মেইন ম্যেনু

টাকা দিলেই বাংলাদেশিরা ভারতীয় নাগরিক!

বাংলাদেশ ও ভারত পৃথক দুটি ভূখণ্ড হিসেবে সাতষট্টি বছর অতিক্রম করছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃথক ভূখণ্ড হলেও ভূমির ছাপ দুই দেশেরই অনেক মানুষের মনে রয়ে গেছে, যা বিভিন্নভাবেই দেখতে পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক কালে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বাংলাদেশিদের ঘিরে মূল যে দুটি বিষয় আলোচনার তুঙ্গে আছে তার মধ্যে একটি, বর্ধমানে বোমাহামলায় বাংলাদেশির সংশ্রব। দ্বিতীয়টি, ভুয়া ভারতীয় বাংলাদেশী নাগরিক।

প্রথমটি সহজেই বুঝে নেয়া গেলেও দ্বিতীয়টি কিছুটা ঘোরালো। বর্ধমানে বোমাহামলায় বাংলাদেশির সংশ্রব ‘প্রমাণিত’ হওয়ার পর বিএসএফ নতুন উদ্যমে সীমান্তে আসা যাওয়া নজর করছে। এরই ধারাবাহিকতায়  মূলত উঠে এসে এসেছে দ্বিতীয় ইস্যুটি।

সম্প্রতি হিলি সীমান্তে টহল দেয়ার সময় বিএসএফ সদস্যরা এক যুবককে অনুপ্রবেশকারি সন্দেহে গ্রেপ্তার করে। যুবকের নাম প্রভাত মণ্ডল। পিতা অনুকূল মণ্ডল। বাড়ি দার্জিলিংএর নকশালবাড়ি। দেখা গেল, তার প্যানকার্ড নম্বর সিজিএসপিএম১১৯৩এ, ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর ডব্লিউবি-৫০১৩১৩১২১৫২১৪২ যা ইস্যু করা হয়েছে ২০১২ সালের ১৫ অগাস্ট। রেশন কার্ড নম্বর পিপি-৩৫৯৮৩৪ এমআর-সপ-নং-১৮। সে যে ভারতের নাগরিক, কাগজে কলমে কোন সন্দেহের অবকাশ রইলো না। তারপরও তাকে জেরার জন্যে আটক করলো বিএসএফ। কেননা, তাদের মনে হচ্ছিল, সে কিছু লুকোচ্ছে।

সে কি লুকিয়েছে তা পরবর্তীতে জেরায় বেরিয়ে আসে। জানা যায়, তার মূল নাম সইদুল ইসলাম। বাড়ি ঢাকা জেরার সাত্রাইল থানায়। ভারতে অনুপ্রবেশের পর ৬০,০০০ টাকার বিনিময়ে এসব কাগজ তৈরি করিয়ে নিয়েছে। দার্জিলিংয়ের অনুকূল মণ্ডল টাকার বিনিময়ে তার নকল পিতা হতে রাজি হয়েছেন এবং স্থানীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট করেছেন প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর। ঘটনা নিঃসন্দেহে চাঞ্চল্যকর।

এছাড়া আরও জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশলগ্ন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সঙ্গে ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় কোন সীমান্তবেড়া নেই। এর মধ্যে হিলিও অন্তর্ভূক্ত। সইদুলকে আটকের পর প্রহরার জোরদারের সুফলে আটক হন আব্দুল মজিদ পাটোয়ারী। তার কাছে পাওয়া গেছে আসামের হোজাল মহকুমার সুতারগাঁ গ্রামে বসবাসের ছাড়পত্র, আরও আছে যমুনামুখ বিধানসভাকে কেন্দ্র উল্লেখকারী ভোটার পরিচয়পত্র। জেরায় তিনিও নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করেছেন।

শুধুমাত্র গত এক সপ্তাহে বিএসএফ এমন ষাটজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা যায়। এদের অনেকেরই আছে ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকে সঞ্চয়ী একাউন্ট। আর অপরাপর জরুরী ছাড়পত্র তো আছেই। এসব বানিয়ে নিতে খরচ হয়েছে মাত্র ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা।






মন্তব্য চালু নেই