মেইন ম্যেনু

নীতিনির্ধারকদের শাসালেন খালেদা জিয়া

দলের আন্দোলন কর্মসূচিতে অসম্পৃক্ততা, নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে পর্যাপ্ত পরামর্শ ও সহায়তা না দেয়া ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্যদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রে একথা জানা গেছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের স্থায়ী কমিটির ভূমিকায় আন্দোলন কর্মসূচি ও তাদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা, নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে তাদের পর্যাপ্ত পরামর্শ ও সহায়তা না দেয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন খালেদা জিয়া। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পদ এবং দায়িত্ব অনুযায়ী যথাযথ ভূমিকা পালনে গাফিলতি ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে নেতাদের সতর্ক করেন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের পর আন্দোলন কর্মসূচি থেকে সরে আসা একটি ভুল ছিল। কিন্তু আপনারা কেউ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেননি। সারা দেশের মানুষ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা সবাই প্রস্তুত। আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের নেতৃত্ব দিতে পারছেন না। আন্দোলন কর্মসূচি দিলে আপনারা কেউ মাঠে নামছেন না। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেননি। বিদেশিরা বলছে, দল হিসেবে সুনির্দিষ্ট ইস্যুতে বিএনপি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৮ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে দেয়নি সরকার। এতবড় একটি ঘটনার পর আপনারা প্রতিবাদ করেননি। কীভাবে আন্দোলনকে জোরালো করা যায় আপনাদের সুনির্দিষ্ট কোনো ভূমিকা নেই। নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য হিসেবে আপনাদের ভূমিকা হতাশাজনক। আপনাদের এই নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে সারা দেশের নেতাকর্মীরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘সারা দেশে আপনারা শীর্ষ নেতারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত। ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মহানগর কমিটির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। ঢাকা মহানগর কমিটি অগোছালোর কারণে আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
এসময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস এর ব্যাখ্যা দিতে চাইলে খালেদা জিয়া ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন। এবং এ বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন।
সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সরকার একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের আইনি জটিলতায় জড়িয়ে ফেলছে। সর্বশেষ সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিলেট সিটি মেয়রসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকে জড়িয়েছে। এরকম স্পর্শকাতর কিছু মামলায় বিএনপির অনেক নেতাকে জড়িয়েছে। আমার বিরুদ্ধেও মিথ্যা দুর্নীতির মামলার বিচার শুরু হয়েছে। কিন্তু আপনারা কেউ এর সোচ্চার প্রতিবাদ করতে পারেননি।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন সরকার এত বড় বড় দুর্নীতি করছে সেগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিতও হচ্ছে। কিন্তু আপনারা এসব বিষয়ে তথ্যপ্রমাণসহ প্রতিবাদ করতে পারছেন না। দলীয় ফোরামে পর্যালোচনা এবং প্রমাণ জোগাড় করে সহযোগিতা করছেন না।’
পুরো বৈঠকে খালেদা জিয়া ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন।
সূত্র জানায়, আন্দোলন ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মসূচির কথা আলোচনায় আসেনি।
এসময় কয়েকজন সদস্য ঢাকায় মহাসমাবেশের পরামর্শ দিলে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এখনো ঢাকা মহানগর অগোছালো। আগে আপনারা ঢাকা মহানগর কেন্দ্রিক গণসংযোগ বাড়ান।’
তিনি ঢাকা মহানগরে আন্দোলনের পক্ষে জনমত গঠনে জনসংযোগের ওপর জোর দেন।
এসময় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আগামীতে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিগত আন্দোলনে আপনাদের সামর্থ অনুযায়ী ভূমিকা রাখতে পারেননি। আগামী দিনে আপনারা নামেন আর না নামেন দেশবাসীকে নিয়ে আমি রাজপথে নামবো।’






মন্তব্য চালু নেই