মেইন ম্যেনু

কথা রাখবেন মোদি, তবে…

সন্ত্রাস মেকাবেলায় বাংলাদেশকে ভারতের প্রয়োজন। তাই কথা অনুযায়ীই কাজ করবেন নরেন্দ্র মোদি। আসন্ন সার্ক সম্মেলনের আগেই তিনি শেখ হাসিনাকে নিশ্চিত করতে চান, আওয়ামী লীগ সরকারের ‘প্রধান শত্রু’ জামায়াতের তৃণমূলযোগ এবং ভারতে বাংলাদেশি জঙ্গিদের বিচরণ ও আশ্রয় ঠেকাতে বদ্ধপরিকর মোদি সরকার। সেজন্য জাময়াতের তৃণমূল কানেকশনের তথ্য দ্রুত ঢাকাকে দিতে চায় দিল্লি।

বৃহস্পতিবার আনন্দবাজার পত্রিকা এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

তবে নিউ ইয়র্কের বৈঠকে তিস্তার নিয়ে দেয়া আশ্বাসের ব্যাপারে এখনো কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

গত ২৭ সেপ্টম্বর নিউ ইয়র্কে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে বেশ আন্তরিকতা দেখিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে মোদি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের সঙ্গে স্থল সীমান্ত ও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক এবং ইস্যুগুলো সমাধানের উপায় খুঁজছি।’

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান সারদার কেলেঙ্কারিতে তৃণমূল-জামায়াত যোগাযোগের সব তথ্যই বাংলাদেশের হাতে দ্রুত তুলে দিতে চায় নরেন্দ্র মোদির সরকার। এ জন্য তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, জামায়াতের তৃণমূলযোগের তথ্য পেতে ঢাকা ইতিমধ্যে নয়াদিল্লির কাছে দরবার করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউ ইয়র্কে নরেন্দ্র মোদিকে তৃণমূলের জামায়াত-যোগ নিয়ে তথ্য দিয়েছেন। মোদিও তার সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন, বাংলাদেশের কাছে এ নিয়ে কোনো তথ্যই যেন গোপন করা না হয়। সেই অনুযায়ীই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে সিবিআইয়ের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে। সিবিআইয়ের কাছ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর তা খতিয়ে দেখে ঢাকার হাতে তুলে দেয়া হবে।

সামনেই নেপালে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ওই সম্মেলনের সময় মোদির সঙ্গে বৈঠক হতে পারে শেখ হাসিনার। তার আগে হাসিনাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে চান মোদি। বাংলাদেশের স্বার্থ-বিরোধী শক্তিকে ভারতের মাটি ব্যবহার করতে না দেয়ার বিষয়ে তারা যে বদ্ধপরিকর, মোদি সেটা তুলে ধরতে চান।

সিবিআই এর শীর্ষ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এখনও রিপোর্ট পাঠায়নি তারা। পর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরি করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাঠানো হবে।

এতে আরো বলা হয়, তদন্তে তৃণমূল-জামায়াত যোগের যথেষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ আহমেদ হাসান ইমরানের সঙ্গে বাংলাদেশের মৌলবাদীদের যোগও সিবিআইয়ের আতস কাচের তলায় রয়েছে। আরও সুনির্দিষ্ট তথ্যের খোঁজ চলছে, যাতে তা আদালতেও অব্যর্থ প্রমাণ হিসেবে পেশ করা যায়। বাংলাদেশ সরকার নিজেরাও ইমরানের সঙ্গে জামাতের যোগাযোগের তদন্ত শুরু করেছে। ঢাকা চাইছে, ভারত সবিস্তার তথ্য পেশ করুক, যাতে কোনো দোষীই পার না পায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণলায়ের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে আনন্দবাজর জানায়, শুধু সারদা কেলেঙ্কারিতেই নয়, বর্ধমানে খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণেও বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ তথা এ দেশের কিছু লোকের যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। এই সন্ত্রাস মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ভারতের পাশে প্রয়োজন। বাংলাদেশের দুষ্কৃতকারীরা ভারতে এসে আশ্রয় নিচ্ছে। এ দেশের মাটিকে বিস্ফোরক ও অস্ত্র তৈরির কাজে লাগানো হচ্ছে, যা শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের জন্যও বিপজ্জনক।

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, কূটনীতির বাধ্যবাধকতা মেনে মোদি সরকার যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাতে তৃণমূলের অস্বস্তিই বাড়বে। তৃণমূলের একাংশের সঙ্গে জামায়াতের যোগাযোগের তথ্য স্পষ্ট হলে বিজেপি ও অন্য দলগুলো তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলবে।

উল্লেখ্য, গত মাসে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলিকেও মোদি সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, ভারতের জমি কোনোভাবেই বাংলাদেশের মৌলবাদী ও জঙ্গিদের স্বার্থে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সেই অঙ্গীকার পালনে বদ্ধপরিকর কেন্দ্র।






মন্তব্য চালু নেই