মেইন ম্যেনু

তামাক কারখানায় ৯০ শতাংশ শিশু

দেশের তামাক কারখানাগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে ৯০ শতাংশ শিশু বলে জানিয়েছেন হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টারের (এইচডিআরসি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল বারাকাত।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘তামাকে কর বাজেট প্রতিক্রিয়া ২০১৪-১৫’ শীর্ষক সভায় তিনি একথা জানান।

বারাকাত বলেন, ‘দেশে প্রায় ১০ হাজার তামাকজাত দ্রব্যের কারখানা রয়েছে। যেখানে কর্মরতদের মধ্যে ৯০ শতাংশ হলো শিশু শ্রমিক। এসব শিশু শ্রমিকদের মধ্যে যারা ১ বছর ধরে কাজ করছে, তারা অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত। এছাড়া যারা ৬ মাসের অধিক সময় ধরে কাজ করছে তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ শিশু যক্ষা রোগে ভুগছে।’

তিনি বলেন, ‘সবাই শিশু অধিকার নিয়ে কথা বলে। কিন্তু এই শিশুদের নিয়ে কেউই ভাবে না।’

বারাকাত বলেন, ‘দেশের ৮১ শতাংশ নাগরিক তামাকের ওপর উচ্চ হারে কর আরোপের পক্ষে থাকলেও বাজেটে তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রস্তাবিত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ওপর কিছুটা কর বৃদ্ধি ইতিবাচক, তবে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় তা পর্যাপ্ত নয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যহারে কর বাড়ানো হয়েছে জর্দ্দা ও গুলের ওপর। এ দু’টি তামাকজাত পণ্যের ওপর প্রযোজ্য সম্পূরক শুল্কের হার ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রেজিস্ট্রেশনবিহীন জর্দ্দা ও গুল কারখানা থাকায় ঐসব কারখানাগুলোর কর আদায় করা কঠিন হবে। এ অবস্থায় এসব পণ্যের কর আহরণ কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ না করা গেলে এ কর হার বৃদ্ধি খুব একটা কাজে আসবে না।’

তিনি বলেন, ‘তামাকজাত পণ্যের আয় সম্পর্কে যেসব অর্থনীতিবিদরা যুক্তি তুলে ধরেন তাদের এসব যুক্তি যুক্তিহীন ও ভিত্তিহীন। এর ফলে তামাকজাত পণ্যের প্রসার বেড়ে যায়।’

অধ্যাপক বারাকাত বলেন, ‘এবারের বাজেটেও বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানিগুলোকে সুবিধা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। সিগারেট ও বিড়ির মূল্য কিছুটা বাড়লেও তা এসব পণ্যের ব্যবহার কাঙ্ক্ষিত হারে কমবে না।’

আলোচনা সভায় চূড়ান্ত বাজেটের জন্য ১২টি সুপারিশ ও পরামর্শ তুলে ধরেন অধ্যাপক আবুল বারাকাত। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সিগারেটের ওপর প্রচলিত চার স্তর বিশিষ্ট জটিল মূল্যস্তর ব্যবস্থা বাতিল, সব ধরনের সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের ওপর ৩৪ টাকা হারে একক কর (স্পেসিফিক ট্যাক্স) আরোপ করা, যাতে সিগারেটের ওপর এক্সাইজ ট্যাক্সের (সম্পূরক শুল্ক) পরিমাণ গড় পড়তা খুচরা মূল্যের ৭০ শতাংশ হয়, প্রতি বছর স্পেসিফিক এক্সাইজ টেক্স এমনভাবে সমন্বিত করতে হবে যাতে প্রকৃত মূল্য না কমে, সিগারেট-বিড়িসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ প্রদান।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা), হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিসার্স সেন্টার (এইচডিআরসি) ও প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) এর কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী, ডিরেক্টর বাংলাদেশ প্রোগ্রাম ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে) এর তাইফুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক প্রজ্ঞা’র এবিএম জুবায়ের, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই