মেইন ম্যেনু

ধূমকেতুর বুকে মনুষ্য যান !

পৃথিবী থেকে প্রায় ৫০ কোটি কিলোমিটার দূরে দ্রুত ধাবমান এক ধূমকেতুর বুকে মানুষের তৈরি যান প্রথমবারের মতো সফলভাবে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। ইউরোপীয় ল্যান্ডার ফিলি নামের যানটি ৪০০ কোটি মাইল পথ পাড়ি দিয়ে বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৫ মিনিটে ৬৭পি/চুরিয়মোভ-গেরাসিমেনকো নামের ধূমকেতুর বুকে অবতরণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করে।

অবতরণের সংকেত নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দের বন্যা বয়ে যায় জার্মানির ডার্মস্টাডে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির মিশন কন্ট্রোলরুমে। সৌরজগৎ সৃষ্টির সময়ের নানা তথ্যসহ নানা রহস্য উদঘাটনের আশা নিয়েই এ অভিযান চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধূমকেতু থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার পর সেখান থেকে এটি তুলে নেওয়া হতে পারে। ল্যান্ডার প্রজেক্টের ম্যানেজার স্টিফেন উলমেক বলেন, ‘একবার নয়, এটি সেখানে দুবার অবতরণ করে। এটি একটি বিশাল সফলতা।’

মানবসভ্যতার জন্য ধূমকেতুতে ফিলারে অবতরণকে বড় ধরনের পদক্ষেপ বলেই বর্ণনা করেছেন ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) মহাপরিচালক জেন-জ্যাকিউস ডরডাইন। তিনি এটাকে সবচেয়ে বড় সফলতার একটি বলে বর্ণনা দিয়েছেন। ওই দিনটি তাদের কাছে স্মরণীয় বলেও অভিহিত করেন তিনি।

ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর আগে ল্যান্ডারটিকে সৌরজগতে ১০ বছর পরিভ্রমণ করতে হয়েছে। ধূমকেতুটির বয়স অন্তত ৪০০ কোটি বছর এবং অবতরণযানটি যেখানে নেমেছে, সেই জায়গাটি বরফ আর ধুলার আস্তরণে ঢাকা।

চলতি বছর আগস্টে চুরিয়মোভের কাছে পৌঁছায় মহাকাশযান রোজেটা। আর রোজেটা থেকে পৃথক হয়ে চুরিয়মোভে নামে তারই যান ফিলা।

তবে রোজেটা থেকে আলাদা হয়ে ধূমকেতুতে নামার কাজটি খুব সহজ ছিল না ফিলার জন্য। পৃথিবী থেকে ধূমকেতুর দূরত্বের কারণে সংকেত পৌঁছানো ছিল দুরূহ। তা ছাড়া, দ্রুতগতিতে ছুটে চলা ধূমকেতুটিকে ছোঁয়াও ছিল কঠিন ব্যাপার। ফলে অনেকটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ছিলেন বিজ্ঞানীরা।
ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির রোসেটা মিশনের একজন বিজ্ঞানী ড. মেরিনা গারল্যান্ড বলছিলেন, ‘এটা একটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া। আমরা জানি না যে ধূমকেতুর উপরিভাগ ঠিক কী দিয়ে গঠিত। এটা যদি শক্ত বরফের তৈরি হয়, তাহলে ধূমকেতুটির মাধ্যাকর্ষণ শক্তি খুবই দুর্বল হওয়ার কারণে অবতরণযানটি মাটি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ছিটকে মহাশূন্যে উঠে যেতে পারে। আর যদি নরম তুষারের মতো কিছু দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে অবতরণ যানটি ডুবে যেতে পারে।’

বিজ্ঞানীরা এখন অপেক্ষা করছেন কখন তারা ওই অবতরণযান থেকে তোলা ছবিগুলো পাবেন। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ওই সব ছবিতে হয়তো দেখা যাবে ধূমকেতুর উপরিভাগের এক অদ্ভুত দৃশ্য, সেখানে গভীর খাদ এবং বরফের শৃঙ্গ রয়েছে।

এই অভিযান থেকে জানা যাবে কী ধরনের মৌলিক উপাদান দিয়ে আমাদের এই মহাবিশ্ব বা সৌরজগৎ গঠিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স।






মন্তব্য চালু নেই