মেইন ম্যেনু

এ যেন আরেক রহিম-রূপবান!

ইমানুয়েল ম্যাখঁ নামের এক কিশোর প্রেমে পড়ল তারই শিক্ষিকা ব্রিজিত থনিওর। তখন সে মাধ্যমিকে পড়ছে। বেশ সাহস নিয়ে ১৭ বছরের এই কিশোর সে কথা জানায় শিক্ষিকাকে। শুনে ৪২ বছর বয়সী শিক্ষিকা ব্রিজিত হেসেছিলেন। ভেবেছিলেন, এটি তাঁর ছাত্রের কিশোর বয়সের আবেগ-আবেশ। একটু বড় হলেই এই ঘোর কেটে যাবে। তবে ছাত্রটি ছিল নাছোড়। সে চ্যালেঞ্জের সুরে বলেছিল, ‘আমি তোমাকে একদিন বিয়ে করব, দেখো।’

ছেলেটি কথা রেখেছে। বড় হয়ে সত্যিই বিয়ে করেছে তার কৈশোরের ভালো লাগা-ভালোবাসার প্রেমিকাটিকে। বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী এই ইমানুয়েল ম্যাখঁ সম্ভবত ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। আর সে ক্ষেত্রে ফার্স্ট লেডি হবেন তাঁরই সেই শিক্ষিকা ব্রিজিত থনিও, বয়স এখন ৬৪ বছর। এই দম্পতির অসম প্রেমের গল্প তুলে ধরেছে সিএনএন। অসম বয়সের জুটি হিসেবে গ্রামবাংলার জনপ্রিয় যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা ও রূপবান’-এর সেই ব্যতিক্রমী কাহিনির সঙ্গেও যেন এর খানিকটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

গত রোববার অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়েছেন ১১ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন মধ্যপন্থী ইমানুয়েল ম্যাখঁ। ২১ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে এর পরের অবস্থানে কট্টর ডানপন্থী নেতা মারি লো পেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম দুজনের কেউই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফার ভোটযুদ্ধে নামতে হচ্ছে তাঁদের। আগামী ৭ মে দ্বিতীয় দফার ভোট হবে।

তবে লো পেনের প্রেসিডেন্ট হওয়া ঠেকাতে মাঠে নামছেন প্রথম দফা ভোটে হেরে যাওয়া দুজন উদারপন্থী নেতা বেনিয়া আমু ও ফ্রাঁসোয়া ফিলোঁ। তাঁদের পাশাপাশি বর্তমান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদও ইমানুয়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। যার বিরুদ্ধে সবাই জোটবদ্ধ হচ্ছেন, সেই লো পেন ভোটের পর দলীয় প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তাই সবদিক থেকে ইমানুয়েল ম্যাখেঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

ইমানুয়েল-ব্রিজিতের অসম প্রেমকাহিনি নিয়ে ইমানুয়েলের পরিবারে ওই সময় বেশ অশান্তি হয়েছিল। সেসব কথা উঠে এসেছে অ্যান ফোলদার লেখা ‘ইমানুয়েল ম্যাখঁ: আ পারফেক্ট ইয়ং ম্যান’ বইতে। সেখানে বলা হয়েছে, ইমানুয়েলের মা-বাবা ছেলের এই সম্পর্ক মেনে নেননি। কারণ, ব্রিজিত তখন বিবাহিত আর তিন সন্তানের জননী। ছেলের বয়স ১৮ না হওয়া পর্যন্ত তার কাছ থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন বাবা। ব্রিজিত কান্নামিশ্রিত কণ্ঠে তাঁকে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আমি আপনাকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারছি না।’

তবে কবে একতরফা প্রেম দুজনের হয়ে ওঠে, তা স্পষ্ট নয়। এ ব্যাপারে ব্রিজিতের বক্তব্য, ‘কেউ কোনো দিন জানবে না, কখন থেকে আমাদের গল্প একটি প্রেমের গল্পে পরিণত হয়েছে। এটা শুধুই আমাদের। আর এটাই আমাদের গোপন রহস্য।’

বয়সের ২৫ বছরের ব্যবধান অগ্রাহ্য করে ২০০৭ সালে বিয়ে করেন ইমানুয়েল ও ব্রিজিত। ইমানুয়েলের বয়স তখন ২৯, আর ব্রিজিতের ৫৪। ব্রিজিতের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল। তবে তাঁর তিন সন্তানকে মুগ্ধ করতে হয়েছে ইমানুয়েলকে।

ব্রিজিতের বড় মেয়ে অজি যেমনটা বলছিলেন, ‘বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ইমানুয়েল ম্যাখঁ আমাদের বাড়ি আসেন। বলেন, তোমাদের মাকে আমি বিয়ে করতে চাই। এটা বলা খুবই কঠিন ব্যাপার ছিল। আমরা মেনে নেব কি না, সে ঝুঁকি তো ছিলই। তবে তিনি আমাদের না জানিয়ে কিছু করতে চাননি; বরং আমাদের সমর্থন চেয়েছিলেন।’

বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সে নারীর চেয়ে পুরুষ বড়, সমাজের চোখে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু নারী যখন পুরুষের চেয়ে বয়সে বড় হন, তখন সেটা নিয়ে নানা কথা হয়। এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে ইমানুয়েল-ব্রিজিত দম্পতিকেও। ফিলিপ বেঁসন নামে এই দম্পতির এক বন্ধু বলেন, বিয়ের পর অনেক বাজে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁদের; এমনকি তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও। তবে তাঁরা দমে যাননি। এভাবেই চলেছ তাঁদের অনবদ্য প্রেমকাহিনি।






মন্তব্য চালু নেই