মেইন ম্যেনু

নৌকায় চড়ে ৯৫০০ কিমি সমুদ্র ভ্রমণে নারী (ভিডিও)

ছোট্ট নৌকা। সামান্য বাতাস কিংবা ঝড় হলে এটি ডুবে যাওয়ার দশা। কিন্তু এটুকু নৌকা দিয়ে সুবিশাল সাগর পাড়ি দেওয়াটা চাট্টিখানি কথা! আর একা কোনো নারীকে এমন দুঃসাহসী অভিযানে দেখলে অনেকের চোখ তো চরকগাছে উঠার দশা। বাস্তবে এমনই এ কাজ করছেন অস্ট্রেলীয় নারী স্যান্ডি রবসন।

‘কায়ক’ (প্লাস্টিকের তৈরি) নৌকায় চড়ে সমুদ্রপথে প্রায় সাড়ে নয় হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন ৪৬ বছর বয়সী স্যান্ডি। লক্ষ্য, জার্মানি থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত সমুদ্রপথ অতিক্রম করা। মংলা সমুদ্রবন্দরসংলগ্ন কোস্টগার্ডের নৌঘাট থেকে গতকাল শনিবার সকালে রওনা হয়েছেন চট্টগ্রামের দিকে। বঙ্গোপসাগরের সীমানা ধরে যাবেন সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট, দুবলারচর ও কটকা হয়ে কুয়াকাটা, সোনার চর, নিঝুম দ্বীপ ও চট্টগ্রাম। সবশেষে পৌঁছাবেন কক্সবাজারে। বাংলাদেশের জলসীমা ও কাছাকাছি লোকালয়ে থাকবেন ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

‘কায়ক’ নামে পরিচিত নৌকাটি লম্বায় পাঁচ থেকে ছয় মিটার। চওড়া মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ সেন্টিমিটার। এতে একজনের বেশি চড়া যায় না। জার্মান নাগরিক অস্কার স্পেক ১৯৩২ সালে এরকম একটি কায়কে চড়ে জার্মানি থেকে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। গন্তব্যে পৌঁছাতে তার লেগেছিল সাত বছর। স্পেকের ওই অভিযানের অনুপ্রেরণায় স্যান্ডিও একই পথে যাত্রা শুরু করেন ২০১১ সালের ১৪ মে। প্রথম দফায় ১৩৭ দিনের সফরে তিনি পাড়ি দিয়েছেন চার হাজার ২২৪ কিলোমিটার। জার্মানি, অস্ট্রিয়া, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, সাবিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরে তিনি পৌঁছান সাইপ্রাসে।

স্যান্ডি ২০১২ সালের ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফা অভিযান শুরু করে ভারতের সমুদ্রপথে ১০৯ দিনে পাড়ি দেন দুই হাজার ২৬০ কিলোমিটার। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, গোয়া, তামিলনাড়–সহ কয়েকটি রাজ্যের সমদ্রপথ তিনি অতিক্রম করেন। তৃতীয় দফায় শ্রীলঙ্কা উপকূল থেকে চলতি বছরের ২৩ মার্চ যাত্রা শুরু করে শেষ করেন ২৯ আগস্ট। এবারে তিনি পাড়ি দেন তিন হাজার ১৯৬ কিলোমিটার সমদ্রপথ।

চতুর্থ দফায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে শুরু করে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া হয়ে আট হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সিঙ্গাপুর পৌঁছানোর পরিকল্পনা স্যান্ডির। সব মিলিয়ে ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়া ফিরে যাওয়া পর্যন্ত পাঁচ বছরে তিনি মোট ২৩ হাজার কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

মংলা বন্দরের পারিজাত রেস্টহাউসে গত শুক্রবার বিকেলে কথা হয় স্যান্ডির সঙ্গে। বললেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি কায়ক চালান। ছোটবেলা থেকেই সমুদ্র তাকে কাছে টানত। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা তার হয়েছে। তার নৌকাটি প্যাডেল ও বইঠায় চলে। এতে আছে ছোট্ট একটি রাডার, গিয়ার প্রযুক্তি এবং আধুনিক একটি পাল। যাত্রাপথে সঙ্গে রাখেন শুকনো খাবার, তাঁবু, মেডিকেল কিট, ঘুমানোর বিছানাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। সমুদ্র উপকূলে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী তাকে সহায়তা করছে।

আবহাওয়ার গতিবিধি জেনে নিয়েই তিনি সমুদ্রে নামেন। তবে তার এ সমুদ্র ভ্রমণ যে সব সময় সুখের ও নিরাপদভাবে হয়েছে এমনটা নয়। অস্ট্রেলিয়ায় একবার কুমিরের কবলে পড়েছিলেন। মাঝে মাঝে হাঙরের মুখোমুখি হলেও এখনো কোনো ক্ষতির শিকার হননি তিনি। বুদ্ধিমত্তা আর সাহস বিপদে তার সহায়। নারী হয়ে কেন এই দুঃসাহসী যাত্রা শুরু করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘পরুষ পারলে নারী কেন পারবে না? আমি সবার জন্য একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই।’
অবিবাহিত স্যান্ডি পেশায় স্কুলশিক্ষক। পাশাপাশি কায়ক চালনার প্রশিক্ষণেও যুক্ত আছেন। এই সমুদ্রযাত্রার খরচ তিনি নিজের স্বল্প আয়ে চালাতে পারেন না।প্রযোজন হয় পৃষ্ঠপোষকের। যে দেশে যান সেখানে চেষ্টা করেন পৃষ্ঠপোষক নেওয়ার। না পেলে যাত্রা বন্ধ করে ফিরে যান অস্ট্রেলিয়ায়। শিক্ষকতাসহ অন্যান্য কাজ করে অর্থ জোগাড় হলে আবার বেরিয়ে পড়েন সমুদ্রে। বাংলাদেশে তাকে সাহায্য করছে গাইড ট্যুরস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান

বিশ্বকে একেবারে কাছ থেকে দেখতে মানুষ SQকত যে দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিতে পারেন, একজন নারী হয়ে সেটাই দেখিয়ে দিলেন স্যান্ডি।`






মন্তব্য চালু নেই