মেইন ম্যেনু

থাইল্যান্ডে সাড়ে ৩শ বাংলাদেশি আটক

অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে থাইল্যান্ডে আটক রয়েছেন প্রায় সাড়ে ৩শ বাংলাদেশি। এর মধ্যে নরসিংদীর রয়েছে ৩৭ জন। এদের মধ্যে অধিকাংশেরই বয়স ত্রিশের মধ্যে। তারা এখন থাইল্যান্ডে বিভিন্ন ডিটেনসন সেন্টারে আটক আছেন। সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস নরসিংদী জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসকে এসব তথ্য জানিয়েছে।

নরসিংদী জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস সূত্রে জানা যায়, থাইল্যান্ডের বিভিন্ন কারাগার ও ডিটেনসন সেন্টারে বাংলাদেশের সাড়ে ৩শ’ লোক আটক আছে। এরমধ্যে কেউ ৩ মাস, কেউ ৪ মাস আবার কেউ ৬ মাসেরও অধীক সময় ধরে বন্দি আছেন। সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস এসব বন্দিদের নাম ও ঠিকানাসহ তালিকা তৈরি করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে দ্রুত এসব বন্দি ব্যক্তিরা প্রকৃতই বাংলাদেশের কি না তা তদন্ত করে জানানোর জন্য।

সেই নির্দেশ অনুযায়ি জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস তদন্ত করে নরসিংদীর ৩৭ জনের নাম ঠিকানা সঠিক পায়। তারা কেউ ৪ মাস, আবার কেউ ৮ মাস আটক রয়েছে। তারা অগ্রিম ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ি থেকে বের হওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

থাইল্যান্ডে বন্দি নরসিংদী জেলার যে ৩৭ জনের নাম পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে নরসিংদী সদর উপজেলার ১৬ জন, পলাশ উপজেলার ১জন, শিবপুর উপজেলার ২ জন, বেলাব উপজেলার ১ জন এবং রায়পুরা উপজেলার রয়েছে ১৭ জন।

নরসিংদী সদর উপজেলার ১৬ জন হলেন- ছোটবালাপুরের মো. অলি (১৮), চরদিঘলদী নয়াকান্দির এসডু মিয়া (২০), করিমপুর পঞ্চবটির শারফিন আলম (১৮), নরসিংদী শহরের ভাগদীর মোহাম্মদ এছাক খান (২৪), শাহিন (২৫), শুক্কুর আলী (৩৭), মহিষা শুড়ার আদংদিয়ার মোহাম্মদ জাকারিয়া (২২), বালুসাইর নগর বাইনাদীর মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (৪০), কাঠালিয়ার দরিকান্দীর আল আমিন (২৬), পাইকারচর কুরুপুদির আতাউর রহমান (২৭), কাঠালিয়ার চগরিয়ার রজব আলী মোল্লা (২৯), শহরের চৌয়ালার মো. লিটন (২০), কাশিমপুরের বগারগুতের মো. সোহেল (২০), মীরবাড়ীর মো. কামার (২৯), চিনিশপুর ঘোড়াদিয়ার খলিল মিয়া (২৬) এবং বালুসাই দরিকাজির গাঁও এর আব্দুস সামাদ মিয়া (৩৮)।

পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর সুলতানপুর গ্রামের মোহাম্মদ জনি মিয়া (২৫), শিবপুর উপজেলার দুলালপুর হারুন খোলার মোতালেব শেখ (৩২) এবং সাধারচর বীরকোপির সোহরাব সিকদার (২৮), বেলাব উপজেলার চর আমলাবরের মো. মাসুম (২৪)।

রায়পুরা উপজেলার তুলাতুলি রাজনগরের কাজী দুলাল মিয়া (৫০), চরসুবুদ্দি মহিষবেরের মো. কামাল মিয়া (৩৫), মোহাম্মদ মোমেন (২৬), উত্তর মির্জানগর হোগলাকান্দীর আইয়ূব (২০), ডৌকারচর আদিয়াবাদ পিবিনগরের ফকির আলম (২৪), রহিমাবাদ পূর্বকান্দীর মো. কামাল মিয়া (৩০), নূরপুরের মোহাম্মদ রমজান আলী (২৩), শুকুর আলী (২৮), হাসনাবাদ ফতুপাড়ার বাবুল (২২), ডৌকারচরের ইয়াসীন (২৫), তেরিপাড়ার শামিম (১৮), মহিষবের কান্দিপাড়ার নূর আহমেদ (৩০), হাসনাবাদ পূর্বপাড়ার মোস্তফা কামাল (৩২),পলাশতলি মরপুরের জুলহাস মিয়া (৩৮), আমিরগঞ্জ হাসনাবাদের বাবুল খন্দকার (২০), সিদ্দিকুর রহমান (১৯) ও আল আমীন (১৯)।

এ ব্যাপারে নরসিংদী জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কর্মকর্তা মালিক মোহাম্মদ তৈমুর গোফরান বলেন, ‘বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ আমাদের নরসিংদীর যে ৩৭ জনের নাম ঠিকানা দিয়েছে ওই ঠিকানা মোতাবেক আমরা যোগাযোগ করে দেখেছি তারা সবাই নরসিংদী জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। দালালের মাধ্যমে তারা অবৈধ পথে মালয়শিয়া যাওয়ার চেষ্ঠা করে। থাইল্যান্ডের সীমানায় গিয়ে হয়তো তারা ধরা পড়েছে। যে সব দালাল তাদের পাঠিয়েছে তাদেরও একটি তালিকা আমরা করছি। আর বন্দি ৩৭ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস কাজ করছেন বলে জানান তিনি।






মন্তব্য চালু নেই