মেইন ম্যেনু

সাদা পোশাকের অস্ত্রধারী তুলে নিয়ে যায়

একটি পরিবার যে ভাবে তছনছ হলো ছেলের পর মায়ের মৃত্যু

ঝিনাইদহ শহরের ক্যাডেট কলেজ পাড়ার তরুন ব্যবসায়ী তৈমুর রহমান তুরানের (৩৫) গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়ার পর সন্তানের শোকে এবার তার মা হালিমা খাতুনের (৫৫) অকাল মৃত্যু হয়েছে। একমাত্র ছেলে হারানোর শোক সইতে না পেরে স্ট্রোক করে সোমবার ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয়। তুরানের মৃত্যুর পর পরিবারটি তছনছ হয়ে গেছে।

একমাত্র ছেলের শোকে বৃদ্ধ পিতা আজিজুর রহমানও মাঝে মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকা থেকে গত ৩ এপ্রিল সাদা পোশাকের অস্ত্রধারীরা তুরানকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে নিয়ে যাওয়ার সাত দিন পর ১০ এপ্রিল মাগুরা সদর উপজেলার আলমখালী এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্যমতে লাশটি একটি লিচু বাগানে হাত পা বাধা অবস্থায় পড়ে ছিল।

ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকার তুরানের একটি মোটরগাড়ি মেরামতের কারখানা রয়েছে। তুরানের স্ত্রী তানিয়া আক্তার মুক্তি তার দুই সন্তান প্রাণ (৭ বছর) ও ইলমা (৭ মাস) কে নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। এদিকে তুরান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তার মা হালিমা খাতুন ছেলের শোকে কাতর হয়ে পড়েন। এরপর তুরানের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়ার পর মা আরো ভেঙ্গে পড়েন। ছেলের এ ভাবে মৃত্যু কখনো তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না।

তুরান সক্রিয় কোন দলের নেতাও ছিল না। তবে বিএনপির সমর্থক ছিলেন। এই সমর্থনই তার কাল হলো। ছেলের মৃত্যুর পর তার দুই সন্তান ও স্ত্রীর ভবিষ্যত নিয়ে মা হালিমা প্রায় হাহুতাশ করতেন। গত শনিবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিাইদহে ও পরে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার বিকালে হালিমা খাতুন তার ছেলের পথ অনুসরণ করে ইহধাম ত্যাগ করেন। ছেলে ও স্ত্রীকে হারিয়ে আজিজুর রহমান অথৈ সাগরে পড়েছেন। পরিবারটিতে এখন শোকের ছায়া।

কোলাহলপুর্ন তুরনাদের বাড়িটি এখন সুনশান নীরবতা। শুধু কান্না আর বুক ফাটা আর্তনাদ শোনা যায় ওই বাড়ি থেকে। উল্লেখ্য ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকা থেকে গত ১৭ মার্চ মিরাজুল ইসলাম নামে আরেক যুবককে সাদা পোশাকের অস্ত্রধারীরা তুলে নিয়ে যায় এবং ৯দিন পর ২৫ মার্চ তার গুলিবিদ্ধ লাশ মেলে ঝিনাইদহ চুয়াডাঙ্গা সীমান্তের খাড়াগোদা গ্রামের পান্নাতলা মাঠে। দুই জনের হত্যা করার ধরণ একই রকমের হলেও পুলিশ এখনো উদ্ধার করতে পারেনি হত্যার রহস্য।






মন্তব্য চালু নেই