মেইন ম্যেনু

কষ্টের ১শ টাকাও নিয়ে নিচ্ছে পুলিশ

ঈদ সামনে রেখে সিলেটে বেপরোয়া হয়ে উঠছে পুলিশ। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তারা কৌশলে চাঁদাবাজির মচ্ছব চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। টমটম থেকে শুরু করে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে চাঁদাবাজি করছে পুলিশ। প্রতিদিন বড় অংকের টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নগরীর আম্বরখানা, নাইওরপুর, জিন্দাবাজার, সোবহানীঘাট, বন্দরবাজার, নতুন পুলের মুখ, দক্ষিণ সুরমার চন্দিপুল, উপশহর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে, টিলাগড়, শাহী ঈদগাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ চাঁদাবাজি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, তারা কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন।

গত শনিবার গভীর রাতে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ নেহার মার্কেটের নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত পুলিশ প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওইদিন রাত একটায় জিন্দাবাজার থেকে দুটি টমটম গাড়ি জেলা রোডের দিকে যাচ্ছিল। তখন নেহার মার্কেটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত তিন পুলিশ সদস্য ওই দুই টমটম গাড়ির গতিরোধ করে চালকদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে।

পুলিশের চাঁদাবাজি করছে এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সাংবাদিকরা। তখন দেখা যায়, নেহার মার্কেটের সামনে দুটি টমটম রাখা আছে। একটি টমটমে সিটি করপোরেশনের নম্বর প্লেট রয়েছে (নম্বর ১৩৮১)। আর সেই টমটমে সারিয়া পরিবহন-৯, চৌখিদেখি লেখা রয়েছে। তবে অন্য টমটমে কোনো নম্বর প্লেট নেই।

এসময় দেখা যায়, ওই টমটম চালকের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ। চালকরা টমটম নিয়ে পুলিশের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু নিষ্ঠুর ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ে চেষ্টা করছেন। এমনকি তাদেরকে ভয়ভীতিও দেখাচ্ছেন।

এসময় ওই মার্কেটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন এসআই আবুজর, আব্দুল হাই ও মেহরাজ। তারা তাদের দায়িত্ব ফেলে গভীর রাতে টমটমের গতিরোধ করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এসময় টমটম চালকদের কাছ থেকে বড় অংকের চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন চালক ইউসূফ।

তিনি বলেন, ‘রাতে নগরীতে টমটম চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন আমরা কোথায় যাব। কি করে আমরা পরিবার চালাব? রাতের আধাঁরে টমটম চালাচ্ছি। কিন্তু তখনও আমাদেরকে আটকে পুলিশ চাঁদা দাবি করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে পুলিশ চাঁদা দাবি করছে। না হয় আমাদের টমটম নিয়ে থানায় নিয়ে যাবে বলে হুমকি দিচ্ছে।’

ইউসূফ কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অনেক কষ্টে আমি একশ টাকা রোজগার করেছি। কিন্তু আমি ওই টাকা পুলিশকে দিয়েও রক্ষা পাচ্ছি না। তারা বলছেন, ওই টাকা নিয়ে কিছু হবে না। আরো বেশি দিতে হবে।’

পুলিশের চাঁদাবাজির কথা অস্বীকার করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমত উল্লাহ বলেন, ‘আমার কাছে চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ আসেনি। আসলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’






মন্তব্য চালু নেই