মেইন ম্যেনু

লালদীঘি ময়দানে গাউছুল আজম কনফারেন্সে লাখো নবীপ্রেমিকের ঢল

কাগতিয়ার গাউছুল আজম সুন্নাতে নববীর প্রতিচ্ছবি : অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুনির উল্লাহ্

কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মহান মোর্শেদ আওলাদে রাসূল হযরতুলহাজ্ব শাহছুফি আল্লামা অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহমদী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী বলেছেন, মহাগ্রন্থ আল-কোরআন হচ্ছে মানুষের প্রতি স্রষ্টার শ্রেষ্ঠতম অনুগ্রহ এবং প্রিয়নবী (দঃ) হলেন স্রষ্টার সকল সৃষ্টির জন্য সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। আর মুসলিম মিল্লাতকে ইসলামের এই মৌলিক শিক্ষার আলোকে কোরআন-সুন্নাহর পথে জীবন গড়তে সদা উজ্জীবিত করে যাচ্ছেন কালজয়ী মনীষী খলিফায়ে রাসূল কাগতিয়ার গাউছুল আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী। মহান আল্লাহর রঙে রঞ্জিত ও সুন্নাতে নববী প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত এই মহৎপ্রাণ ব্যক্তিত্ব আল্লাহ ও রাসুলের সন্তুষ্টিজনক কর্ম-কীর্তির মাধ্যমে বেলায়তের সর্বোচ্চ স্তর গাউছিয়ত ও খলিফায়ে রাসুলের মর্যাদা লাভ করেন। নিঃসন্দেহে তিনি এ যুগে ইসলামের এক মহান পথ প্রদর্শক, সুন্নাতে নববীর প্রতিচছবি, দেশ ও জাতির সম্পদ এবং শান্তির মহান আধ্যাত্মিক দূত।
তিনি আজ ২৯ ডিসেম্বর’২০১৪ইং সোমবার চট্টগ্রাম মহানগরীর লালদীঘি ময়দানে পবিত্র জশ্নে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) উপলক্ষে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ আয়োজিত কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের ঐতিহাসিক গাউছুল আজম কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিজীবনে একেবারে নির্লোভ, সদালাপি, উদার ও বিশাল ব্যক্তিত্বের অধিকারী কাগতিয়ার গাউছুল আজমের একমাত্র চাওয়া-পাওয়া হচ্ছে আধ্যাত্মিক আলোয় প্রতিটি নর-নারীকে মন্জিলে মখছুদে পৌঁছে দেয়া। যিনি মুসলিম মিল্লাতের নিকট তরিক্বত তথা আধ্যাত্মিকতার আসল নির্যাস তুলে ধরেছেন। দেশ-বিদেশের অগণিত যুবকদেরকে করেছেন রূহানীশক্তিতে জাগরিত ও দৃঢ় ঈমানী চেতনায় তেজোদীপ্ত। যুবকদেরকে প্রিয়নবী (দঃ) এর প্রতি নিখাঁদ প্রেম, অনুরাগ ও আদর্শের অনুসারী করে আলোকিত মানুষে পরিণত হতে উজ্জীবিত করছেন। গাউছিয়তের শীর্ষপদে আসীন এই মহান মনীষী ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠা করেছেন মাদ্রাসা, মসজিদ, হিফজুল কোরআন বিভাগসহ অসংখ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। যার প্রতিষ্ঠিত অরাজনৈতিক তরিক্বতভিত্তিক আধ্যাত্মিক সংগঠন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির মনোগ্রাম ইতোমধ্যে অলৈাকিকভাবে বিভিন্ন বৃক্ষের পত্র-পল্লবে উদ্ভাসিত হয়েছে। যা এই খোদায়ীভাবে এই তরিক্বতের ও সংগঠনের স্বীকৃতির প্রমাণ বহন করে।
বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন এর সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দীন এর সভাপতিত্বে কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন এর মহসচিব হযরতুলহাজ্ব অধ্যক্ষ আল্লামা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী। এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন সিএমপি পুলিশ কমিশনার মো: আব্দুল জলিল মন্ডল। বিশেষ অতিথির মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন চবি মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সাবেক সভাপতি ও চবি শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুর, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম তালুকদার, চবি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন চৌধুরী, চবি ইনষ্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স এন্ড ফিসারীজ এর প্রভাষক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সরকার, চবি গণিত বিভাগের অধ্যাপক জালাল আহমদ, ঢাকা ইস্ট-ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, সংগঠনের নিউইয়র্ক শাখার সভাপতি শামশুল আনোয়ার জামাল, কানাডা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মীর মোহাম্মদ কায়কোবাদ, এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন, মদিনা ট্যানারিজ এর স্বত্তাধিকারী আলহাজ্ব আবু আহমদ।

