মেইন ম্যেনু

নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের দাবি এলাকাবাসীর

তালার ফুলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

তালা উপজেলার ধানিদয়া ইউনিয়নের ফুলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ পরীক্ষার আগেই ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক,সহকারী প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কমিটির সভাপতি যোগসাজশে মোহন কুমার দাশ নামের এক প্রার্থীর সাথে চাকরী দেয়ার শর্তে ৯ লাখ টাকা চুক্তি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তালা উপজেলা সদরের বি.দে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অথচ বুধবার বিকেল পর্যন্ত আবেদনকারী ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে একাধিক প্রার্থী পরীক্ষার প্রবেশপত্র সময় মত হাতে পায়নি। স্থানীয়রা পাতানো এই নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করে পরবর্তীতে স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক , তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।
জানাগেছে, তালার ফুলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একজন সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে নিয়োগের জন্য গত ৬ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। ১৫ জন প্রার্থী এই পদে আবেদন করেন। ২০ নভেম্বর দুপুর ২ টায় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষনা করা হয়। এরইমধ্যে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক গবিন্দ কুমার হালদার, সহকারী প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম সরদার ও স্কুল কমিটির সভাপতি সন্তোষ বিশ্বাস যোগসাজশে কলারোয়া উপজেলার জয়নাগর গ্রামের শিবুপদ দাশের ছেলে মোহন কুমার দাশের সাথে তাকে ওই পদে চাকরী পাইয়ে দেয়ার শর্তে ৯ লাখ টাকা চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে চুক্তি অনুযায়ী অর্ধেক টাকা মোহন কুমার দাশ তাদের হাতে দিয়েছেন বলে জানাগেছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম সরদার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ।
সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনকারী তানজিলা ফেরদৌসের স্বামী কলেজ শিক্ষক আলমগীর কবির জানান, বুধবার বেলা ২ টার দিকে সাতক্ষীরা সিটি কলেজে এসে হাতেহাতে তার স্ত্রীর ভাইভা কার্ড দেয়া হয়েছে। এই পদে টাকার বিনিময়ে কাকে নিয়োগ দেয়া হবে তা ইতিমধ্যে ঠিক করেছে স্কুলের প্রধান শিক্ষক,সহকারী প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কমিটির সভাপতি। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে আমারা জানতে পেরেছি। স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষা হবে না বিধায় আমার স্ত্রী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্থানীয় সেনেরগাঁতী গ্রামের রহমদ্দিন গাজী জানান, কিছুদিন আগে এই স্কুলে ৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও স্কুলের সভাপতি এসব শিক্ষক নিয়োগের নামে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম সরদার স্থানীয় হওয়ায় তার প্রভাবে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্থানীয়রা মুখ খুলতে পারে না। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। স্কুল ফান্ডে তারা কোন টাকাও জমা দেয়নি। একই ভাবে তারা ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে মোহন কুমার দাশকে কৃষি শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নিয়োগ পরীক্ষার আগেই তার কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। বিষয়টি এখন এলাকার মানুষের মুখেমুখে।
সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে স্থানীয়দের দাবি, পাতানো এই নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগ বোর্ড তেরী করে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হোক।






মন্তব্য চালু নেই