মেইন ম্যেনু

কৃষ্ণাঙ্গের প্রতি নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের অমানবিক আচরণ

বর্ণবাদের ভূত সম্ভবত সাদা চামড়ার কাঁধ থেকে আজও নামেনি। গত ৩ জুলাই এমন এক ঘটনা ঘটে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী নিউইয়র্ক সিটির পাতাল ট্রেনে, যা এ যুগে এসে অন্তত ঘটার কথা ছিল না। প্রসঙ্গত স্মর্তব্য, সে দেশের প্রধান স্বয়ং, একজন কৃষ্ণাঙ্গ।

ট্রেনের বগিতে একাধিক আসন নিয়ে কর্মক্লান্ত এক ‍কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তা নজরে আসে কর্তব্যরত পুলিশের, যারা টহল দেয়ার কাজে সে মুহূর্তে ট্রেনে অবস্থান করছিল। ঘুমোতে দেখামাত্র, কোনপ্রকার মমতা না দেখিয়ে তাকে জাগিয়ে তোলার পর, মেঝেতে মাথা ঠেসে ধরে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। এ কাজে তৎপর থাকেন একাধিক পুলিশ।

ট্রেনের যাত্রী অপর এক নারী গোপনে ঘটনাটি তার মুঠোফোনে ভিডিও করে ইউটিউবে স্থাপন করেন। সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্জালে দারুণ প্রতিবাদ শুরু হয়ে যায়।

ভিডিওটিতে পুলিশদের ব্যাচগুলোও ধারণ করেছিলেন ঐ ভদ্রমহিলা। যাতে পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়। কিন্তু বর্তমানে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে ইউটিউব থেকে। এর পেছনে কাদের হাত কাজ করছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এবং ঘটনার সত্যতা সম্পর্কেও আর সন্দেহ থাকে না। ভিডিওটি মুছে ফেলার আগে একটি স্ক্রীনশট নেয়া সম্ভব হয়েছিল। যা বর্তমানে একমাত্র প্রমাণ।

এটা যে এক ধরনের বর্ণবাদী আচরণ তা বুঝতে ভুল হয় না। দেশটির নিয়মে আছে, এক সিটের বেশি কেউ দখল করতে পারবে না। আর যাত্রাপথে কেউ তন্দ্রাগত হলে, তা কোনভাবেই অপরাধ নয়। বহু শ্বেতাঙ্গকে দেখা যায় ট্রেনে যাত্রাকালে ঘুমিয়ে পড়তে। কখনও একাধিক সিট নিয়েও। কিন্তু, সেটি পুলিশের গাত্রদাহের কারণ হয় না।

যাত্রীটি একাধিক সিট গ্রহণ করেছিলেন। নিয়মভঙ্গের অন্তর্ভুক্ত এটি, এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই। কিন্তু তার বিপরীতে তাকে সতর্ক করে না দিয়ে, সাধারণ নাগরিকপ্রাপ্য ভদ্রতা অবলম্বন করে, তার কাছ থেকে জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয়াই যথেষ্ট জ্ঞান না করে, নিউইয়র্ক পুলিশ বলপ্রয়োগ ও ধস্তাধস্তির অপ্রয়োজনীয় বেদনাতুর দৃশ্য জন্ম দিলো।

সূত্র: অল্টারনেট।






মন্তব্য চালু নেই