মেইন ম্যেনু

নোকিয়ার বয়স মাত্র ১৫০ !

১৮৬৫ সালের ১২ মে কাগজকল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যবসা শুরু হয়েছিল মোবাইল মোগল নকিয়ার। ১৫০ বছর ধরে পথ চলতে নকিয়াকে অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। ছিল ব্যবসায়িক উত্থান-পতন।

নকিয়ার যাত্রা এখন থেকে ১৫০ বছর আগে! তথ্যটা অনেকের কপালেই ভাঁজ ফেলার মতো। কারণ ১৫০ বছর আগে মোবাইল ফোন কেন, ল্যান্ডফোনেরই তো সূচনা হয়নি! তাহলে? আসল ঘটনা হচ্ছে, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার ‘মোগল’ ব্যবসায়ী নকিয়ার শুরু হ্যান্ডসেট নয়, কাগজ তৈরির কারখানার মাধ্যমে। ফিনল্যান্ডের ‘নকিয়া এনভারতা’ নদীর পারে গড়ে উঠেছিল কারখানাটি, সেই ১৮৬৫ সালে।

পেছনের গল্পটা এ রকম- ২৭ বছর বয়সী ফিনিস (ফিনল্যান্ডের অধিবাসী) তরুণ ফ্রেডরিক আইডেসটাম খনি প্রকৌশল বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়েছিলেন জার্মানিতে। পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার পথে পরিদর্শনে যান এক কাগজ তৈরির কারখানায়। সেখানকার কাগজ তৈরির নতুন এক পদ্ধতি তাঁকে কৌতূহলী করে তোলে। দেশে ফিরে ১৮৬৫ সালের ১২ মে চালু করেন কাগজ তৈরির কারখানা ‘নকিয়া এবি’। ব্যবসায়িকভাবে সফল হন তিনি। এখানকার তৈরি কাগজ দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হতো রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে। এরপর শুধুই এগিয়ে যাওয়ার গল্প। কাগজের পর রাবার, আরো পরে যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবসায় নামে নকিয়া।

আধুনিক নকিয়া

নকিয়ার আজকের অবস্থানে আসার মূল গল্প শুরু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। তখন নকিয়া ‘ফিনিশ কেব্ল্’ কেনার মধ্য দিয়ে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করে। ষাটের দশকে গ্রুপটির প্রধান ব্যবসা হয়ে যায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরি। নব্বইয়ের দশকে তৈরি করে নকিয়া ফোনসেট, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নকিয়ার বর্তমান সিইও রাজীব সুরি বলেন, ‘পথ চলতে নকিয়াকে অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কাগজ তৈরি করা থেকে শুরু করে রাবারের জুতা, টিভি, মোবাইল ফোনসেট অনেক কিছুই আমরা বানিয়েছি। এখন বানাচ্ছি সফটওয়্যার। আর নকিয়া নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছে দিতেও আছি আমরা।’

এখন যেমন

নকিয়ার প্রধান কার্যালয় ফিনল্যান্ডের এসপোতে। ডিসেম্বর, ২০১৪ পর্যন্ত বিশ্বের ১২০ দেশে নকিয়ার কর্মীর সংখ্যা ছিল ৬১ হাজার ৬৫৬ জন। আর বিপণন চলছে ১৫০টি দেশ। ২০১৪ সালে নকিয়ার মোট আয় ছিল ১২ দশমিক ৭৩ বিলিয়ান ইউরো। আয়ের ভিত্তিতে ২০১৩ সালে সবচেয়ে বেশি আয়ের ৫০০টি কম্পানির মধ্যে নকিয়ার অবস্থান ছিল ২৭৪তম।

বর্তমানে নকিয়া বৃহৎ পরিসরে টেলিযোগাযোগ শিল্পে কাঠামোগত উন্নয়নের কাজে হাত দিয়েছে। অনলাইনে মানচিত্র দেখার সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছে নকিয়া। জিএসএম ও এলটিই প্রযুক্তি চালু করার পরবর্তী সময়গুলোতে তারাই ছিল পুরো বিশ্বের মধ্যে শীর্ষস্থানে থাকা মোবাইল ফোনসেট প্রস্তুত করা কম্পানি।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই