মেইন ম্যেনু

ঘুণ ধরেছে মনের কোণে..

বিশ্বাস-অবিশ্বাসের অন্তরালে বাসা বেধেছে সন্দেহ নামক ঘুণপোকা। কারণে আকারণে সঙ্গীর মনের সন্দেহ আপনার জন্য হয়ে উঠছে পীড়াদায়ক। ঠিক তেমনি আপনার সন্দেহও তার জন্য কঠিন কষ্টদায়ক হচ্ছে। মনের ঘরে ঘুণপোকার একবার আশ্রয় মানেই মানসিক যন্ত্রণার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া।

সন্দেহের তীব্রতা অস্বাভাবিক অসুস্থতার পর্যায়েও হতে পারে। ইংরেজিতে একে ডিলিউশন প্যারানয়েড সাইকোসিস এবং মরবিড জেলাসি বলে। এই অসুস্থ পর্যায়ের সন্দেহে কোনো বাস্তব প্রমাণ থাকে না, কোনো যৌক্তিক কারণও থাকে না। তবে ব্যক্তির মনের মধ্যে এই সন্দেহ মাসের পর মাস বেঁচে থাকে অটলভাবে।

সাধারণভাবে সন্দেহের বাতিক যেকোনো মানুষের মধ্যে যেকোনো সময়ে এবং যেকোনো কারণে আসতে পারে। বিয়ের আগে প্রেমের সময় বা বিয়ে-পূর্ববর্তী সময়ে সন্দেহ আসার সুযোগ থাকে। বিয়ের আগে তাদের সম্পর্কে কোনো আইনগত বা সামাজিক রূপ থাকে না। তবে বিয়ে-পরবর্তী যে সন্দেহ জন্ম নেয়, তা দুজনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। সুনির্দিষ্ট বাস্তব কোনো প্রমাণ না থাকলে অকারণে সন্দেহ করবেন না। সন্দেহমূলক কোনো প্রশ্নও কিন্তু সম্পকের্র জটিলতা সৃষ্টি করে। যদি সুনির্দিষ্ট বাস্তব প্রমাণ থাকে, তারপরও আরেকটু সময় নিন, বিষয়টা ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করুন।

আপনার মনের সন্দেহ শুধুই সন্দেহ, নাকি সন্দেহ বাতিক তা বোঝার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে মনোচিকিৎসকের সাহায্য নিন। এক্ষেত্রে সঙ্গীর প্রতি সন্দেহের বিষয়টি নিভর্রযোগ্য কারো সঙ্গে খুলে বলতে পারেন। এতে মন হালকা হবে। অসুস্থ পর্যায়ের সন্দেহ হলে অবশ্যই সাইকিয়াট্রিক চিকিৎসক দেখাতে হবে ও ওষুধ সেবন করতে হবে। সন্দেহ বাতিক নারী-পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। ‘সন্দেহ’ একটি চিন্তার পদ্ধতিগত জটিলতা বা রোগ, এটি নারী-পুরুষ যারই হয়ে থাকুক না কেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ।






মন্তব্য চালু নেই