মেইন ম্যেনু

খালেদা জিয়ার চোখে ছানি পড়েছে: শাহজাহান খান

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার চোখে ছানি পড়ে গেছে। এজন্য আমাদের উন্নয়ন চোখে পড়ে না।’
শনিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএর ল্যান্ডিং স্টেশন এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর ৪.৪৮ কিলোমিটার তীর রক্ষায় বাঁধ এবং ওয়াকওয়ের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বেগম খালেদা জিয়াকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শাহজাহান খান বলেন, ‘জিয়াউর রহমান, আব্দুর সাত্তার, খালেদা জিয়া মিলে ১৬ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, তাদের সময়ের চেয়ে আমরা বিগত ৬ বছরে যদি ১৬ গুন বেশী উন্নয়ন না করে থাকি তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।’
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপি জামায়াত-শিবিরকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে বোমা মেরে মানুষ হত্যা করে। কোরআন হাদিসের বই পুড়িয়ে, ৬০ হাজার গাছ কেটে, রেললাইন উপড়ে ফেলে মানুষকে হত্যা করে শেখ হাসিনাকে উৎখাত করতে চেয়েছিল। এটা তাদের পুরনো খাসলত (স্বভাব)।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মের নামে যারা আন্দোলন করে তাদের নেতা হলেন খালেদা জিয়া। তিনি জামায়াত-শিবিরকে সঙ্গে নিয়ে আবারও একাত্তরের ন্যায় পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।’
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি একবার বলছে, তারা অহিংস আন্দোলন করছে। তাহলে কি তারা ২০১৩ সালে সহিংস আন্দোলন করতে চেয়েছিল। তারা নতুন করে ঢাল তলোয়ার নিয়ে মাঠে নেমে বাংলাদেশের মানুষকে সন্ত্রাসী বানানোর চেষ্টা করছে।’
তবে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে শাহজাহান খান বলেন, ‘ঢাল তলোয়ারের ভয় আমাদের দেখাবেন না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করার ক্ষমতা আমাদের আছে।’ এজন্য তিনি জনগনকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার স্বচ্ছ হচ্ছে বিধায় তারা কোনো সুস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেয়নি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পাপমুক্ত করতে হবে।’
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘যদি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবৈধ হতো তাহলে সিপিএ, আইপিইউ এই দুটি সংস্থার সভাপতি পদে কি করে একজন স্পিকার ও একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।’
আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কোনো উন্নয়ন হয়নি। খালেদা জিয়ার অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান আমাদের দেশকে ভিক্ষুকের জাতি হিসেবে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। আমরা ক্ষমতায় এসে ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি। শ্রীলঙ্কায় ৫০ লাখ টন চাল রপ্তানির প্রক্রিয়া চলছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। মাথাপিছু আয় ৫২৯ মার্কিন ডলার থেকে ১ হাজার ১৯০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।’
যারা নদী দখল ও দূষণ করে তাদের এই যুগের রাজাকার আখ্যা দিয়ে শাহজাহান খান বলেন, ‘কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পাউবোর জায়গা নিয়ে একটি আধুনিক ইকোপার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকার চারপাশে ২১ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে যাতে করে কেউ নদী দখল না করতে পারে। ঢাকায় বিনোদনের জায়গার অনেক অভাব রয়েছে। সবাইকে আশুলিয়া নয়তো হাতিরঝিলে ছুটতে হয়। শ্যামপুরের মতো আরও বেশ কিছু ইকোপার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।’ এছাড়া শহরের ৫নং খেয়াঘাটটি ইজারাদার মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (প্রকৌশল) মফিজুল হকের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. সোহরাব হোসেন শেখ, বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (অর্থ) মনিরুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই