মেইন ম্যেনু

খারাপ ছেলের নাম তুলশিপাতা !!

“খারাপ-ছেলে” নামে কি পৃথিবীতে কেউ আছে? আচ্ছা কয়টা দোষ থাকলে একটা ছেলেকে খারাপ বলা যায় বলুন তো? আমায় একছেলে সেদিন অনুরোধ করেছে তার কি কি দোষ আছে খুঁজে বের করে দিতে। অনেক ভাবলাম, তবে বলার মতো আমি কোন দোষ খুঁজে পেলাম না। তাহলে কি সে দুধে ধোয়া তুলশি পাতা? এটাও হতে পারে না। ভালই কনফিউশনে পড়লাম। আমার মনে হয় ভাল খারাপ পরিমাপ করার মাপকাঠি থাকার দরকার। যেমন, ছোট হোক বড় হোক ১টা আলুর অভাবে, ৩টি আলু হলেও কিন্তু বলা যায় না এখানে এক-হালি আলু আছে। তেমনি খারাপ ছেলেরো একটা মাপকাঠি থাকতে হবে। উদাহরন: ২টি মিথ্যে, ৫টি হিংসা, ১টি ধর্ষন, ৩টি মারামারি করলে একটি ছেলেকে আমরা খারাপ-ছেলে বলবো।

