মেইন ম্যেনু

চাটমোহরে বানিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ হচ্ছে লিচু : বিক্রি হয়েছে কোটি টাকা

পাবনার চাটমোহরে বানিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ হচ্ছে লিচু। বিক্রি হয়েছে কোটি টাকা। উপজেলার কয়েকটি গ্রাম লিচু এলাকা হিসেবে সু-খ্যাতি অর্জন করেছে। লিচু এলাকা হিসেবে খ্যাত রামচন্দ্রপুর, জালেশ্বর, নতুনপাড়া, মন্ডলপাড়া, গুনাইগাছা, মল্লিকচক, পৈলানপুর, জাবরকোল গ্রাম।

এ কয়েকটি গ্রামের মাঠের পর মাঠ আবাদ হয়েছে লিচু। লোভনীয় টসটসে লাল লিচু চড়া দামে বিক্রি হলেও বাগান চাষীদের মুখে হাসি নেই। ব্যাপক শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে এ অঞ্চলের কিছু কিছু লিচু চাষী ও ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হয়েছে।

চলতি বছরে লিচুর মুকুল ব্যাপক আসাতে লিচু চাষীরা মনে করেছিলেন এবার বাম্পার ফলন হবে। এ জন্য শতশত বাগান মালিকরা লিচু উচ্চ দামে বিক্রির জন্য বাগানে প্রচুর যতœ নিয়েছিলেন। কিন্তু এর সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে প্রতিয়মান হয়েছে। পরপর ৩/৪ বার ব্যাপক শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে লিচুর বাগান লন্ডভন্ড করে দেয়। এতে বিভিন্ন বাগানের প্রায় পাঁচশ গাছ ভেঙ্গে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

যার কারণে তারা বাগান ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করতে পারেনি। এ অঞ্চলের লিচু বাগান যারা পূর্বে অগ্রিম টাকা দিয়ে কিনেছেন। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ বাগান গুলো তাদের পুরোটাই লোকসান গুনতে হয়েছে। জালেশ্বর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ বাগান মালিক আবু হোসেন, হোসেন আলী, জহুরুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, রামচন্দ্রপুর গ্রামের আমুদ আলীসহ অনেকের বাগান ঝড়ে ভেঙে গেছে। তারা বাগান বিক্রি করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

তাছাড়া যে সকল বাগান ৩/৪ লাখ টাকায় লিচু বিক্রি হতো, সে সমস্থ বাগান গুলো মাত্র ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত বারে যে বাগান ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল, সে সকল বাগান গুলো মাত্র ৮/১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ বাগান মালিকেরা জানিয়েছেন।

গত বছরে এ অঞ্চল থেকে দুই কোটি টাকা লিচু বিক্রি হলেও এবার কত টাকা বিক্রি হয়েছে তার সঠিক তথ্য বাগান মালিকেরা দিতে পারেনি। আবার কেউ কেউ বলছেন এ অঞ্চলে প্রায় কোটি টাকা লিচু বিক্রি হয়েছে।

তবে বাগান মালিকদের দাবি, দফায় দফায় শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে যদি বাগানের ক্ষতি না হতো, তাহলে এবারও প্রায় দুই কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভবনা ছিল। স্থানীয় লিচু চাষীরা জানান, এ অঞ্চলে ব্যাপক পরিমানে লিচুর চাষাবাদ হলেও সর্ব প্রথম কে লিচুর চাষাবাদ করেছিল তার সঠিক ইতিহাস কেউ বলতে পারেনি। তবে যতটুকু জানা যায়, উপজেলার জালেশ্বর মন্ডলপাড়া গ্রামের প্রয়াত খোকা মন্ডল নামে এক ব্যক্তি প্রায় ৩৫ বছর পূর্বে প্রথমে লিচুর বাগান করেন। তার ঐ ধারাবাহিকতায় পর্যায় ক্রমে লিচু আবাদের চাষাবাদ বাড়তে থাকে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বানিজ্যিক ভাবে লিচু চাষাবাদ হচ্ছে। এ অঞ্চলের দেশি লিচু চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানান, চাটমোহর উপজেলায় শুধু গুনাইগাছা এলাকাটিতেই প্রায় ৩’শ ৫০ হেক্টর জমিতে লিচু বাগান গড়ে উঠেছে। এলাকাটি এখন লিচু গ্রাম হিসাবেই মানুষ বেশি চেনে। এদের দেখে লিচু চাষ উপজেলার অন্য সব উঁচু এলাকাগুলোতেও বিস্তৃত হয়েছে।

লিচু চাষী আনিছুর রহমান ও জামাল হোসেন জানান, এ মৌসুমে লিচু রক্ষা করতে রাতভর পাহাড়া দিতে হয়। অন্যস্থায় বাদুরের ঝাঁক এসে লিচু খেয়ে সাভার করে ফেলে। বাগান মালিক নাসির উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, ওয়াজেদ আলী মাষ্টার, লিয়াকত আলী পেন্টু, তায়জল সরদার, মোহাম্মদ আলী, মাসুদ আলী, শামসুল আলম, গোলাম মোস্তফা, খলিলুর রহমান, আঃ কুদ্দুস, গোলাপ হোসেনসহ অনেকেই লিচু বাগান বিক্রি করে কম-বেশি সফলতা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিশিষ্ঠ ব্যাপারী আবুল হোসেন জানান, এবার কালবৈশাখী ঝড়ে লিচুর বেশি ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া এ অঞ্চল থেকে দুই কোটি টাকার উপরে লিচু বিক্রির সম্ভাবনা ছিলো। দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যাপারী এসে লিচু কেনার জন্য ভীড় জমাছে। প্রতিদিন ট্রাক ট্রাক ভর্তি লিচু ব্যাপারীরা কিনে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, কমিল্লা, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে।

এবার নিম্ন শ্রেণীর লিচুর হাজার ১ হাজার থেকে ১২’শ টাকা এবং ভালো লিচু ১৮’শ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রওশন আলম বলেন, লিচু চাষ লাভজনক বলে প্রতি বছরই বাগানের সংখ্যা বাড়ছে।






মন্তব্য চালু নেই