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, যুগশ্রেষ্ঠ অলী কাগতিয়ার গাউছুল আজমের অনুসৃত পথে তাঁরই যোগ্য খলিফা আল্লামা অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহমদী হাজার হাজার যুবকদেরকে তরিক্বতমুখী করছেন। আধ্যাত্মিক শিক্ষার আলোয় যুবকদেরকে সচ্চরিত্রবান ও উন্নত নৈতিকতা সম্পন্ন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর তাঁর এ সুখ্যাতি আজ শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আল্লামা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী বলেন, এ দরবার ও সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হাজার হাজার যুবকদের শৃঙ্খলা, তাকওয়া ও ভ্রাতৃত্ববোধ আমাকে সবসময় মুগ্ধ করে। যুবকদেরকে এভাবে তরিক্বতের দিকে নিয়ে আসতে পারলে যুবসমাজ মাদক, অশ্লীলতা সহ নানা অপকর্ম থেকে মুক্তি পাবে।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক ফোরকান মিয়া বলেন, দেশ ও দেশের যুব সমাজের প্রতি কাগতিয়ার গাউছুল আজমের রয়েছে গভীর মমত্ববোধ। দেশে শান্তি স্থাপনের জন্য তিনি বিপথগামী যুব সমাজের উদ্দেশ্যে ডাক দিলেন- হে যুবক! নামাজ পড়, রোযা রাখ, নবী করিম (দঃ) এর উপর দরূদ পড়, মাতৃভূমি শান্ত কর। আর তাঁর এ আহবানে সাড়া দিয়ে দেশ-বিদেশের অসংখ্য যুবক আজ আলোর পথে ফিরে এসেছে। আলোকিত যুব সমাজ গঠনে তাঁর এই কর্ম ও কীর্তি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।

প্রতি বছরের মতো এবছরও মুনিরীয়া যুব তবলীগের গাউছুল আজম কনফারেন্সকে কেন্দ্র করে সপ্তাহ জুড়ে শহরের বিভিন্ন উঁচু ভবন, সড়কের আইল্যান্ড, বিলবোর্ড সমূহে কোরআন-হাদিসের বাণী, দরুদ, গাউছুল আজমের বাণী সম্বলিত ব্যানার ও ফেষ্টুন দিয়ে সজ্জিত করা হয়। কনফারেন্সে যোগ দিতে দুপুর থেকেই দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা আসতে শুরু করে। আছরের আগেই কনফারেন্সস্থল লালদীঘি ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাগরিবের সময় তা লালদীঘি ময়দান ছাড়িয়ে এর আশেপাশের এলাকা ও সড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ইব্রাহিম হানফি, আল্লামা কাজী আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকী, উপাধ্যক্ষ বদিউল আলম আহমদী, আল্লামা মোহাম্মদ আশেকুর রহমান, আল্লামা এমদাদুল হক মুনিরী, আল্লামা সেকান্দর আলী ও আল্লামা মুহাম্মদ ফোরকান। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক মুহাম্মদ ফোরকান মিয়া।

কনফারেন্সে মিলাদ-কিয়াম শেষে প্রধান অতিথি দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং দরবারের প্রতিষ্ঠাতা কাগতিয়ার গাউছুল আজমের দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন। এসময় লাখো ধর্মপ্রাণ নবীপ্রেমিক মুসলমানের অশ্রুসিক্ত আমিন আমিন ধ্বনিতে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সূচনা হয়।






মন্তব্য চালু নেই