যাই হোক সে দুধে ধোয়া তুলশি পাতার কাছে ফিরে আসি। আচ্ছা ছেলেটার নাম দিই তুলশি পাতা। এখন সে কি দুধে ধোয়া না মুতে ধোয়া পাঠক সিদ্ধান্ত নিক। প্রথমেই মনে হলো তার সবচে বড় দোষ, সে কথা কম বলে। বন্ধুরা আড্ডা দিচ্ছে- সে শুধু শুনছে, হাসির কথায় ঠোট বাঁকাচ্ছে, কান্নার কথায় কপাল কুচকাচ্ছে। তবু টু শব্দ করছে না। বন্ধুমহলে তাই তার অতোটা দাম নাই। মাঝে মাঝে তাকে গুতা দিয়ে কেউ টিপ্পনী কাটে-“কিরে গরু কথা কস না কেন? মুখের মধ্যে কি ঢুকাই রাখছস?” তুলসী পাতা তখন একটু আওয়াজ করে হাসবে আর ভ্যাবলার মতো বলবে-“সবাই যদি বলে, শুনবে কে?” বন্ধুরা মুখে গরু বললেও তখন মনে মনে তুলশি পাতাকে গাভী বলে ধরে নেয়। এই সেই গাভী না, লাত্থি না দেয়া, দুধ দেয়া বিদেশী গাভী। তাই “কম কথা বলা” আমার কাছে মনে হলো এটা তুলশী পাতার বড় দোষ। অফিস থেকে শুরু করে সংসার পর্যন্ত কথা কম বলা মানুষের দাম নাই। চাপা যিনি মারতে পারেন, ইনিয়ে বিনিয়ে ঢং করে যিনি গাল গপ্পো মারতে পারেন, চটাং পটাং বাক্যে যিনি বকর বকর করতে পারেন তিনিই সমাজে স্মার্ট, সর্বজন গৃহীত। যেই তুলশি পাতাকে আমি মুত্রে ধুতে গেলাম তখনি শাস্ত্রের কথা মনে হলো-কম কথা বলা লোকের শত্রু কম, স্বল্পবাসীরা বুদ্ধিমান হয়। তখনি “কথা কম কাজ বেশি. তারে আমি ভালবাসি” নীতিতে তুলশি পাতার জন্য দুধ খুঁজতে লাগলাম। এবার মনে হলো তুলশি পাতার আরেকটি দোষের কথা। আসলে একটা বড়সড় গাধা, যাকে বলে অলসের হাড্ডি। সুযোগ পেলেই ঘুম। জন্মের পর দুনিয়াতে সে তিনটা কাজ নিয়ে এসেছে- খাওয়া, হাগা আর ঘুম। তার আশে পাশের মানুষের অভিযোগ, সে নাকি চরম পরিমানে আনসিনসিয়ার। আমার কাছে অবশ্য তাকে অতোটা আনসিনসিয়ার মনে হয় না। তার যে কাজটি ভাল লাগে সে কাজটি সে ভালভাবেই করে। তার যেটি ভাল লাগে না সে সেটি করে না। মাঝে মাঝে তাকে আমি বলি, “তুমি আমার অমুক কাজটি করে দাও তো।” কিসের কি, তখন সে লাপাত্তা। হারিকেন লাগিয়েও খুঁজে পাই না। যেই তুলশি পাতায় মুত্র লাগাবো তখনি ভাল একটা কাজ নিয়ে উপস্থিত হয়, “দেখো, তো এটা কেমন হলো?” তার মাথায় হেব্বী মাল আছে মাইরি। দারুন সব কনসেপ্ট এলোমেলো চুলের ভাজে কিলবিল করে। একদিন তুলশি পাতার মুখে বিড়ির গন্ধ। খাইছেরে, এতো বদমাইশ নিকলা। শিওর মদ-গাঞ্জা খাওয়া নষ্ট ছেলে। তুলশি পাতা ছিড়ে ফেলতে হবে। রাতের আকাশে ফুটফুটে চান্নি ফোটে। একটু পরপর সে চান্নি ছোট মেঘের দল ঢেকে দিচ্ছে। হঠাৎ করে মেঘগুলোকেও ভাল লাগতে শুরু করলো। মেঘগুলো না থাকলে হয়তো চাঁদটা চোখ ধাধিয়ে দিতো। বিড়িকে থোড়াই কেয়ার, মুত্র বিসর্জনের আগে অন্য কিছু বিসর্জন দিতে মন চায়। ভালবাসা বিসর্জন! তাহার মুখ খানি মাশাল্লাহ চরম খারাপ। মুখ মন্ডল খারাপ নয়, মুখ নি:সৃত খিস্তির কথা বলছি। কথা বলে না বলে না, যখন বলে বানী হয়ে যায়, পুরাই রেপিষ্ট ক্যারেকটার। একবার রাস্তায় একটা মেয়ের পায়ে কাটা ফুটলো, দৌড়ে এসে মেয়েটির পায়ের সেবায় লেগে গেল। মুখ পোড়া বাদরের মুখে রা নেই, কিন্তু মনে সুখপাখি বাকুম বাকুম করছে। মেয়েটাও কম যায় না, হাসে আবার হাসে না, হাত ধরে ধরে আবার ধরে না। মুখে শালা বানী দিলেও আসল সময়ে কিছু বলতে পারে না। কই আইলাবিও টাবিও জাতীয় কিছু বলবে। চুমু খেতে কেউ ঠোট বাড়িয়ে দিলে কি বলতে হয়, “এ মা তোমার লিপস্টিক দেখি লেপ্টে গেছে!” সময় ও স্রোতে গা ভাসিয়ে তো মেয়ে চলে যায়, তুলশি পাতাও চুপসে যায়। ওরে মন উদাসী, একা ফেলে পালালি কোথায়? রাত যায় দিন যায়..রাগ দু:খ হতাশায় সবুজ তুলশি পাতা হলুদ বর্ন ধারন করে। তখনি আমাকে সে বলে, “আচ্ছা লেখক সত্যি করে বলোতো আমার দোষ গুলো কি?” আমি বলি “হতচ্ছাড়া, মুতে দিবো কিন্তু!” ভয়ে তুলশি পাতা পিছিয়ে যায়। আমি বলি, “ওরে বোকা জীবনে এতো ভাল খারাপ ভেবে কি হবে বলতো? নিক্তি দিয়ে মেপে কি আর ভাল মানুষ হওয়া যায়? জীবন যেভাবে চলছে চলুক। দুধ লাগবে না। তুই মাটি খা, পানি খা, আর গায়ে বাতাস লাগিয়ে বেঁচে থাক।”






মন্তব্য চালু নেই