মেইন ম্যেনু

জেগে থাকা টিএসসিতে বিশ্বকাপ উন্মাদনা

বিশ্বকাপ খেলা মানেই জমজমাট টিএসসি। উপচে পড়া ভিড়ের নগরীতে তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) হয়ে ওঠে ঘুমন্ত শহরের নির্ঘুম এক প্রাণ। আর বিশ্বকাপ ফুটবল তাহলে তো কথাই নেই। সবাই সবার প্রিয়দলের সমর্থনে উৎসুক হয়ে থাকে সারাক্ষণ। রোনালদো, মেসি, নেইমার, মুলার, বেনজেমা, রোবেন, সুয়ারেজ, বালোতেল্লি, সানচেসের মতো খেলোয়াড়দের পায়ে বল আসতেই গলা ফাটিয়ে চিৎকারে কেপে ওঠে রাজধানীর পথ-প্রান্তর।

আর যখনই প্রিয় খেলোয়ার বল নিয়ে দৌঁড়াতে থাকে বিপক্ষদলের গোলবারে দিকে তখনই শত কণ্ঠে তার নাম ধরে স্লোগান আর ভুভু জেলার আকাশ কাপানো আওয়াজ তো আছেই।
একদলের দর্শক গোল গোল বলে চিৎকার করতে থাকে আর তখনই অন্যদলের দর্শকের মুখে থাকে হতাশার বিবর্ণ আবরণ। বহুল প্রত্যাশিত গোল হোক আর না হোক আনন্দ হবেই। তবে আনন্দ বেশি কম সেটা নিতান্তই নির্ভর করে দলের সমর্থকদের উপস্থিতিতে।

নিছক নিজেকে আনন্দ দেয়ার জন্যই খেলার গোল, ফাউল অথবা রেফারির পক্ষপাতিত্ব হলে চলে তুমুল স্লেজিং। আর বাকি সময় ছন্দময়ী আনন্দঘন স্লোগানের জোয়ারে ভাসতে থাকে টিএসসির প্রতিটি প্রাঙ্গণ।

রাজধানীর আর কোথাও খেলা দেখার এমন চিত্র চোখে পড়ে না। শুধুমাত্র ঢাবির প্রাণকেন্দ্র টিএসসি ছাড়া। সেটা ক্রিকেট কিংবা ফুটবল বিশ্বকাপ হোক না কেন। ঠিক যেন সমুদ্রের আচড়ে পড়া ঢেউ টিএসসির বুকে এসে পড়েছে। তবে দিন-রাত বড় কথা নয়, খেলা প্রেমীরা টিএসসিকে মাতিয়ে রাখবে এটাই নিপাতনে সিদ্ধ।

হাজারো মাইল দূরে ব্রাজিলে হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল। টাকা খরচ করে গ্যালারিতে বসে খেলা না দেখতে পারলেও একটুও দুঃখের ছায়া কাউকেই স্পর্শ করে না। কারণ ঠিক যেন গ্যালারিতে বসেই বিশ্বকাপের প্রতিটা ম্যাচ দেখছে ঢাবিসহ আশপাশের অনেকেই এমনটাই মনে হবে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে গেলে।

খেলা শুরু হওয়ার অনেক আগ থেকেই প্রিয় দলের পতাকায় সাজানো হয়েছে ঢাবি ক্যাম্পাস।

রাত যত গভীর দর্শকদের উচ্ছাস আর উদ্দীপনা ততই বেশি। এভাবেই প্রতিদিন চলছে টিএসসির নির্ঘুম রাত কাটানো। হাজারো দর্শকে ভরপুর, ঘুমাতে কারই বা ইচ্ছা জাগে। সবাই ঘুম বাদ দিয়ে ছুটে আসে খেলা উপভোগ করতে।

এবারে টিএসসির দুটি স্থানে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ দেখানো হচ্ছে। একটি টিএসসির মূল ফটকের সামনে অন্যটি টিএসসি সংলগ্ন হাকিম চত্বরে। রাত যত গভীরই হোক দুটি স্থানেই গমগম করে দর্শকে। যেন তিল ধরারও ঠাঁই নেই। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি খেলা দেখতে যোগ দেয় রিকশা ও সিএনজি চালকরা।

খেলা বুঝুক আর না বুঝুক সবাই আনন্দ করছে তাই তারাও তাদের দেখে আনন্দ করছে। আর খেলা শেষে ফলাফল যাই হোক মিছিল করতে করতে হলে ফেরা অথবা আনন্দ মনে রিকশা অথবা সিএনজি চালিয়ে গন্তব্যে ফিরে যাওয়া এটাই প্রতিদিনের চিত্র। কেউ আনন্দ আর কেউবা হতাশা, ক্ষোভ নিয়ে ফিরে যাওয়া।

টিএসসির বড় পর্দা নিয়মিত খেলা দেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ। ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করেন ব্রাজিল। তিনি টিএসসির বড় পর্দায় খেলা দেখা সম্পর্কে তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘আসলে বড় পর্দায় খেলা দেখলে মনে হয় যেন ব্রাজিলের মাঠেই আছি। তার চেয়ে বড় কথা হলো এখানে প্রায় সবাই আসে এবং দু দলেরই সমর্থক থাকে ফলে খেলা নিয়ে আনন্দও হয় বেশি। খেলা মানেই তো বিনোদন আরও যদি ফুটবলের মতো জনপ্রিয় খেলা হয়, তাহলে তো সবাই মিলে উপভোগ না করে কি থাকা যাই?’

তবে নিয়মিত যারা খেলা দেখে ব্রাজিল, আজেন্টিনা, জার্মান, ইতালি হল্যান্ডের খেলার দিন দর্শকের উপস্থিতি বেশি থাকে বলেও তিনি জানান।

এ সম্পর্কে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বাংলামেইলকে বলেন, ‘প্রথম দিন ছোট পর্দায় খেলা দেখে মজা পাইনি তাই এখন থেকে টিএসসিতে অনেকের সঙ্গে খেলা দেখি। খেলার ফলাফল যাই হোক একসঙ্গে খেলা দেখার আনন্দটাই মুখ্য।’

সারা বিশ্বে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত। সেই দেশটির অবস্থানই বিশ্ব মানচিত্রের একেবারেই এককোণে। বলা যায় প্রতিবেশী দেশের চাপে কোণঠাসা একটি দেশ। খেলাভক্ত এ দেশটির কথা হয়তো সমর্থন করা দেশটির খেলোয়াড়রাই এখনো ভালো করে জানেন না এমন একটি দেশে তাদের অগণিত ভক্ত রয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই