মেইন ম্যেনু

পরিবহন ধর্মঘট

ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বরিশাল-ঢাকা রুটে বাস মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে পরিবহন ধর্মঘট চলছে। ফলে রাজধানীর সঙ্গে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রী সাধারণ।

সোমবার সকাল ৬টায় এ ধর্মঘট শুরু হয়। চলবে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত।

বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-বরিশাল রুটের বাসগুলোকে সড়কের দু’ধারে দাড় করিয়ে রাখা হয়েছে। আর ঢাকাগামী যাত্রী সাধারণ টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন।

সকাল থেকে বেলা পৌঁনে ১২টা পর্যন্ত কোনো বাস ঢাকার গাবতলীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়নি। কিন্তু এর আগে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৭০টি বাস ঢাকার গাবতলীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেত।

যাত্রী হাবিবুর রহমান জানান, পটুয়াখালি থেকে চার সদস্যের পরিবার নিয়ে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকালে নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে এসেছেন। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় স্বজনদের নিয়ে টার্মিনাল এলাকায় অপেক্ষা করছেন।

মোকছেদ বেপারি নামে এক বৃদ্ধ জানান, ধর্মঘটের বিষয়টি না জেনে তিনি সকালে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে নিয়ে নথুল্লাবাদ এসেছেন। কিন্তু ঢাকায় উদ্দেশ্যে কোনো বাস ছেড়ে না যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শুধু মোকছেদ বেপারি বা হাবিবুর রহমান নন এদের মতো বিপাকেত পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী।

বরিশাল জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনজানান, পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা চব্বিশ ঘণ্টার পরিবহণ ধর্মঘট মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত চলবে। এর ফলশ্রুতিতে কোনো বাস সকাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড ত্যাগ করেনি।

হানিফ পরিবহনের বরিশাল আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. রানা তালুকদার জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে ১৯ জুলাই শনিবার স্থানীয় সংসদ ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়।

বৈঠকে নিহত ১১ পরিবারের প্রত্যেককে ৬০ হাজার, আহত ২২ জনের প্রত্যেককে ২৫ হাজার, ক্ষতিগ্রস্ত মিশুক মালিক ৮ জনের প্রত্যেককে ৪০ হাজার, ২টি অটোরিকশার জন্য ১৫ হাজার, ২টি রিকশার জন্য ১০ হাজার, ক্ষতিগ্রস্ত ৮ দোকানির প্রত্যেককে ৫ হাজার এবং রাজধানী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত রিকশাচালক আলমগীর হোসেনের চিকিৎসার বকেয়া ও মরদেহ আনার জন্য ৩০ হাজার টাকা সব মিলিয়ে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়।

হানিফ পরিবহনের বরিশাল আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আরও জানান, এ জরিমানা বাস মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ কমানোর দাবি জানায়। এ দাবি না মানায় পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা ২৪ঘণ্টার ধর্মঘট আহ্বাবান করেন। যা চলছে। তবে অচিরে এ দাবি মেনে না নিলে ধর্মঘটের পরিধি বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

বাস মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দাবি, সরকারি হিসেব মতে নিহত ব্যক্তির জন্য ২৫ হাজার আর আহতদের জন্য ৮ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নিয়ম রয়েছে। সেখানে কেন তারা এত টাকার ক্ষতিপূরণ দেবে।

এ ছাড়া কোনো চালকই ইচ্ছা করে দুর্ঘটনা ঘটান না। একবার যদি এ অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়, তাহলে এটাই নিয়মে পরিণত হবে। এর প্রতিবাদেই এ পরিবহন ধর্মঘট চলবে।






মন্তব্য চালু নেই