মেইন ম্যেনু

ছেলেদের ঢাবি-মেডিকেলে পড়াচ্ছেন রিকশাচালক

মানুষের চোখ এক স্বপ্নের আশ্চর্য সংসার। যে চোখ শুধু স্বপ্নই দেখে না, তাকে সাফল্যের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা চিনে দেয়। হোকনা জাকির হোসেনের মতো একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। অভাবের পোড় খাওয়া চোখে তবু নিরন্তর নির্দোষ স্বপ্ন দেখতেই ভালবাসে জাকির হোসেন।

তাই রিকশা চালিয়ে পরিবার পরিচালনার পাশাপাশি তিন ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রিকশাচালক জাকির হোসেন।

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দাসেরহাট এলাকা থেকে এসে গত একযুগ ধরে জেলার চাটখিল পৌরসভায় পরিবার নিয়ে বসবাস করা সফল বাবা রিকশা চালক জাকির হোসেনের সঙ্গে (৫৫) কথা বলছেন আমাদের নোয়াখালী প্রতিনিধি রিয়াদ।
জাকির হোসেন জানান তার কষ্ট ও সুখের অনুভূতি, অতি দরিদ্র পরিবারে জন্ম তার। হাতিয়ায় নিজেদের ছোট্ট একটা বসত ভিটে ছাড়া কোনো জায়গা জমি নেই। নিজে কোনো পড়াশোনা না থাকলেও ইচ্ছা ছিল নিজের সন্তানদের পড়াশোনা শিখিয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবেন। সেই ইচ্ছাকে বাস্তব করতে পাশে পান তার সহধর্মিণী আলেয়া বেগমকে।

তিনি নিজ এলাকায় মানুষের জমিতে বর্গা চাষ করে ও বিভিন্ন লোকের কামলা খেটে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ছেলেদের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে গেছেন। টাকার অভাবে বন্ধ হতে দেননি ছেলেদের পড়া লেখা। দিনদিন ছেলেরা উপরের ক্লাসের দিকে উঠছে আর তাদের জন্য খরচও বাড়ছে। এমন অবস্থায় টিকতে না পেরে ছেলেদের লেখা পড়া ও পরিবারের চাহিদা মেটাতে ভালো উপার্জনের জন্য জেলার চাটখিলে এসে রিকশা চালনো শুরু করেন তিনি।

প্রতিদিন ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে রিকশার পাডেল ঘুরিয়ে যা আয় হয় তার সামান্য অংশ নিজে পরিবারের জন্য খরচ করে বাকি টাকা ছেলেদের লেখাপড়ার পিছনে ব্যয় করছেন তিনি।

জাকির হোসেনের মোট ৫ ছেলে, বড় ছেলে রাসেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ইংরেজিতে অনার্স, মেজ ছেলে আজাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চাবি) দর্শনে অনার্স, আরেক ছেলে ফরিদ কিছুদিন আগে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ও এক ছেলে স্থানীয় একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ছে। অপর ছেলে চাটখিল বাজারে ছোট একটা ব্যবসা শুরু করছে মাত্র।

তিনি আরো জানান, ছেলেরা একাধিকবার তাকে রিকশা চালানো ছেড়ে দিতে বলছেন। তাই তিনিও শিগগিরই রিকশা চালানো ছেড়ে দেবেন বলে ভাবছেন।






মন্তব্য চালু নেই