মেইন ম্যেনু

এরশাদকে নিচে রেখে ওপর তলায় রওশনের সভা

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে নিচের তলায় রেখেই ওপর তলায় সংসদীয় দলের সভা করলেন রওশন এরশাদ।

এ সভার মধ্য দিয়ে এরশাদ ও রওশনের মধ্যকার বিরোধ ফের প্রকাশ্যে এলো।
রোববার বিকেলে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার কক্ষে সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু হয়। এ সময় এরশাদ নিচের তলায় তার নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সভায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এতে ওই দুই নেতার বহিষ্কারাদেশ বাতিল এবং দলীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া বিচারকদের অভিশংসন বিলের ওপর সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন কি হয় তা দেখেই বিরোধীদলের ভূমিকা কি হবে সেই সিদ্ধান্তও গ্রহণ করার কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

এরশাদ কেন সংসদে উপস্থিত থাকার পরও জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের সভায় যোগ দিলেন না সেই প্রশ্ন ছিল সংসদ জুড়ে।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বলেছেন, এরশাদ খুবই মনক্ষুন্ন। তাজুল এবং রাঙাকে বরখাস্ত করেই তিনি কার্যত কিছ্ইু করতে পারেননি। এটা তার বড় পরাজয়।

স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী স্পটতই বলে দিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী কেবলমাত্র কোন সংসদ সদস্য নিজে দল ত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্য পদ খারিজ হবে। দল যদি তাকে বহিস্কার করে সে ক্ষেত্রে তার সংসদ সদস্যপদ খারিজ হবে না। ওই আইনের ফাঁদেই আটকে গেছেন এরশাদ।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অজুহাতে তিনি জাতীয় পার্টির সব সংসদ সদস্যকে বরখাস্ত করলেও তাদের সংসদীয় পদ বহাল থাকবে। এজন্য বরখাস্ত করেও তাজুল এবং রাঙার কিছুই করতে পারছেন না এরশাদ। যে কারণে সংসদীয় দলের পূর্ণ ক্ষমতা থেকে যাচ্ছে রওশন এরশাদের কাছেই। এই মুহুর্তে ঠুঁটো জগন্নাথ হয়েই থাকতে হচ্ছে রাজনৈতিক বিতর্কের নায়ক এরশাদকে।

এরশাদের আস্থাভাজন এমপি ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল কেন এরশাদ সংসদীয় দলের সভায় যাননি, উত্তরে বাবলা বলেছেন, এরশাদ স্যারকে সংসদীয় দলের সভায় ডাকা হয়নি। এজন্য তিনি যাননি।

কেন যোগ দেননি। এর উত্তরে বাবলা বলেছেন, এরশাদের নেতৃত্বে ৮ থেকে ৯ জনের একদল সংসদ সদস্য এরশাদের সঙ্গে তার সংসদ ভবনের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। তবু রওশনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সংসদীয় পার্টির সভায় যোগ দেননি।

এরশাদের সঙ্গে সংসদীয় কক্ষে অবস্থান করেন মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এমএ হান্নান, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ অন্য সংসদ সদস্যরা।

এদিকে রওশনের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের সভা শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে  অনানুষ্ঠানিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু জানান, এরশাদ তাদের সভায় কেন আসেননি তা তাদের জানা নেই।

তিনি বলেন, তারা রওশন এরশাদের সভাপতিত্বে সংসদীয় পার্টির সভায় তিনটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক. বিচারপতিদের অভিশংসনের বিলের বিষয়ে সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট দেখে পরে মন্তব্য করবেন। দুই. জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের পুর্ণাঙ্গ মতামতের ভিত্তিতে সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবেন। তিন. পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ দলীয় গঠনতন্ত্রের ৩৯ ধারার ক্ষমতাবলে সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা ও চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যপদ থেকে যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে।
মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, রওশনের নেতৃত্বে সংসদীয় কমিটির সভায় ২৫ থেকে ২৬ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

 

মহিলা সদস্যসহ জাতীয় পার্টির মোট সংসদ সদস্য এখন ৪০জন।  এর মধ্যে সংসদীয় সভায়  এরশাদসহ নয় সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জাতীয় পার্টির সংসদীয় কমিটির বৈঠককে ঘিরে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের অফিসে সকাল থেকে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যাবস্থা। দুপুরের পর অর্ধ শতাধিক পুলিশ ও সংসদ ভবনের নিজস্ব সিকিউরিটিরা অফিসটিকে ঘিরে ফেলে। সেখানে কোন সাংবাদিক বা কোন সংসদ সদস্যের ব্যাক্তিগত সহকারিকেও ঢুকতে দেয়া হয়নি।

দুপুর ২টায় সংসদীয় দলের সভা শুরু হলেও রওশন এরশাদ আসেন বিকাল সাড়ে তিনটায়। রওশন আসার পরই বৈঠক শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘন্টা এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংসদীয় কমিটির বৈঠকের পুরো সময় পার্টি চেয়ারম্যান ঠিক নিচের ফ্লোরেই অবস্থান করেন। বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে এরশাদ সংসদ অধিবেশনে যোগ না দিয়েই বেরিয়ে যান।

এদিকে জাতীয় পার্টির একটি সুত্র জানিয়েছে, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপি কাজী ফিরোজ রশিদই হচ্ছেন সংসদীয় বিরোধীদলের উপ-নেতা। তার বিষয়ে এরশাদের বিরোধিতা উপেক্ষা করে জাপার ৩০জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর করা একটি চিঠি স্পিকারকে দিয়েছেন রওশন এরশাদ।

ওই ৩০ সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদকে উপনেতা করতে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু  এবিষয়ে বলেছেন,  রওশন এরশাদ  উপনেতা নির্বাচনের বিষয়ে যে চিঠি দিয়েছেন, আমরা সেই সিদ্ধান্তের ওপরই ঠিক আছি। তিনি বলেন, স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন, তিনি দেশে ফিরলেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

এদিকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ফিরোজ রশিদের বিষয়ে জাতীয় পার্টির কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলে স্পিকারকে আরেকটি চিঠি দিয়েছেন। পার্টির প্রধান হিসাবে তার বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে স্পিকার ফিরোজ রশিদকে বিরোধী দলীয় উপ-নেতা নির্বাচিত ঘোষণা করেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।






মন্তব্য চালু নেই