মেইন ম্যেনু

এখানে যে আসে সে আর ফিরে না

১৯৭১ সালে পাবনার ঈশ্বরদী রাজাকার ক্যাম্পে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সোবহানের নির্দেশে অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে ‘ওসমানকে’ হত্যা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের ১৪তম স্বাক্ষী মো. আজিজুল সরকার (৫৪)।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালে স্বাক্ষী তার জবানবন্দিতে এ কথা বলেন। সাক্ষী আজিজুল সরকার মুক্তিযুদ্ধকালীন শহীদ ওসমানের ভাই।

রাষ্ট্রপক্ষের এ স্বাক্ষী বলেন, ‘১৯৭১ সালের ৩০ অক্টোবর সকালে আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মাওলানা সোবহান ৫০ থেকে ৬০ জন রাজাকার নিয়ে আমাদের বাড়ি ঘেরাও করে। তারা এসে আমার বাবা সাদেক আলী সরদার এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর অত্যাচার শুরু করে। একপর্যায়ে আমার ভাই ওসমানকে আমগাছের সঙ্গে পিঠমোড়া করে বেঁধে রাখে। এরপর রাজকাররা তাকে গাড়িতে করে ঈশ্বরদীর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে সোবহানের নির্দেশে অকথ্য নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়।’

স্বাক্ষী আজিজুল সরকার তার জবানবন্দিতে আরো বলেন, ‘একই দিনে রাজাকাররা আমাদের বাড়ির সোনা-দানা, কাসা-পিতল, তিনটি বড় খাসিসহ ব্যাপক লুটপাটের পর বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এসময় গাড়িতে বেতবাড়িয়া গ্রামের বয়েনা, শফি ও ঘাদুকে আটক করে তারা ক্যাম্পের দিকে নিয়ে যায়। পরে ক্যাম্পে বাবা আমার ভাইয়ের খোঁজ নিতে গেলে দুখু খাঁ নামে একজন জানায়, তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। কান্নাকাটি করে কোনো লাভ নেই। এসময় দুখু খাঁ লোকজনকে বাড়ি ফিরে জেতে বলেন। ক্যাম্পে পাহারাদার আমার বাবাকে এও জানিয়েছিল এ ক্যাম্পে যাদেরকে ধরে আনা হয়েছে তাদের সবাইকেই মেরে ফেলা হয়েছে। এখান থেকে কেউ ফিরে না।’

মাওলানা সোবহান সম্পর্কে স্বাক্ষী বলেন, ‘আমি ঘটনার সময় মাওলানা সোবহানকে আমাদের বাড়িতে দেখেছি। ঘটনার ৭ থেকে ৮ বছর পর তাকে আমি পাবনা শহরে দেখেছি। তখন তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতা। এসময় আমি আজিজুল সদরদার মাওলানা সোবহানকে সনাক্ত করি।’

স্বাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণে সাহায্য করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন। জবানবন্দির পর রাষ্ট্রপক্ষের এ স্বাক্ষীকে আংশিক জেরা করেন আসামিপক্ষের আইজীবী মিজানুল ইসলাম। পরে আদালত আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ ধর্ষণ, লুটপাট, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে সরকার আব্দুস সোবহানকে যুদ্ধাপরাধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ২০১২ সালে একই অভিযোগের ভিত্তিতে জামায়াতের এ নেতাকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশ।






মন্তব্য চালু নেই