মেইন ম্যেনু

নিউইয়র্কে নিহত বাংলাদেশি জাকির খানের মরদেহ ঢাকার পথে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাড়ির মালিকের ছুরিকাঘাতে নিহত বাংলাদেশি আবাসন ব্যবসায়ী জাকির খানের মরদেহ ঢাকার পথে। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার রাত ১১টায় এমিরেটসের নিয়মিত ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের সঙ্গে রয়েছেন জাকির খানের ভাই নিয়াজ খান। এর আগে জুমার নামাজের পর ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জাকির খানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঢল নামে।

জানাজা শেষে বিকেলেই জেএফকে বিমান বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় জাকির খানের মরদেহ। বিকেল পাঁচটার দিকে বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রাত ১১টার ফ্লাইটের পাঠানো হয় মরদেহ। বিমানবন্দরে জাকির খানের পরিবারের সদস্য ছাড়াও বন্ধুবান্ধব, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সময় আগামীকাল রোববার সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির অতি পরিচিত মুখ এবং কমিউনিটির বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী জাকির খানকে।

কফিনে মোড়ানো মরদেহ বিমানে করে দেশে পাঠানোর আগে জাকির খানকে শেষবিদায় জানাতে গিয়ে দুই যুগের প্রবাসজীবনের অনেক পরিচিতজন ও বন্ধুর চোখ অশ্রুসিক্ত হয়। কমিউনিটিতে নেমে আসে শোকের ছায়া।

জাকির খানের জানাজায় বাংলাদেশিদের ঢল:
স্থানীয় সময় গতকাল জুমার নামাজের পর ব্রঙ্কসে পার্কচেস্টার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জাকির খানের জানাজার আয়োজন করা হয়। জানাজায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঢল নামে। জাকির খানের জানাজার জমায়েতকে স্মরণকালের বৃহত্তম হিসেবে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জানাজার পর নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর ররেবদিয়াজ এবং অ্যাসেম্বলিম্যান লুইস সেপুলভেদা জাকির খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, এ মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।

তাঁরা বলেন, জাকির খানের মতো একজন উদীয়মান ব্যবসায়ী এবং কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট হারিয়ে তাঁরা সত্যিই দুঃখভারাক্রান্ত, ব্যথিত।

নিউইয়র্কের বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান বলেন, ‘জাকির খানের মৃত্যু সত্যিই মেনে নেওয়ার মতো নয়। আমরা খুনির শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে যাব।’

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে জাকির খানের মরদেহ পার্কচেস্টার জামে মসজিদে রাখা হয়। জুমার নামাজের পর অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন পার্কচেস্টার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মাঈনুল ইসলাম। জানাজায় কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিক, কমিউনিটির অ্যাকটিভিস্ট মোহাম্মদ এন মজুমদার, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট আতাউর রহমান সেলিম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ বশারত আলী, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আযাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ ও আবদুর রহিম বাদশা, বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদ, আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন আজমল, মামুন টিউটোরিয়ালের কর্ণধার শেখ আল মামুন প্রমুখ।

জানাজায় অংশ নেওয়া কমিউনিটি নেতারা জাকির খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, জাকির খান ছিলেন ব্রঙ্কসের বাংলাদেশি আবাসন ব্যবসার ‘কিং’। তিনি ছিলেন বাংলাদেশিদের বন্ধু। কমিউনিটির সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অন্যতম সহায়তাকারী। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য বড় ধরনের ক্ষতি।

জানাজায় অংশ নেওয়া সাংবাদিক সাখাওয়াত সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ব্রঙ্কসে বসবাস করে আসছি। জাকির খানের জানাজায় যে জমায়েত হয়েছে, তা স্মরণকালের বৃহত্তম জমায়েত।’

প্রসঙ্গত, স্থানীয় সময় গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বাংলাদেশি-অধ্যুষিত ব্রঙ্কসে বাড়ির মালিকের ছুরিকাঘাতে খুন হন বাংলাদেশি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জাকির খান (৪৪)। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে জাকির তাঁর ভাড়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় তাঁকে ছুরিকাঘাত করেন বাড়ির মালিক। জাকির মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বাড়ির মালিক নিজেই চিৎকার করে পুলিশে খবর দিতে বলেন। জাকিরকে উদ্ধার করে কাছের জ্যাকবি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। জাকির খানের বাড়ির মালিক মিসরীয় বংশোদ্ভূত তাহার মাহরানকে (৫১) পুলিশ বুধবার রাতেই গ্রেপ্তার করে। তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, বাড়ির মালিকের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে অনেক দিন ধরে জাকির খানের বিরোধ চলছিল। বিষয়টি পুলিশ এবং আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

নিহত জাকির খানের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর স্ত্রী সংগীতশিল্পী ন্যান্সী খানসহ সন্তানেরা ব্রঙ্কসে বসবাস করছেন।

ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর ১৯৯২ সালে জাকির খান অভিবাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বসবাস শুরু করেন।






মন্তব্য চালু নেই