মেইন ম্যেনু

কান উৎসব

চমকে যাওয়া শেষ অধ্যায়

শেষ হয়ে গেল ৬৮তম কান চলচ্চিত্র উৎসব। এবারের উৎসব নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কারণ উৎসবে অংশগ্রহণকারী ছবিগুলোর মধ্যে চলছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। আগে থেকে কোনো ধারণা করা যাচ্ছিল না বিজয়ীদের ব্যাপারে। সবাই শুধু ‘প্রত্যাশা’ করেছেন। তাই নাটকীয় এক রাতের গল্পের প্লট ছিল কান উৎসবের শেষ ধাপ। আর তাই সবাইকে চমকে দিয়ে পাম দ’র [স্বর্ণপাম] জিতল জ্যাক অদিয়ার পরিচালিত ফরাসি ছবি ‘ধিপান’। ফ্রান্সে পালিয়ে আসা এক তামিল গেরিলাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ছবির গল্প। একই সঙ্গে গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্য বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী শেষ হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো ১২ দিনের মহাযজ্ঞ।

এবারের কানে আলোচনায় ছিল অর্ধ ডজন ছবি। সেই তুলনায় ‘ধিপান’ নিয়ে আলোচনা ছিল কম। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে ‘ধিপান’ই হয়েছে সেরা। পুরস্কার নেওয়ার সময় জ্যাকের সঙ্গে ছিলেন ‘ধিপান’ ছবির দুই অভিনয়শিল্পী অ্যান্থনিথাসান জেসুথাসান ও দক্ষিণ ভারতের মঞ্চ অভিনেত্রী কালিয়েশ্বরী শ্রীনিবাসন। স্বর্ণপাম গ্রহণ করে অ্যান্থনিথাসানকে ধরে সামনে নিয়ে আসেন ৬৩ বছর বয়সী ফরাসি নির্মাতা জ্যাক। অ্যান্থনিথাসান সত্যিকারেরই তামিল যোদ্ধা ছিলেন। স্বর্ণপাম জয়ের পেছনে তার অবদানের কথা গুরুত্বের সঙ্গে বোঝালেন জ্যাক। তাকে তাই যথেষ্ট সম্মান দিলেন তিনি।

এবার মূল প্রতিযোগিতার বিভাগ ছিল মোট ১৯টি ছবি। কোয়েন ভ্রাতৃদ্বয় ও ফরাসি অভিনেত্রী সেসিল ডি ফ্রান্স স্বর্ণপাম তুলে দেন জ্যাকের হাতে। এর সুবাদে গাস ফন স্যান্ট, ন্যানি মোরেত্তি, পাওলো সরেনতিনোর মতো খ্যাতিমান নির্মাতাদের পেছনে ফেলে নিজের দেশেই সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কারটি রাখার গৌরব অর্জন করলেন তিনি।

আনন্দ-বেদনার অশ্রু

চমক শুধু ‘ধিপান’ ছবির বিজয়ের মধ্য দিয়েই হয়নি। অভিনয়শিল্পী নির্বাচনেও ছিল যথেষ্ট চমক। স্টেফানি ব্রিজের পরিচালনায় ‘দ্য মেজার অব অ্যা ম্যান’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার বাগিয়েছেন ভিনসেন্ত লানদন। দীর্ঘদিন বেকার থাকার পর পরিবারের কথা ভেবে সুপার মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মীর চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মচারীর ভূমিকায় দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন তিনি। নাম ঘোষণার পরপরই তার চোখ আনন্দে ভিজে ওঠে। মঞ্চে এসে পুরস্কার গ্রহণের আগে আবেগাপ্লুত ৫৫ বছর বয়সী এই ফরাসি অভিনেতা একে একে সব বিচারককে জড়িয়ে ধরেন। তার হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন মার্কিন অভিনেত্রী মিশেল রড্রিগেজ। অভিনেত্রীদের মধ্যে সেরা পুরস্কার ভাগাভাগি করেছেন আমেরিকার রুনি মারা ও ফ্রান্সের ইমানুয়েলে ব্যাকো। টড হায়েন্স পরিচালিত ‘ক্যারল’ ছবিতে উচ্চাভিলাষী আলোকচিত্রী ও সমকামী চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় রুনিকে এনে দিয়েছে এই পুরস্কার। আর চমকটা এখানেই। ৩০ বছর বয়সী এই মার্কিন অভিনেত্রী নিজেও ভাবেননি পুরস্কার পাবেন। সে জন্যই অনুপস্থিত ছিলেন সমাপনীতে।

