মেইন ম্যেনু

এটা বিদ্যালয়!

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার তিন নম্বর পাকড়ী ইউনিয়নের মালকামলা উচ্চ বিদ্যালয়ের বেহাল দশা। কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ড ভণ্ড হয়ে গেছে বিদ্যালয়টির অফিস কক্ষসহ চারটি পাকা ঘর। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সরকারি প্রশাসনের কাছ থেকে সামান্য কিছু অনুদান পেয়েছে বিদ্যালয়টি। কিন্তু এ সামান্য অনুদান প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট নয়। এ কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বিদ্যালয়ে শিক্ষা নেয়া ২২০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।

মালকামলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, পহেলা বৈশাখ কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে বিদ্যালয়টি। সেই ঝড়ের ধাক্কা সামলিয়ে উঠতে না উঠতে ২২ দিনের মাথায় আরো একটি ঝড়। এতে বিদ্যালয়ের ৪টি পাকা ঘর পড়ে যায়। শ্রেণীকক্ষসহ অফিস কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়ে। এরপর থেকে প্রায় এক মাস শ্রেণীকক্ষের কার্যক্রম চলে বিদ্যালয়ের মাঠে। এরমধ্যে বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষক নিজেদের টাকা দিয়ে মাঠের মধ্যে টিনের চালা নির্মাণ করে। সেখানেই চলছে পাঠদান কর্মসূচি।

প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম আরো জানান, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠা লাভের পরে ১০ ব্যাচ শিক্ষার্থী ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বের হয়েছে। এবারো ২০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলো। পাশের হার শতভাগ। পাশের হার শতভাগ হলেও ১০ বছরের এমপিওভুক্ত হয়নি বিদ্যালয়টি। একদিকে বিনা বেতনে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের পাঠদান করানো অপরদিকে বিদ্যালয়টির বেহালদশায় বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রমে ধ্বস নেমেছে। স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৫০ ভাগের নিচে নেমে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা সেখানে বিনা বেতনে পাঠদান দিয়ে আসছেন। তবে বিদ্যালয়টির বেহাল দশা হলেও এলাকাবাসীর তেমন কোনো সাহায্য পাওয়া যায় না। অফিস কক্ষে যেসব স্টিলের আলমারি ও আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র আছে সেগুলো বৃষ্টি আসলে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হচ্ছে। শুধু তাই না, রাতে এসব পাহাড়া দেয়ার জন্য লোক রাখা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, টিনের চালের নিচে ক্লাস করতে অনেকেই বিরক্ত মনে করে। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে আনতে বাড়ি বাড়ি যেতে হচ্ছে। তবুও তাদের ক্লাসে ফেরানো যাচ্ছে না। অনেকেই বিদ্যালয় ত্যাগ করে অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টি সংস্কারে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী ৭ টন গম দিয়েছে। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান পাওয়া গেছে। বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে এ সামান্য অনুদানে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিদ্যালয়টিকে দাঁড় করানোর জন্য সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।






মন্তব্য চালু নেই