মেইন ম্যেনু

কোটালীপাড়ায় দেড় শতাধিক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে কোনো ‘শহিদ মিনার’ নেই

জাকারিয়া শেখ, কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) থেকেঃ ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জীবনে একটি স্মরণীয় দিন। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ছাত্রসমাজ এই দিনে আন্দোলন শুরু করে। ছাত্রদের যৌক্তিক মিছিলে পাকিস্তান সরকার নির্বিচারে গুলি চালায়। গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে শহিদ হন। প্রতিবছর ইউনেস্কোর সদস্য ভূক্ত ১৮৮টি দেশ ইউনেস্কোর সদর দপ্তর ও আমাদের দেশে একুশে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন হয়ে আসছে। প্রত্যেক বছরের ন্যায় এ বছরও একুশে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস’ পালন করা হবে। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে ৪৬ বছরে পর্দাপণ করেছে সোনার বাংলাদেশ। তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারনে আদৌ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনারের ছোঁয়া লাগেনি। শুধু আমরা একুশে ফেব্রুয়ারি এলে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে ভাষা আন্দোলনে শহিদ হওয়া বীর সন্তানদের স্মরণ করে থাকে। শুধু কী একটি দিনের জন্যই ? কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে অবগত করতে না পারলে ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে শহিদ হওয়া বীরদের আত্মত্যাগ বিথা ছাড়া আর কিছুই নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিলে দেশের প্রত্যেকটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভাব। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো ‘শহিদ মিনার’। অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এমন তথ্য। উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ২২৭ টি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার মধ্যে ৪৪ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২ টি সিনিয়র ও ৩ টি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। ১৭১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৭ টি এবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বেশির ভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘শহিদ মিনার’র ছোঁয়া লাগেনি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- বাগান উত্তরপাড়া সিনিয়র মাদ্রাসা, কুশলা নেচ্ছারিয়া সিনিয়র ফাযিল (বি,এ) মাদ্রাসা, রাধাগঞ্জ সার্বজনীন দাখিল মাদ্রাসা, বলুহার সার্বজনীন দাখিল মাদ্রাসা ও গচাপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো হলো- উত্তর বানিয়ারি সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, কবি শেখ রোকন উদ্দিন সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, চিতাশী সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, তারাশী সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, কান্দি সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, জামিলা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, কাঠিগা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, গোপালপুর সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, জাঠিয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, পূর্ব উনশিয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, পশ্চিম উনশিয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়,আশুতিয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, ইসলামপুর সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, ধৈড়াল সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, টিহাটী সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, ভাশাইল বাড়ি সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, বান্দাবাড়ি সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, পূর্ব কান্দি সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, বাহির শিমুল সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় , বহুলতলী সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় ও ফুলবাড়ি সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়। পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী জানান, তারা প্রত্যেক বছর একুশে ফেব্রুয়ারি এলে আমরা কলা গাছ অথবা বাঁশের চাকা দিয়ে দেবি বানিয়ে ভাষা আন্দোলনে শহিদ হওয়া বীর শহিদদের স্মরণ করি। এক শিক্ষকের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি এলে অস্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণ করে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহিদ হওয়া বীর সন্তানদের স্মরণ করি। সরকার যদি প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে একটি করে শহিদ মিনার নির্মাণ করে তাহলে শিক্ষার্থীরা শহিদ মিনার দেখে সার্বক্ষন ভাষা আন্দোলনে শহিদ হওয়া বীরদের স্মরণ রাখতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। তাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও এলাকার সচেতন নাগরিক মহল রিপোর্ট প্রকাশের মাধ্যমে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আসা ব্যক্ত করেছেন।






মন্তব্য চালু নেই