এদিকে মিওয়েনের ‘মাই কিং’ ছবিতে স্বামীভক্ত স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন ইমানুয়েলে ব্যাকো। অনুভূতি জানাতে গিয়ে কান্নায় বাকরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছিল তার কণ্ঠ। ৪৭ বছর বয়সী এই ফরাসি অভিনেত্রী-নির্মাতা পরিচালিত ‘স্ট্যান্ডিং টল’ ছবির মধ্য দিয়েই ১৩ মে এবারের উৎসবের উদ্বোধন হয়।

বিজয়ীরা আনন্দে চোখের জল ফেলেছেন। কিন্তু যারা আশাহত হয়েছেন তারাও মনে মনে কেঁদেছেন। তাদের চোখের ভাষাই বেদনা ছড়িয়ে দিয়েছে চারদিকে।

নাৎসিদের গণহত্যা এখনো ঘৃণার

নাৎসি বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যে গণহত্যা চালিয়েছিল, তা এখনো যথেষ্ট ঘৃণার। আর তাই এ বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে চমকে দিয়েছেন হাঙ্গেরিয়ান নির্মাতা লাজলো নেমেস। তার ‘সান অব সাউল’ সমালোচকদের রায়ে প্রতিযোগিতা বিভাগে আগের দিন ফিপরেস্কি পুরস্কার জেতার পর এবার উৎসবের দ্বিতীয় সম্মানজনক পুরস্কার গ্র্যাঁ প্রিঁ জিতেছে। আর এ ছবির মাধ্যমে কান উৎসবে হাঙ্গেরির প্রথম কোনো ছবি অংশ নিয়েছিল।

আরও পুরস্কার

জুরি প্রাইজ গেছে ইওর্গেস লানটিমসের হাতে। ‘দ্য লবস্টার’ ছবিটি বানিয়ে পুরস্কার জিতলেন এই গ্রিক পরিচালক। ৪৫ দিনের মধ্যে জুতসই সঙ্গী খুঁজে না নিলে জন্তুতে রূপান্তর হওয়া মানুষের কাল্পনিক সমাজকে দেখিয়েছেন তিনি।

মার্শাল আর্ট নিয়ে ‘দি অ্যাসাসিন’ ছবিটি বানিয়ে তাইওয়ানের হো সিয়াও সিয়েন নিজের নামের পাশে লিখিয়েছেন সেরা পরিচালকের সম্মাননা। ঘরে ঘরে গিয়ে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষকে সেবাদান ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার হৃদয়ছোঁয়া চিত্রনাট্যের জন্য পুরস্কার জিতেছেন মেক্সিকোর মিশেল ফ্রাঙ্কো। ‘ক্রনিক’ নামের ছবিটি তারই বানানো।

জীবনের প্রথম ছবির জন্য ক্যামেরা দ’র পুরস্কার জিতেছেন কলম্বিয়ার সিজার অগাস্তো অ্যাসভেদো [ল্যান্ড অ্যান্ড শেড]।

পুরস্কার প্রদানের পরপরই শুরু হয় সমাপনী ছবি লুক জ্যাকের ‘আইস অ্যান্ড দ্য স্কাই’। যাকে ঘিরে এই ছবি, সেই পরিবেশবিজ্ঞানী ক্লদ লরিয়াস লাল গালিচা মাড়িয়ে গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে ঢুকতেই সবাই দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান। উদ্বোধনীর মতো সমাপনী অনুষ্ঠানও উপস্থাপনা করেন ফরাসি অভিনেতা ল্যামবার্ট উইলসন।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই