মেইন ম্যেনু

তবুও বিভক্ত গণজাগরণ মঞ্চ

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, অর্থ কেলেঙ্কারি ইত্যাদি ইস্যুতে অনেক আগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। তবে ধারণা করা হয়েছিল জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর চূড়ান্ত রায়ে শাস্তি কমানোর ইস্যুতে আবারো তারা একজোট হয়ে দেশব্যাপী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু তা আর হলো না। খোদ শাহবাগেই বিভক্তি স্পষ্ট হয়েছে। এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের বিরুদ্ধে মাইকে স্লোগান দিচ্ছে!

গত মার্চ মাস থেকে চূড়ান্তভাবে চার ভাগে বিভক্ত গণজাগরণ মঞ্চ বুধবার মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মতো করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। একদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ডা. ইমরান এইচ সরকার আর সরকার সমর্থিত একটি অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন কামাল পাশা।

সাঈদীর আপিলের রায় ঘোষণার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে আবারো উত্তাল হয়ে উঠবে শাহবাগ চত্বর। নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সমাপ্তি ঘটে একসাথে আন্দোলন করার মাধ্যমে আবারো গণমানুষের আন্দোলনে পরিণত হবে। যেমনটা হয়েছিল ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি পরবর্তী সময়ে।

কিন্তু বুধবার গণজাগরণ মঞ্চ সবাইকে আবারো হতাশ করেছে। দুই পক্ষই আন্দোলনের নামে ফায়দা লুটার অভিযোগ করে আসছে। ইমরান এইচ সরকারের পক্ষকে সরাসরি হুমকি দিচ্ছে কামাল পাশার নেতৃত্বাধীন মঞ্চের একাংশ। তারা ইমরানের গ্রুপকে শাহবাগ ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বাধীন অংশ -১৪ দলের আতাঁতের রায়, মানি না, মানবো না, শেখ হাসিনার কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও- এমন স্লোগান দিলে তাদের পিঠের চামড়া তুলে নেয়া হবে বলে মাইক্রোফোনে বারবার স্লোগান দিচ্ছে কামাল পাশার লোকজন।

এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে উদ্দেশ করে আরো নানা হুমকিমূলক স্লোগানে মুখর করে রেখেছে শাহবাগ চত্বর।

আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের নেতারা বারবার ইমরান এইচ সরকারের গ্রুপকে দালাল ও আন্দোলনের ফায়দা লুটার অভিযোগ তুলে আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

কিন্তু ইমরান এইচ সরকার নেতৃত্বাধীন গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা অব্যাহতভাবে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে সমঝোতার রায় দেয়ার অভিযোগ তুলে নানা স্লোগান দিয়ে যাচ্ছে।

একাধিক মাইক ব্যবহারের মাধ্যমে পাশা গ্রুপের কর্মীরা স্লোগান দিচ্ছে, যেন ইমরান গ্রুপের এক মাইকের স্লোগান তেমনভাবে কারো কানে না যায়।

এসব বিষয়ে কামাল পাশা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি এই আওয়ামী লীগ সরকারের বিপক্ষে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়াতে আমরাও ক্ষুব্ধ। কিন্তু গণজাগরণ মঞ্চের নামে একটি মহল নানা ধরনের ফায়দা লুটার চেষ্টায় অব্যাহত রয়েছে। তাদের এই অপচেষ্টাকে রোধ করতেই আমরা তাদেরকে শাহাবাগ ছেড়ে চলে যেতে বলেছি। আমরা সাঈদীর ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।’

শাহবাগে গিয়ে দেখা গেছে, জাদুঘরের প্রধান ফটকের দক্ষিণ দিকে রাস্তার ওপর গণজাগরণ মঞ্চের মূল অংশের দাবি করে আন্দোলন, সমাবেশ ও মিছিল মিটিং করছে আরেকটি অংশ। এই অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। এছাড়াও এই অংশে রয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লাকী আক্তার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি জোনার্দন দত্ত নান্টুসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে আন্দোলন করছেন কামাল পাশার নেতৃত্বাধীন অংশ। তারা সরকারের সমালোচনা না করে শুধু রাজাকারের ফাঁসি চাই এবং দলীয় স্লোগানে মুখর করে রাখছে শাহবাগ। তাদের দলে রয়েছেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক শিউলি বিনতে মহসিন, সোহেলী পারভিন মনি, হামিদা বেগম, উপ-কমিটির সদস্য এসএম এনামুল হক আবির, গৌরব-৭১ এর সভাপতি আজাদ আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুল্লাহ মিজবাহ, অপরাজেয় বাংলার সভাপতি এইচ রহমান নিলু প্রমুখ।

বিভক্তির নেপথ্যে
জানা গেছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চের রোডমার্চ, নির্বাচন নিয়ে ডা. ইমরানের মন্তব্য, ঘরোয়া আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ডা. ইমরানের বক্তব্য, লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীতের জন্য ইসলামী ব্যাংকের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার সমালোচনা আমলে নেয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ। এসময় ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুক ও ব্লগে ডা. ইমরান এইচ সরকার ও গণজাগরণ মঞ্চের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা শুরু করেন।

ইতিমধ্যে ছাত্রলীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত মঞ্চেরই একটি অংশের সঙ্গে ডা. ইমরানের বিরোধ জোরালো হয়। ছাত্রলীগ গত বছর গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন থেকে সরে আসার পর মঞ্চের একটি অংশ গৌরব-৭১ নাম নিয়ে আলাদা হয়ে যায়। এ অংশটিই মূলত ছাত্রলীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। গত বছরের ২ আগস্ট গণজাগরণ মঞ্চের আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলাকালেই তারা জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণজাগরণ মঞ্চের ব্যানারে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে।

ওই সময় ডা. ইমরান এইচ সরকার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘এ কর্মসূচি গণজাগরণ মঞ্চের নয়।’

সাধারণত যে জায়গায় গণজাগরণ মঞ্চ অনুষ্ঠান করে, সেই জায়গায় গৌরব-৭১ এর নামে মঞ্চ তৈরি করা হলে এদের সঙ্গেই ৩ এপ্রিল রাতে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের দুই দফা মারামারির ঘটনা ঘটে। এই অংশটি ৪ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ডা. ইমরানকে শাহবাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।

পরবর্তী সময়ে ছাত্রমৈত্রী, ছাত্রলীগ (জাসদ), ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র সমিতি ও ছাত্রঐক্য ফোরাম যৌথভাবে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করে তাদের ডা. ইমরান বিরোধী অবস্থান পরিষ্কার করে। এর মধ্যে প্রথম চারটি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক চারটি দলের ছাত্রসংগঠন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ছাত্রলীগ নেতাদের প্ররোচনায় পাঁচ ছাত্র সংগঠনের ওই সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।






মন্তব্য চালু নেই