মেইন ম্যেনু

তুই জানোয়ার, নিপাত যা

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু যৌন নিপীড়নকারীকে সমাজের কাছে ‘জানোয়ার’ হিসেবে চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যারা যৌন নিপীড়ন করে তারা সমাজের বিষধর সাপ। বিষধর সাপের কামড়ে লজ্জিত হবেন না। তাকে লজ্জা দিন। চিহ্নিত করুন। তাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন, তুই জানোয়ার, তুই জানোয়ার, ধ্বংস হ, নিপাত যা।’

মঙ্গলবার রাজধানীতে ‘নারীর জন্য নিরাপদ নগরী’ শীর্ষক ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

ইউকে এইডের সহায়তায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন এইড এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের নির্বাহী পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন- যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় সচিব লিন ফেদারস্টোন, নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এম এ মান্নান এবং অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ফারাহ কবির।

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সমাজের সচেতন মানুষকে সোচ্চার হতে হবে। যৌন হয়রানির ঘটনা দেখেও চুপ করে থাকার সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসুন। ইভটিজিংয়ের দায় নারীর নয়। যারা ফতোয়া দেয় তারাই অন্যদেরকে ইভটিজিং করার উৎসাহ যোগায়। তাদেরকে প্রতিহত করুন।’

তথ্যমন্ত্রী নারীর জন্য নিরাপদ নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে চিহ্নিত স্থানগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন, টহল পুলিশের মধ্যে নারী পুলিশদের সম্পৃক্তকরণ এবং ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান চালানোর পরামর্শ দেন। তিনি পুলিশদেরকে জেন্ডার সংবেদনশীল প্রশিক্ষণ দেয়ারও সুপারিশ করেন।

লিন ফেদারস্টোন বলেন, ‘পৃথিবীজুড়েই নারী নির্যাতন চলছে। সারা বিশ্বে প্রতি ৩ জনে ১ জন নারী কোনো না কোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার হন। বিশ্বে যৌন হয়রানির হার তো কমছেই না, বরং এর কারণে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাজ্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য সরকার বাংলাদেশ ও মায়ানমারে যৌন হয়রানি বিরোধী ক্যাম্পেইনে সহায়তা করছে।’ আগামী বিশ্বকে যৌন হয়রানিমুক্ত ও জেন্ডার সংবেদনশীল মানবগোষ্ঠীতে পরিণত করার জন্য শিশু ও যুব সমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট সাজার বিধান সম্বলিত উপযুক্ত আইন প্রণয়ন ও তার কঠোর বাস্তবায়নে সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও নারায়নগঞ্জ শহরে বসবাসরত নারীদের ওপর এ্যাকশন এইড পরিচালিত গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী ৮০০ নারী ও কিশোরী এবং ৪০০ পুরুষের ওপর এ গবেষণা করা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, নগরের ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ নারী গণপরিবহন, রাস্তা কিংবা উন্মুক্ত জনবহুল এলাকায় চলাফেরা করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এসব নারীর ৮৮ ভাগই মনে করেন তারা পথচারী, পুরুষ-যাত্রী এবং ক্রেতাদের দ্বারা হয়রানির শিকার হন। শহরের ৯৭ শতাংশ নারী যৌন হয়রানিকে সহিংসতা মনে করেন। তারা মনে করেন, পুলিশের সাহায্য চাইলে সমস্যা বাড়ে। যৌন সহিংসতা এড়াতে ৬৪ শতাংশ নারী রাতে ঘরের বাইওে যান না। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ৬০ ভাগ নারী রাতে ঘরের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে দলগতভাবে যেতে চান।

অনুষ্ঠান শেষে স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারের উন্মুক্ত মঞ্চে ‘নিরাপদ নগরী, নির্ভয় নারী’ শীর্ষক প্রচারণা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে এ্যাকশন এইড বাংলাদেশ কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই