মেইন ম্যেনু

বিএনপির অভিযোগ

জিহাদকে উদ্ধারে সরকার আন্তরিক ছিল না

শিশু জিহাদকে উদ্ধারে সরকার আন্তরিক ছিল না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। তার মৃত্যুর জন্য সরকারকে দায়ী করেছে দলটি।
রোববার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী বলেন, ‘রাজধানীর শাহজাহানপুরে কলোনি মৈত্রী সংঘ মাঠের কাছে পানির পাম্পের মধ্যে চার বছরের শিশু জিহাদ পড়ে যাওয়া এবং প্রায় ২২ ঘণ্টা পর মৃত শিশুকে উদ্ধার রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষের ন্যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলও বেদনার্ত ও শোকাভিভূত। এই উদ্ধার অভিযান নিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্য শুধু বিভ্রান্তিকরই নয় বরং উদ্ধার প্রচেষ্টা ছিল লোক দেখানো। উদ্ধার প্রচেষ্টায় সরকারি শৈথিল্য দেখে মনে হয়, সরকার শিশুটিকে বাঁচাতে আন্তরিক ছিল না। কারণ সমগ্র ঘটনাটি সরকার নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহার করেছে কী না এই নিয়ে জনমনে বিশাল প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’
জিয়াদ2তিনি বলেন, ‘ফায়ার ব্রিগেড উদ্ধার অভিযান বন্ধ করার পর কীভাবে পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্থানীয় জনগণের প্রচেষ্টায় শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হলো? কেন শিশু জিহাদের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের পুলিশী হয়রানির শিকার হতে হলো? গতকাল বিকেলে শিশুটির বাবা নাসিরউদ্দিন ফকিরকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় কারা? তখন থেকে তার আর কোনো হদিস মিলছে না। শিশু জিহাদকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবার যখন উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিশেহারা ঠিক সেই মুহূর্তে শুক্রবার রাত তিনটায় কেন শিশুটির বাবাকে থানায় ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়? সামগ্রিক ঘটনায় মনে হয় নলকূপে জিহাদ প্রাণ হারিয়ে লাশ হয়ে যাওয়ার জন্য সরকারই দায়ী।’
জিয়াদসংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ‘জিহাদ উদ্ধার অভিযানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট লোকজনের রহস্যময় ভূমিকা জনমনে গভীর সংশয়ের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এই অবৈধ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট লোকজনদের শিশু জিহাদের উদ্ধার অভিযানে ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিএনপি শিশু জিহাদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে এবং তার শোকার্ত পিতামাতাসহ আত্মীয়স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে প্রায় চারশ ফুট গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে যায় শিশু জিহাদ। এর পর থেকে গতকাল শনিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের অভিযানের পরও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণার কয়েক মিনিট পরই বেসরকারিভাবে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক যুবক শিশুটিকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পরই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তখন চিকিৎসকরা বলেছিলেন শিশুটিকে উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে সে মারা গেছে। অথচ ময়না তদন্তের পর বলা হয় শিশুটি পড়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই মারা গেছে।






মন্তব্য চালু নেই