনো দেশ থেকে এখনো তার বিদেশ যাওয়ার আমন্ত্রণ আসেনি। আর অপর দেশগুলোর ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচএম এরশাদের বরাত দিয়ে প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায় বলেন, ‘এরশাদ কয়েক দেশের ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। তিনি ভিসা পেলেই কার্যক্রম শুরু করবেন। তিনি নিজেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।’






মন্তব্য চালু নেই