মেইন ম্যেনু

বিশ্বকাপের প্রথম হলুদ কার্ড নেইমারের

নেইমার ঝলকে ব্রাজিলের শুভ সূচনা

উদ্বোধনী ম্যাচেই প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে শুভ সূচনা করলো স্বাগতিক ব্রাজিল। ম্যাচ শুরুর ১১মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে ১ম গোলটি আসে। যদিও সেটা ব্রাজিলের মার্সেলোর আত্মঘাতি গোল। এরপর ২৭মিনিটে সমতা ফিরিয়ে ৭১মিনিটে নিজের ২য় গোলটি করেন নেইমার। পরে ৯০মিনিটের মাথায় ৩য় গোলটি করে জয় নিশ্চিত করে কোটি ভক্তের ব্রাজিল।
কিকঅফের ১১ মিনিটেই স্তব্ধ হয়ে যায় সাও পাওলো স্টেডিয়াম। অ্যারেনা কারিন্থিয়াসকে শ্মশান বানিয়ে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। তাও আবার ব্রাজিলের ডিফেন্ডার মার্সেলোর আত্মঘাতী গোলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো অঘটন ঘটেনি। ‘ওয়ান্ডার কিড’ নেইমারের স্বর্ণালি পা জোড়ায় দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। জোড়া গোল করেন বার্সা মহাতারকা। তাতে ৩-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় সেলেসাওরা।

ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়া ২০১৪ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ছিল নেইমার। স্বাগতিক দেশটির চায়ের দোকান থেকে শুরু করে কফিশপ, রাস্তার হোডিং থেকে শুরু করে ড্রয়িং রুম সবখানে রাজত্ব গাঢ়ে বার্সা সেনসেশন। তাছাড়া বিশ্বজোড়া ব্রাজিলিয়ান ভক্তদের প্রত্যাশার চাপও ছিল এই ২২ বছর বয়সী ফুটবলারের কাধেই। তাই মনের কোনো এক কুক্ষণে চোরগোপ্তাভাবে একটা প্রশ্ন উদয় হচ্ছিলো। কী সেটা? প্রশ্নটা হলো নেইমার এই প্রত্যাশার চাপ সামলে নিতে পারবেন তো? এই শঙ্কাটাকে বড় হতে দেয়নি ব্রাজিলের স্বপ্নসারথি। কারণ, দেশের ত্রাতা হয়ে দু দুবার জ্বলে ওঠেন সাবেক সান্তোস ফুটবলার। দারুণ ফিনিশিংয়ে দলকে জয় উপহার দেন। আর প্রমাণ করেন তিনি কাগুজে বাঘ নন।

সাও পাওলো স্টেডিয়ামে দর্শকরা তখনো ভালোভাবে স্টেডিয়ামেই বসতে পারেনি। কারণ ম্যাচের আয়ু তখন মাত্র ১১ মিনিট। অথচ সেই সময়েই ব্রাজিলের জালে বল জড়িয়ে দেয় ক্রোয়েশিয়া। বক্সের বাম প্রান্ত থেকে ইভিকা ওলিচ নির্বিষ এক ক্রস নেন। উদ্দেশ্য জেলাভিচ। কিন্তু ক্রোট ফরোয়ার্ড বল আয়ত্তে নেয়ার পূর্বেই ভয়ংকর ভুল করে ফেলেন মার্সেলো। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন তিনি। এর মাধ্যমে একটি রেকর্ড গড়েন রিয়াল ফরোয়ার্ড। প্রথম ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেব বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের নজির।

অবশ্য দিনশেষে এই ভুলটা খুব বড় হয়ে দেখা দেয়নি। প্রথমার্ধের ২৭ মিনিটেই সমতায় ফেরে ব্রাজিল। মাঝমাঠ থেকে অস্কারের বাড়ানো বলে ২৫ গজ দূর থেকে প্লেসিং শটে লক্ষ্যভেদ করেন বার্সা ফরোয়ার্ড নেইমার। এরপর প্রধমার্ধেই প্রতিপক্ষের ওপর আরো চড়াও হয় সেলেসাওরা। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণ দূর্গে গিয়ে তা বারবার প্রতিহত হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত প্রথম ৪৫ মিনিট ১-১ সমতার বিন্দুতেই থাকে দু দল। অবশ্য বিরতি থেকে ফিরে ভাগ্য আর প্রবঞ্চনা করতে পারেনি স্বাগতিকদের সাথে। তাই ম্যাচের ৭১ মিনিটে ফ্রেডের হাত ধরে পেনাল্টি পায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তা থেকে গোল আদায় করতে ভুল করেননি ‘ওয়ান্ডার কিট’ নেইমার। শেষে ক্রোয়েশিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেন অস্কার। সেটা খেলার ৯০ মিনিটের ঘটনা। ফলে প্রত্যাশিত জয় পায় ব্রাজিল। শুরু হয় হেক্সার উদ্দেশ্যে স্বপ্ন অভিযাত্রা।

## বিশ্বকাপের প্রথম হলুদ কার্ড নেইমারের
২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের প্রথম হলুদ কার্ড নেইমারের। খেলার ২৭ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার লুকা মডরিচকে খোঁচা মেরে হলুদ কার্ড দেখেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।






মন্তব্য চালু নেই