মেইন ম্যেনু

জেনে নিন, দেরিতে বিয়ে করলে যে সমস্যা গুলো হতে পারে আপনার !

বিয়েটা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে বলে আমরা জেনে থাকি। বিয়ে হওয়া কিংবা না হওয়ার বিষয়টি ভাগ্যেরই লিখন বলা চলে। একটা সময় ছিল, যখন নির্দিষ্ট বয়সের পর অবিবাহিত মানুষদের অন্যরকম চোখেই দেখতো। মেয়েদের বেলায় অভিভাবক থাকতো দুশ্চিন্তায়। এলাকাবাসীর দৃষ্টিতে অন্যরকম।

কিন্তু আজ পরিস্থিতিটা একেবারেই পাল্টে গেছে। আগেকার বয়সে বিয়ের রীতিটা এখন সমাজের চোখে বেমানান। অবিবাহিত রয়ে গেছে কিংবা বিয়ে হতে অনেকটা বয়স হয়ে যাচ্ছে কারো তাতে কোনো কথা নেই।

কিন্তু কোনো কারণেই হোক বিয়ে করতে পারছেন না এমন অবস্থায় মানুষের মানসিক অবস্থাটা বেশ অদ্ভুত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যখন সব বন্ধু ও ভাই-বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে এবং আপনাকে বিয়ের জন্য কথা শোনাচ্ছে লোকে এ অবস্থায় মানসিক ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটতে পারে।

কেউই বুঝতে চান যে, এই পরিস্থিতি একজন মানুষের জন্য বিয়ে কতটা পীড়াদায়ক। সেই কষ্ট থেকেই তাদের মনে জেগে ওঠে অদ্ভুত কিছু ভাবনা ও অনুভূতি।

একাকিত্ব হঠাৎ করে চেপে ধরে। আশেপাশের সবকিছু মিলিয়ে মন বিষণ্ণ হয়ে ওঠে আর সেটা রূপ নেয় একাকিত্বে। সবার মনের মানুষ আছে, আমার নেই- এমন ভাবনা নিঃসঙ্গতা বাড়ায়।

বন্ধু কিংবা ভাই-বোন সবার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর নিজেকে খাপছাড়া মনে হতে শুরু করে। মনে হয়, এখন আর আপনি তাদের জীবনের কেউ নন।

নিজেকে অযোগ্যও লাগে কখনো কখনো। মনে হতে পারে, যদি যোগ্যই হতাম তাহলে তো একজন মনের মানুষ থাকত। আমি অযোগ্য বলেই কেউ আমাকে পছন্দ করছে না।

অনেকেই মনে করেন যে, পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এটা খুবই স্বাভাবিক এই সমাজে। বিয়েতে দেরি হলে সবচাইতে বেশি কথা পরিবার থেকেই শুনতে হয়।

ভাগ্যের প্রতি অভিমান জন্মে অনেকেরই। মনে হয়, সবার ভাগ্য এত ভালো, আমার ভাগ্য এত খারাপ কেন? এ ভাগ্য নিয়েই কি আমার জীবন

একাকী জীবনে অনেকেই বেশ রুক্ষ্ম ও বদমেজাজি হয়ে ওঠেন। নিজের বিষণ্ণতা ও একাকিত্ব ঢাকার জন্য বদমেজাজকে সঙ্গী করে নেন নিজের অজান্তেই। সামাজিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলতে চান।

সামাজিক অনুষ্ঠান মানেই বিয়ে নিয়ে অহেতুক একগাদা প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া। কারো বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতে তো খুবই অস্বস্তিবোধ করেন বেশির ভাগ অবিবাহিত মানুষ।

এমন অবস্থায় একজন মনের মানুষ পাবার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। এ ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে। অনেক নারীই অন্যের স্বামী বা প্রেমিকের দিকে হাত বাড়ান। পুরুষ অন্যের স্ত্রীর প্রতি আগ্রহী না হলেও অন্যের প্রেমিকার প্রতি আগ বাড়িয়ে আগ্রহ দেখান।

কারো কারো মাঝে নিজেকে প্রদর্শন করার ক্ষমতা বেড়ে যায়। মনে করেন বিয়ে না হওয়াটা একটা ত্রুটি এবং সেই ত্রুটি ঢাকতে কিছুটা বাড়াবাড়ি প্রদর্শন করেন।

মনে রাখা উচিত, বিয়ে না হওয়াটা কোনো দোষের কারণ নয়। হতে পারে ভাগ্য, হতে পারে অন্য কিছু। তবে দোষ কখনোই হতে পারে না।

নিজেকে দোষী ভেবে শুধু শুধু মন খারাপ না করে নিজ নিজ পেশা বা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করুন। দেখবেন একদিন আপনার মনের মানুষটি হাতের মুঠোয়।






মন্তব্য চালু নেই