মেইন ম্যেনু

কে শিব, কে শঙ্কর, বুঝে করুন তাঁর পূজা, জেনে নিন শিবরহস্য

শিবের নাম ঠিক ক’টি? যে কোনও হিন্দু দেবতার মতোই তাঁরও অষ্টোত্তর শতনামের বই বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু একথা সেভাবে স্পষ্ট হয় না যে, কোন নামের কী মাহাত্ম্য। ‘শিবপুরাণ’ যথাবিহিত মনোযোগের সঙ্গে অধ্যয়ন না করলে সত্যিই জানা সম্ভব নয়, দেবাদিদেবের নামবৈচিত্র্যের পিছনে কী কী যুক্তি কাজ করেছে।

মহাদেবের সবথেকে জনপ্রিয় দু’টি নাম— শিব ও শঙ্কর। কিন্তু, পুরাণ অনুসারে এই দুই নাম দুই ভিন্ন বিষয়ের। দেখা যাক, কী জানায় ‘শিবপুরাণ’ আর শৈবাগম শাস্ত্র।

• ‘শিব’ নামটি একান্তভাবেই শিবলিঙ্গের সঙ্গে পৃক্ত। অন্যদিকে ‘শঙ্কর’ এক মানবায়িত দেবতার নাম।

• শাস্ত্র অনুসারে শিবকল্প ও শঙ্করকল্পে বিস্তর পার্থক্য বিদ্যমান।

• শিবকে শৈবাগম বিশ্ব চরাচরের পরমতম সত্তা বলে মনে করে। তিনি মহাজাগতিক চৈতন্য বা পরাচৈতন্যের প্রতীক। শিবলিঙ্গের কল্পনায় সেই চৈতন্যস্বরূপকেই দেখা হয়েছে। ডিম্বাকৃতি শিবলিঙ্গ মহাজগতের সামগ্রিকতাকে ব্যক্ত করে।

• অন্যদিকে, শঙ্কর এজন দেবতা। তাঁর মানবায়িত অবয়ব বিদ্যমান। তত্ত্ব অনুসারে, তিনি সূক্ষ্ম দেহ সম্পন্ন এক সত্তা। তাঁকে অনেক সময়েই ধ্যানমূর্তি হিসেবে কল্পনা করা হয়। মাথায় অর্ধচন্দ্র, কণ্ঠে সর্পহার, জটায় গঙ্গাকে ধারণ করেছেন এই পুরুষ।

• শঙ্কর মূর্তিকল্পের অর্থ এই— মূর্তির শিরে অর্ধচন্দ্র আংশিক জ্ঞাত মনের প্রতীক। ডমরু অদ্বৈতের প্রতীক। কণ্ঠের সাপ কুলকুণ্ডলিনীর প্রতীক। ত্রিশূল কখনও ত্রিগুণ, কখনও ত্রিকাল, কখনও বা সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের ত্রিতত্ত্বকে ব্যক্ত করে। গঙ্গা বিশুদ্ধ জ্ঞানের প্রতীক। তৃতীয় নয়ন পরাচৈতন্যের প্রতীক।

• ব্রহ্মার মাধ্যমে শিব সত্যযুগের সৃষ্টি করেন। কলিযুগে তিনি শঙ্কর রূপে সৃষ্টিকে সংহার করবেন।

সুতরাং শঙ্কর শিবের এক বিশেষ রূপ। ‘শিব’ বলেত কিন্তু আদি এবং বিমূর্ত লিঙ্গরূপকেই বোঝায়।






মন্তব্য চালু নেই