মেইন ম্যেনু

ক্লান্তি দূর করবে যে খাবারগুলো

ক্লান্তি কথাটি অবসাদ, দুর্বলতা, ঝিমুনি এবং ঔদাসিন্য বা অলসতা নামেও পরিচিত। শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের ক্লান্তিই হতে পারে। তন্দ্রা ও ক্লান্তি একই জিনিস নয়। যদিও ক্লান্তির কারণেও হতে পারে তন্দ্রা। আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ এর মতে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন আমেরিকান এর দৈনন্দিন কাজের মধ্যে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় ক্লান্তির কারণে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন গ্রহণ করা, অতিরিক্ত শারীরিক সক্রিয়তা বা নিস্ক্রিয়তা, কম ঘুম এবং অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস ক্লান্তির সমস্যা সৃষ্টি করে।

উদ্বিগ্নতা, বিষণ্ণতা, দুঃখবোধ এবং স্ট্রেসের মত মানসিক সমস্যার কারণেও হতে পারে ক্লান্তিবোধ। লিভার ফেইলিউর, অ্যানেমিয়া, ক্যান্সার, কিডনি রোগ, হৃদরোগ, থাইরয়েডের সমস্যা, স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের কারণেও ক্লান্ত বা অবসন্নতায় ভুগতে পারে মানুষ।

মানুষ যখন অত্যন্ত ক্লান্ত অনুভব করে তখন পেশীতে ব্যথা, প্রেরণার অভাব, মনোযোগের সমস্যা, মাথা ঘোরানো, মাথাব্যথা, ক্ষুধামন্দা, মেজাজের ওঠানামা এবং শক্তির ঘাটতি ইত্যাদি উপসর্গগুলো দেখা যায়।

শারীরিক, মানসিক বা আবেগীয় কারণ যাই হোকনা কেন কিছু খাবারের মাধ্যমে আপনি ক্লান্তির সমস্যা দূর করতে পারেন। শরীরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান যেমন- আমিষ, চর্বি, জটিল শর্করা, ভিটামিন ও খনিজ সঠিক মাত্রায় গ্রহণ করলে ক্লান্তির উপসর্গগুলো দূর করতে সাহায্য করে। চলুন তাহলে জেনে নিই এমন কিছু খাবারের কথা যেগুলো ক্লান্তি দূর করবে।

১। কলা

কলাতে বেশ ভালো পরিমাণে পটাসিয়াম থাকে, যা চিনিকে শক্তিতে পরিণত করার জন্য প্রয়োজন। এছাড়াও কলাতে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যেমন- ভিটামিন বি, সি, ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড, ওমেগা ৬ ফ্যাটি এসিড, ফাইবার এবং কার্বোহাইড্রেট থাকে, এগুলো ক্লান্তি, ডিহাইড্রেশন এবং ক্লান্তির অন্যান্য উপসর্গকে দূর করতে সাহায্য করে।

২। গ্রিনটি

১ কাপ গ্রিনটি আপনাকে ক্লান্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে স্ট্রেস ও কাজ সম্পর্কিত ক্লান্তি দূর করতে। গ্রিনটিতে পলিফেনল থাকে যা স্ট্রেস দূর করতে, শক্তি বৃদ্ধি করতে এবং মানসিক ফোকাস এর উন্নতিতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে এমন কিছু উপাদান থাকে যা বিপাকের উন্নতিতে সাহায্য করে।

৩। মিষ্টি কুমড়োর বীজ

ক্লান্তি দূর করার জন্য আদর্শ খাবার হচ্ছে মিষ্টি কুমড়োর বীজ। এতে উচ্চ মানের প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন বি১, বি২, বি ৫ এবং বি ৬ থাকে, এর পাশাপাশি ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন এবং কপার ও থাকে। এই সবগুলো উপাদান একসাথে কাজ করে ইমিউন সিস্টেমকে উদ্দীপিত করতে, এনার্জি পেতে এবং ক্লান্তির উপসর্গগুলোকে কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও মিষ্টি কুমড়োর বীজে ট্রিপ্টোফেন পাওয়া যায় যা মানসিক অবসাদ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে এবং ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে। এর ফলে শারীরিক সমস্যাগুলো ও সহজ হয়।

৪। আখরোট

ক্লান্তি দূর করার আরেকটি জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে আখরোট। কারণ আখরোটে উচ্চমাত্রার ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে যা খুব সহজেই ক্লান্তির উপসর্গগুলোকে বিফল করতে পারে। হালকা বিষণ্ণতার উপসর্গ থেকে মুক্ত হতেও সাহায্য করে আখরোট।

৫। পালংশাক

ক্লান্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আরেকটি চমৎকার খাবার হচ্ছে পালংশাক। এতে প্রচুর আয়রন থাকে যা রক্ত থেকে কোষে অক্সিজেন পৌঁছাতে সাহায্য করে। এর ফলে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং ক্লান্তি দূর হয়। এছাড়াও পালংশাকে ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন সি ও বি থাকে, যা শক্তির ঘাটতির সময়ে এবং বিপাকের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয়।

সূত্র : টপ টেন হোম রেমেডিস






মন্তব্য চালু নেই