মেইন ম্যেনু

ওরা ওদের বাবাদের অনুসরণ করতো, তাই মরলো (ভিডিও)

পাকিস্তানি তালেবান দাবি করেছে, তারা সামরিক বাহিনী পরিচালিত স্কুলে হামলা চালিয়েছে কারণ এই শিশুগুলোও তাদের বাবাদের পথ অনুসরণ করতো।

এক ইমেইল বার্তায় জঙ্গিসংগঠনটি মুসলিমদের সামরিক এলাকা এড়িয়ে চলার ব্যাপারে সাবধান করে দিয়ে বলেছে, উপজাতি এলাকায় সামরিক বাহিনীর হাতে শিশু হত্যার উসুলস্বরূপ এ হামলা চালানো হয়েছে।

এই ইমেইল বার্তাতে সংগঠনটি আরো দাবি করেছে, এই শিশুগুলো বড় হয়ে তাদের বাবাদের পথেই চলতো। তাই তাদের সরিয়ে দেওয়া হলো।

গত ১৬ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানের পেশোয়ারে তালেবানদের হামলায় পেশোয়ারের ওয়ারসাক রোডে আর্মি পাবলিক স্কুলে ১৩২ শিশুসহ ১৪১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে পাকিস্তান প্রশাসন। এছাড়া, আহত হয়েছে আরও শতাধিক শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী। পেশোয়ার শহরের সেনা কমপ্লেক্সের ঠিক পাশেই এ স্কুলটি অবস্থিত। এ স্কুলে শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই সেনা কর্মকর্তাদের সন্তান যাদের বয়স ১৬ বা তার চেয়ে কম। স্কুলটিতে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী ছিলো।

হামলা শুরুর পর শিশুদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে

জানা যায়, স্থানীয় সময় সকাল ১০ টার দিকে স্কুলের কার্যক্রম যখন পুরোদমে চলছিলো, ঠিক তখনই স্কুলে হামলা চালায় ৫-৬ জন অজ্ঞাত বন্দুকধারী। স্কুলটিতে অফিসার ও নন-কমিশনড সেনাদের সন্তানরা পড়াশোন‍া করতো। নিহত এসব শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগেরই বয়স ১০-১৮ বছরের মধ্যে।

স্কুলটিতে প্রবেশের পরই জঙ্গিরা নির্বিচারে শিশুদের উপর গুলি চালায়। স্কুলের একজন ল্যাব সহকারী বিবিসির কাছে বলেন, জঙ্গিরা একের পর এক ক্লাসরুমে ঢুকে শিশুদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাদের রুখতে ক্লাসরুমের দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু জঙ্গিরা এসব ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে এবং মাথা ও বুকে গুলি চালায়। অপর একজন নিরাপত্তাকর্মী জানান, আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম, বাচ্চারা বোধহয় দেয়ালের পাশে খেলা করছে, কিন্তু পরক্ষনেই দেখি অনেক বন্দুকধারী। হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এক শিশু বলেছে, হামলা শুরু হওয়ার পর সে এবং তার আরো ১০ জন বন্ধু পালিয়ে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলো। কিন্তু একমাত্র সে-ই বাঁচতে পেরেছে। অন্য এক শিশু বলেছে, সে বারান্দায় অনেক শিশুকে মৃত পড়ে থাকতে দেখেছে। স্থানীয় একজন মহিলা বলেছেন, তার এক বান্ধবীর মেয়ে বাঁচতে পেরেছে। আশেপাশের শিশুদের রক্তে তাদের জামা ভেজা দেখে জঙ্গিরা ভেবেছিলো সে মারা গেছে। তাই গুলি করেনি।

হামলাস্থলের বাহিরে কাঁদছেন এক অবিভাবক

এই নৃশংস ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে পাকিস্তান সরকার।

এদিকে এই নৃশংস ও নজিরবিহীন হামলার পর দেশটির সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় ৫৭ তালেবান জঙ্গি নিহত হয়েছে।

গতকাল বুধবার খাইবার অঞ্চলের তালেবান অধ্যুষিত তিরাহ এলাকায় তালেবান বিমান হামলা পরিচালনা করে দেশটির সামরিক বাহিনী। সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আসিম বাজওয়া এ খবর সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

হামলা শুরুর পর শিশুদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে

তিনি জানান, পোশোয়ারে স্কুলে নৃশংস হত্যাযজ্ঞের জড়িত তালেবানদের ওপর বিমান হামলা ‍পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে এ পর্যন্ত ৫৭ তালেবান জঙ্গি নিহত হয়েছে। অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান রাহীল শরীফ তালেবান অধ্যুষিত অঞ্চলে সামরিক অভিযান পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানান সামরিক বাহিনীর ওই মুখপাত্র।






মন্তব্য চালু নেই