মেইন ম্যেনু

‘ধর্ষণ করে স্বাধীনতার স্বাদ পাই’

দিলীপ মজুমদার (কলকাতা): যৌন লালসা পুরো করেই নিজেকে স্বাধীন মনে করত এক শ্রেণির সৈনিক। আর রক্ষকই যেখানে ভক্ষক, সেখানে নিজের আব্রু বাঁচানোর জন্য কারই বা দ্বারস্থ হবেন অসহায় মহিলারা।

কঙ্গোর সৈনিকরা রোজ রাতে রুট মার্চে বের হতেন। কিন্তু যুদ্ধের জন্য নয়। বরং শিকারের জন্য। কার শিকার? যৌন লালসা পুরো করতে নারী শরীরের শিকার যে অপরিহার্য।

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর একটি কসবাকে দখল করার নির্দেশ দেওয়া হয় সেনাকে। সেখানে কমান্ডার আদেশ দিতেন, ‘যাও, মহিলাদের ধর্ষণ কর।’ মিনোভা শহরে কব্জা করতে এসেই সেখানকার মহিলাদের নিজের যৌন লালসার শিকার করেছে সেনার জওয়ানরা। তবে নিঃশব্দে গ্রামে ঢোকে না তারা। আগাম জানান দিয়েই নারী শরীরের শিকারে নেমে পড়ে বিকৃত কাম মানসিকতার অধিকারী ওই সৈনিকরা।

প্রায় ২০০০ জওয়ান হাওয়ায় ফায়রিং করে নিজের আগমনবার্তা পৌঁছে দেয় মিনোভায়। তা শুনেই নিজের ইজ্জত বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় নেমে পড়েন সেখানকার মহিলারা। জঙ্গল, ঝোপ-ঝাড়ে লুকিয়ে আত্মরক্ষার ব্যর্থ চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয় না।

এক সৈনিক জানিয়েছে, ‘এটা সত্যি যে আমরা মহিলাদের ধর্ষণ করি। কারণ তাঁরা বাঁচতে পারবে না। আমরা তাঁদের দেখি, ধরে নিয়ে যাই, তার পর যা খুশি তাই করি। কখনও কখনও তাঁদের প্রাণেও মেরে ফেলি। ধর্ষণের পর তাঁদের সন্তানেরও হত্যা করি। ধর্ষণ করার সময়ে স্বাধীনতার স্বাদ পাই আমরা।’

চমকে দেওয়ার মতো এই রিপোর্টই প্রকাশিত হয়েছে একটি সংবাদপত্রে। নজগিরা নামে এক মহিলার সঙ্গে ধর্ষণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০১২ সালের নভেম্বরে গণধর্ষিতা হয়েছিলেন তিনি। তিন জন একসঙ্গে তাঁকে ধর্ষণ করে। নজগিরা জানান যে, ‘এক ধর্ষণকারী বলে, অন্যরা যাঁদের ধর্ষণ করেছে, সেখানে আমি যাব না। তাই সে আমার সঙ্গে অপ্রাকৃতিক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। আমি তাদের মুখ দেখতে পায়নি। কী ভাবে দেখতাম? তাঁরা ক্রমাগত আমার চোখে আঘাত করছিল। একজন আমার মুখে বন্দুক ঢুকিয়ে রেখেছিল। আমি ভেবেছিলাম মরে যাব।’

মিনোভায় এমন বহু নজগিরাকে পাওয়া যাবে, যাঁরা জওয়ানদের বিকৃত লালসার শিকার হয়েছে। আমেরিকান জার্নাল অফ পাবলিক হেলথের রিসার্চের পর জানা গিয়েছে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে প্রতিদিন ১১৫২ জন মহিলা ধর্ষণের শিকার হন। অর্থাত্‍‌ প্রতি ঘণ্টায় ৪৮ জন মহিলার ধর্ষণ হয়। ২০০৩ সালেই কঙ্গোতে নাগরিক যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এ সব কখনও বন্ধ হয়নি। দেশের ১২ শতাংশ মহিলার সঙ্গে অনন্তপক্ষে একবার ধর্ষণ অবশ্যই হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই