মেইন ম্যেনু

খাবারের মান নিয়ে খুশি নয় লতিফ সিদ্দিকী

কারাগারের দেওয়া খাবারের মান নিয়ে খুশি নয় ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে কটু মন্তব্য করে মন্ত্রিত্ব ও আওয়ামী লীগের দলীয় সদস্যপদ হারানো আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন সড়কে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ‘ছাব্বিশ সেল’ ভবনে অন্তরীন রয়েছেন। সেখানে তিনি প্রথম শ্রেণীর হাজতির মর্যাদা পাচ্ছেন। কারাগারের অন্যান্ন বন্দিদের সাথে তেমন কথা-বার্তা বলেন না তিনি।

কারাসূত্র জানায়, গত ২৬ নভেম্বর ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেওয়ার মামলায় কারাগারে আসেন তিনি। ছাব্বিশ সেলের চৌকা (রান্নাঘর) থেকে পছন্দের খাবারও পাচ্ছেন লতিফ সিদ্দিকী। ২৬ কক্ষ বিশিষ্ট হওয়ায় কারাগারের ভেতরের ওই ভবন ‘ছাব্বিশ সেল’ হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি কক্ষে একজন করে বন্দী থাকেন। কারাগারের মূল ফটক দিয়ে ঢুকে সোজা দেড়শ গজ পথ হাঁটার পর আরেকটি ফটক আছে। সেটি পার হয়ে বাঁ দিকে আরো একশ গজ রাস্তা পার হলে এ ভবন। ‘দালান’ হিসেবেও এ ভবন পরিচিত।

সাবেক প্রধান বনরক্ষক ড. ওসমান গনি ছাড়াও আরো ২৪ জন বন্দী ওই ভবনে আছেন বলে জানান তিনি। কারাগারের দেওয়া খাবারের মান নিয়ে বেশ আপত্তি রয়েছে তার। তিনি ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে প্রিজন ক্যান্টিন থেকে খাবার কিনে খান। পত্রিকা ও বই পড়ে সময় কাটে তার। তবে কারাগারে থাকা অন্য বন্দিদের সাথে তেমন কথা বার্তা বলেন না তিনি।

সকালে রুটি ভাজি, দুপুরে ভাত, মাছ বা গোশত আর রাতে মাছ-ডাল দেওয়া হয় তাকে। তবে খাবারের মান নিয়ে তার আপত্তি থাকায় তিনি ব্যক্তিগত টাকায় খাবার কিনে খান। পরিবারের সদস্যরা এই পর্যন্ত তার সাথে স্বাক্ষাৎ করেননি। এমন কি স্বাক্ষাতের অনুমতির জন্য আবেদনও করেননি কেউ।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেছার আলম বলেন, কারাগারে লতিফ সিদ্দিকী ভালোই আছেন। পত্রিকা ও বই পড়েই বেশিরভাগ সময় কাটে তার। প্রথম শ্রেণীর বন্দি হওয়ায় তিনি ডিভিশন পাচ্ছেন। এর থেকে বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।

জেলার আরও জানান, কোনও রকম হৈচৈ বা চোটপাট করছেন না তিনি। ছাব্বিশ সেলে ডিভিশনপ্রাপ্ত আসামিরা থাকার নিয়ম থাকলেও টাকার বিনিময়ে যে কোনো আসামি থাকতে পারেন। ডিভিশন সেলে প্রথম শ্রেনীর বন্দীরা যেসব সুবিধা পান তার সবগুলোই পাবেন লতিফ সিদ্দিকী। ডিভিশন প্রাপ্ত সেলগুলোর মধ্যে প্রত্যেক বন্দীর জন্য একটি চৌকি, একটি টেবিল, একটি চেয়ার, তোষক, বালিশ, বিছানা ও চাদর ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া হয়।

গত ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকাল পৌনে চারটায় লতিফ সিদ্দিকী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। তার আগে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর লতিফকে রাখা হয় ঢাকা সিএমএম আদালতের হাজতখানায়। হাজতখানা থেকে লতিফকে কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটে। প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে কারাগারের মূল ফটকের গায়ে লাগোয়া ছোট আকারের ‘পকেট ফটক’ দিয়ে মাথা নিচু করে ঢুকতে আপত্তি তোলেন তিনি। ভেতরে যেতে হলে কারাগারের মূল ফটক খুলতে হবে বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

পুলিশ সদস্য ও কারা কর্মকর্তারা বিষয়টি লতিফ সিদ্দিকীকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শেষে বিকেল পৌনে চারটায় জেল সুপার ফরমান আলী গিয়ে মূল ফটক খুলে লতিফসহ ভেতরে ঢোকেন।

২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে রাসূল সা., পবিত্র হজ্ব, তাবলীগ জামাত এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় মন্ত্রিসভা ও আওয়ামী লীগ থেকে অপসারিত হন লতিফ সিদ্দিকী। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও দেশের ১৮টি জেলায় ২২টি মামলা দায়ের করা হয়। নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় প্রতিটি মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এরপর গত রবিবার রাতে তিনি ঢাকায় ফিরে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি। মঙ্গলবার দুপুর একটায় ধানমন্ডি থানায় গিয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালতে হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।






মন্তব্য চালু নেই