মেইন ম্যেনু

ট্যাংকার ডুবি: আটকা অর্ধসহস্র জাহাজ, শ্রমিক দুর্ভোগ

সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির পর থেকেই সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে নদী পথে সব জাহাজ চলাচল। এর ফলে নদীর দুই প্রান্তে আটক পড়েছে সহস্রাধিক পণ্যবাহী জাহাজ। রসদ ফুরিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে জাহাজগুলোতে থাকা কয়েক হাজার কর্মচারী।

আটকে পড়া জাহাজের চালকরা জানান, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বাগেরহাটের বিভিন্ন নদীতে নোঙর করা রয়েছে পণ্যবাহী বিভিন্ন আকৃতির অর্ধসহস্রাধিক জাহাজ। বরিশাল, ঝালকাঠি, নলছিটি, কাউখালী, মাছুয়া এবং বাগেরহাটের সন্যাসী ও শরণখোলা পয়েন্টে এসব জাহাজ অবস্থান করছে। শ্যালা নদী অতিক্রম করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাবার অপেক্ষায় রয়েছে এসব জাহাজ।

চালকরা আরো জানান, জাহাজগুলোর অধিকাংশই এসেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। এগুলোতে রয়েছে বালু, সিমেন্ট, পাথর, ক্লিংকার এমনকি খাদ্য সামগ্রীও।

কাউখালীর সন্ধ্যা নদীপাড়ের কুমিয়ানা গ্রামে নোঙর করা জাহাজ ‘এমভি জালাল গিয়াস উদ্দীন’-এর মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম বাংলামেইলকে জানান, তিনি সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে সুপারক্রিট সিমেন্ট নিয়ে এসেছেন। যশোরের নওয়াপাড়া যাবার জন্য সন্ধ্যা নদীতে ১২ ডিসেম্বর থেকে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু শ্যালা নদীপথ বন্ধ থাকায় তার জাহাজের মত শত শত জাহাজ সন্ধ্যা, বলেশ্বর, কঁচা, সুগন্ধা নদীতে নোঙর করে রয়েছে।

প্রাণ গ্রুপের খাদ্য পরিবহনকারী ‘মোহনপুর-১’ জাহাজে থাকা ডেলিভারি ম্যান মো. শহিদুল্লাহ জানান, গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে কুমিয়ানা গ্রামের সন্ধ্যা নদীতে অবস্থান করছেন তিনি। তাদের জাহাজটি খুলনার ফুলতলা পৌঁছার উদ্দেশ্যে নরসিংদির ঘোড়াশাল থেকে ১৩ ডিসেম্বর ছেড়ে এসেছে।

এদিকে জাহাজের রসদ ফুরিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে জাহাজগুলোতে থাকা কয়েক হাজার কর্মচারী। তারা জানান, ৯ ডিসেম্বরের পর থেকেই তারা পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বাগেরহাটের বিভিন্ন নদীতে নোঙর করে রয়েছেন। ঘটনার পর প্রায় ৩ সপ্তাহের বেশি সময় তারা নদীতেই অবস্থান করায় তাদের সংগ্রহে থাকা খাবার ও টাকা পয়সা ফুরিয়ে গেছে। অন্যদিকে মালিকপক্ষও তাদের কোনো প্রকার অর্থ সরবরাহ করছে না। জাহাজের মাল খালাস না হওয়া পর্যন্ত মালিকপক্ষ তাদের কোনো প্রকার টাকা পয়সা সরবরাহ করবে না বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন জাহাজে কর্মরত কর্মচারীরা।

কর্মচারীরা আরো জানায়, আকার অনুসারে প্রত্যেক জাহাজে ৯-১৫ জন করে কর্মচারী রয়েছে। বর্তমানে তারা চরম অসুবিধার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এদিকে, সরেজমিনে কাউখালীর কুমিয়ানা গ্রামের সন্ধ্যা নদীতে গিয়ে ৪০ টিরও অধিক বিভিন্ন আকারের জাহাজ নোঙর করা অবস্থায় দেখা গেছে।

‘এমভি দেওয়ান-১’ এর সুকানি মো. শাহাদাৎ হোসেন জানান, তাদের কাছে চলার মত কোনো টাকা নেই। যা ছিল তা এতদিনে ফুরিয়ে গেছে। বর্তমানে দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে জাহাজের কর্মচারীরা জানান, তারা আগে ঘোষিয়াখালীর খালটি চলাচলের জন্য ব্যবহার করত। কিন্তু সেটিও ভরাট হয়ে চলাচল অনুপযোগি হওয়ায় সরকার শ্যালা নদীটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। কিন্তু বর্তমানে সে নদীও বন্ধ করে ঘোষিয়াখালী খালটি চালু করতে চাচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা ঘোষিয়াখালী খালটি পুরোপুরিভাবে খনন করে চলাচল উপযোগী করার পর শ্যালা নদী বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যথায় দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে বলে তারা মনে করছেন। তারা আরো বলেন, ‘শ্যালা নদী অন্তত পক্ষে ৪৮-৭২ ঘণ্টার জন্য খুলে দেয়া হোক, যাতে করে নদীর দুই প্রান্তে অপেক্ষমান জাহাজগুলো তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।

এদিকে জাহাজে থাকা বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা অতি দ্রুত শ্যালা নদীর সমস্যার সমাধান করে জাহাজে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিককে চরম ভোগান্তি থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনে নামবেন বলেও জানিয়েছেন ‘এমভি মেট্রোসেম-২’ এর চালক রাশেদুল ইসলাম। তিনি একজন জাহাজ শ্রমিক নেতা। তার দাবি রাজনৈতিক নেতারা শ্যালা নদী নিয়ে রাজনীতি করছেন। এতে তাদের ফেলা হয়েছে সীমাহীন ভোগান্তিতে।

Sundarban-ship-pic02 ট্যাংকার ডুবি: আটকা অর্ধসহস্র জাহাজ, শ্রমিক দুর্ভোগপ্রসঙ্গত, সহজে ও দূরত্ব কমাতে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নদীপথে পণ্য পরিবহনের জন্য ঝালকাঠির সুগন্ধা ও পিরোজপুরের সন্ধ্যা নদীকে সংযুক্তকারী গাবখান চ্যানেলটি ব্যবহার করা হয়। ব্রিটিশ সরকারের আমলে চ্যানেলটি খনন করা হয়েছিল যা বাংলার ‘সুয়েজ খাল’ নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য, গত ৯ ডিসেম্বর বাগেরহাটের মংলায় সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী সাউদার্ন স্টার-৭ ট্যাংকার ডুবে সাড়ে ৩ লাখ লিটারের বেশি ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে শ্যালা নৌপথে সব ধরনের জাহাজ চলাচল।






মন্তব্য চালু নেই