মেইন ম্যেনু

দীর্ঘদিন পর প্রাণ ফিরে পেল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

আন্দোলনের প্রায় ৫ মাস পর প্রাণ ফিরে পেয়েছে প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণচঞ্চল উত্তরবঙ্গের সর্ব্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের সব তালা খুলে দেওয়ায় উম্মুক্ত হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ।

১০৭ দিন পর তালা ভেঙে খুলে দেওয়া হলো এই প্রতিষ্ঠানটির বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন । হল,ক্যাফেটেরিয়া,ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ সহ ৪ দফা দাবি নিয়ে অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘটের ৪৮ দিন পর খুলে দেওয়া হলো একাডেমিক ভবনগুলো।

রবিবার সোয়া ১১ টার দিকে রংপুর জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মিজানুর রহমান এবং জেলা জ্যৈষ্ঠ পুলিশ সুপার অশোক কুমার পালের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ড্রিল মেশিনের সাহায্যে তালা কেটে খুলে দেওয়া হয়েছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন।এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য,অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সহ তালা ভাঙার সমর্থনকারিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ দিকে তালা ভাঙার প্রতরোধকারী সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানার এবং ‘সমন্বিত অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ’ এর ব্যানারে উপাচার্যের অপসারণে আন্দোলনকারিরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করে।আইন শৃংখলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন থাকায় তেমন কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেনি।আনন্দে মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখা।

সোয়া ১১ টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সব তালা খুলে দেওয়ার পর উপাচার্যের বাংলোতে উপাচার্য এক প্রেস বিফ্রিং করেন।এত দিন পর তালা ভাঙার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সাংবাদকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান,সামনে এইচ এস সি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে অথচ এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিতে পারিনি।

তিনি বলেন,আমি এবং এইচ.এন আশিকুর রহমান ঢাকা থেকে ৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। তিনি সেদিন রাতে শিক্ষক সমিতির সাথে এ বিষয়গুলো(চলমান সমস্যা) নিয়ে কথা বলেন। এরপর ৯ মার্চ সরকারের প্রতিনিধি হয়ে রংপুর সার্কিট হাউজে আমার এবং আন্দোলনকারি শিক্ষক সমিতির কথা শোনেন। তাঁরা উপাচার্যের অপসারণ চান।তাঁরা একটাই দাবি করেন,এই ভিসিকে রেখে সমস্যার সমাধান হবে না। সংসদ সদস্য উভয়ের বক্তব্য শোনেন। তিনি শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয় খোলা রাখার অনুরোধ জানান।

উপাচার্য প্রেস বিফ্রিংয়ে আরো বলেন,‘আমি সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষক সমিতিকে মৌখিক ও লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছি । তাঁরা আজ রবিবার তালা খুলে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আবারো মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় নেয়’।

আন্দোলনকারিরা আবার যদি তালা লাগায় তবে কি পদক্ষেপ নিনে এ ব্যাপারে উপাচার্য বলেন ,‘আবারো তালা ভাঙা হবে’।তারা (আন্দোলনকারি শিক্ষক সমিতি)যদি ক্লাসে ফিরে না আসে তবে কি করবেন এ ব্যাপারে তিনি বলেন,আমি আগাম কিছু বলতে পারবো না।তবে সমস্যা সমাধানে আলোচনা চালিয়ে যাবো।

তিনি আরো বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে আমি প্রধানমন্ত্রী,স্পীকার ,এইচ.এম এরশাদ(প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত)এবং রংপুর সিটি মেয়র শরফুদ্দিন আহমদ ঝন্টুর সাথে কথা বলেছি ।রংপুর সিটি মেয়র রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।’ ক্লাস কবে থেকে শুরু হচ্ছে এ ব্যাপারে তিনি বলেন,‘ ছাত্র-ছাত্রী থাকলে আজ থেকেই শুরু হবে’।সমস্যা সমাধানে চেষ্টার আশ্বাস দিয়ে উপাচার্য এ সময় সবাই মিলে ক্লাস ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার প্রত্যাশা করেন এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ দিকে সংকট সমাধান না করে তালা ভাঙার ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির পদক্ষেপের কথা জানতে চাইলে সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আজম খান বলেন,‘আমাদের চলমান আন্দোলন চলবে’।ক্লাস পরীক্ষা নেবেন কি না জানতে চাইলে বলেন,‘আমরাও ক্লাসে ফিরে যেতে চাই তবে আগামী ২৫ মার্চ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা রয়েছে। সেখানেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ায় উপাচার্যকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে সকলে শিক্ষার সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণে এগিয়ে আসবেন বলে প্রত্যাশা করেছে আওয়ামী পন্থি এই সংগঠন।

উল্লেখ্য গত ২ নভেম্বর থেকে বিভিন্ন দাবি এবং এর পরে শিক্ষ-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারির বিভিন্ন দাবি নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অবস্থান এবং সবশেষ গত ডিসেম্বর থেকে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে প্রায় ৫ মাস ধরে চলছে ধারাবহিক আন্দোলন।এর আগে ৩ ডিসেম্বর প্রশাসনিক ভবন এবং ২ ফেব্রুয়ারি একাডেমিক ভবনগুলোতে তালানো হয়েছিল।

তবে দীর্ঘদিন পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সংবাদে এবং খুলে দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের দেহে প্রাণ ফিরে এসেছে।সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা । প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে গোটা ক্যাম্পাসে।






মন্তব্য চালু নেই