মেইন ম্যেনু

তসলিমার পরামর্শ মেনেই ‘চরিত্রহীন’ রুবেলকে বিয়ে করবেন না হ্যাপি

অন্ধ প্রেমের ভূত এবার মাথা থেকে ঝেড়ে ফেললেন উঠতি নায়িকা নাজনীন আখতার হ্যাপি৷ ডাক্তারি পরীক্ষার পরেও বিয়ে করার শর্তে ক্রিকেটার রুবেল হোসেনকে সমঝোতার প্রস্তাব দিলেও এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন ১৯ বছরের হ্যাপি। শেষ পর্যন্ত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের পরামর্শই মানতে চলেছেন তিনি৷ বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা রুবেল-হ্যাপি বিতর্ক নিয়ে ফেসবুকে নিজস্ব মতামত দিয়ে জানিয়ে ছিলেন, রুবেলের সঙ্গে এক বিছানায় শুয়ে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক করে অথবা ধর্ষিতা হয়ে সমস্যায় পড়বেন না হ্যাপি৷ তার কেরিয়ারে এই ঘটনার কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করেন তসলিমা নাসরিন৷

তবে ‘প্রতারক’, ‘চরিত্রহীন’ রুবেলকে আর বিয়ে করবেন না জানিয়ে হ্যাপি বলেছেন, মামলার ‘শেষ’ দেখে ছাড়বেন তিনি। হ্যাপি মঙ্গলবার বিকালে একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘রুবেল সম্পর্কের নামে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে সম্পর্কের নামে রুবেল মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। এমন প্রতারককে বিয়ে করা আর সম্ভব নয়।’ বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার রুবেলকে হয়রানি করা তার উদ্দেশ্য নয় মন্তব্য করে হ্যাপি বলেন, ‘রুবেলকে হয়রানি করা আমার টার্গেট নয়। কারও প্ররোচনা কিংবা কারও সঙ্গে আলোচনা নয়, আমি নিজেই এই মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ রুবেলের সঙ্গে সম্পর্কের একাধিক ‘প্রমাণ’ এরই মধ্যে মিরপুর থানায় জমা দিয়েছেন বলে জানান হ্যাপি৷

রুবেলের জামিনের খবরে ‘ক্ষুব্ধ’ হ্যাপি এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনেরও অভিযোগ করেছেন। শনিবার মিরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়েরের পর রুবেল তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। হ্যাপি বলেন, ‘রুবেল আমাকে বলেছে, মামলা করে তার কিছুই করতে পারব না। শেখ হেলাল, আন্দালিব রহমান পার্থের সঙ্গে ওর খুব ভালো পরিচয় আছে। তাদের দিয়ে ও মামলা তুলে নেবে। প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রীর ছেলের কাছেও যাবে সে। আমি জানি না সত্যি তাদের সঙ্গে রুবেলের ভালো সম্পর্ক রয়েছে কি না।’

তবে শেষ পর্যন্ত মামলা চালিয়ে যাবেন জানিয়ে হ্যাপি বলেন, ‘প্রতারক রুবেলের বিরুদ্ধে মামলাটির শেষ দেখে ছাড়ব আমি।’ তিনি আরও বলেন, ‘রুবেলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আমার পরিচয় ছিল। ওর বাবা-মায়ের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। বাড়িতে রুবেল আমাকে ওর একজন খুব ভালো বন্ধু বলে পরিচয় দিয়েছিল। ও বলেছিল, ওর বাবা-মাকে আমাদের বিয়ের ব্যাপারে রাজি করাবে। কিন্তু তা করেনি। আমি অনেকবার জানতে চেয়েছিলাম এই ব্যাপারে। ও নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যেত।’

৩ ডিসেম্বর বিকালে রুবেলের ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন জানিয়ে হ্যাপি বলেন, ‘ঘরে অচেনা দুই মহিলার সঙ্গে মদ্যপ রুবেলকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পাই। এই নিয়ে ঝগড়ার সময় রুবেল আমাকে মারধর করে। এতে আমি আহত হই।’

এই ঘটনার পর তিনি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিলে রুবেল সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেন হ্যাপি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তাজা, শফিউল ইসলাম, নাসির হোসেন, নাঈম ইসলামসহ আরও দুজন নতুন ক্রিকেটার বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করেন। মাশরাফি ভাই দুজনকেই ব্যাপারটি মিটিয়ে নিতে বলেছিলেন। রুবেলকে বলেছিলেন, সম্পর্ক যে পর্যায়ে গড়িয়েছে এখন বিয়ে করে নেওয়াটাই ভালো। বাকিরাও রুবেলকে বুঝিয়েছিল। তখন রুবেল ওর মত পরিবর্তন করেছিল। আমাকে বলেছিল, ভেবে দেখবে। কিন্তু পরবর্তীতে কথার খেলাপ করে ও৷ সাফ জানিয়ে দেয় আমাকে বিয়ে করতে পারবে না। এর পর আইনী পথে যাওয়া ছাড়া আমার কোনো উপায় ছিল না৷’

এখন রুবেল হোসেনের মুখ খোলার অপেক্ষা৷- ওয়েবসাইট






মন্তব্য চালু নেই