মেইন ম্যেনু

একজন ভালো স্বামী হতে হলে…

একজন ভালো স্বামী হিসেবে কোন গুণগুলো আপনার মধ্যে থাকা চাই তা নিয়ে ভাবছেন নিশ্চয়ই? ভাবছেন যে কী এমন করবেন যাতে আপনার স্ত্রীর কাছে মনে হয় আপনিই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ স্বামী। বিয়ে করার পরের জীবনটা অনেক বড়। একসাথে চলতে গেলে কত কিছুই না সহ্য করতে হয়। তাই বলে কি ভালো স্বামী হওয়া সম্ভব না? অবশ্যই সম্ভব। শুধু নিজের সুন্দর মনকে, বিবেক-বুদ্ধিকে ঠিক রেখে মেনে চলুন অল্প কিছু বিষয়, দেখবেন আপনি অবশ্যই একজন ভালো স্বামী হতে পারবেন। তাই জেনে নিন কোন গুণগুলো থাকলে আপনি একজন ভালো স্বামী হবেন-

আদর্শবান পুরুষ
একজন স্বামী হওয়ার আগে অবশ্যই একজন আদর্শ পুরুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলুন। মানুষের ছোট খাটো কিছু বাজে অভ্যাস থাকে অবশ্যই, কিন্তু সেই অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করা উচিত। যেমন, নেশা করা বা নারী আসক্তি। বরং বিয়ের পর নিজের মধ্যে এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলুন যাতে আপনার স্ত্রী খুশী হয়। যেমন, আপনি বাইরে যাওয়ার সময় তাকে হালকা চুমু দিয়ে বিদায় জানান, বাড়ি ফেরার পর সুন্দর একটি হাসি দিন। শপিং করতে গেলে ভারী ব্যাগ নিজে বহন করুন, তার পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপারগুলো সবসময় খেয়াল রাখুন। দেখবেন দাম্পত্য জীবন খুব মায়াময় হয়ে উঠবে।

স্ত্রীকে সম্মান করুন
বিবাহিত জীবনে একে অপরকে সম্মান করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার স্ত্রীকে সম্মান করুন। হতে পারে সে খুব স্বাধীনচেতা, কোন ধরণের বাধা না কোন কাজে মানা করা সে পছন্দ করে না। কিন্তু কীভাবে চলতে হবে তা খুব ভালো মতই জানে সে এবং তার ব্যক্তিত্বও আপনাকে খুব আকর্ষণ করে। তখন তাকে সমস্ত কিছু দিয়ে সম্মান করুন। যা কথা দিয়েছেন তা পালন করুন, কোথাও যাওয়ার সময় তাড়াহুড়া না করে তাকে কিছুটা সময় দিন প্রস্তুত হতে, আপনার স্ত্রী আপনাকে কোন কথা বললে তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তার কোন কথায় কিংবা কোন কাজে আপনার খারাপ লাগতে পারে কিন্তু তাই বলে রাগারাগি করবেন না। বুঝিয়ে বলুন।

স্ত্রীকে কখনো মিথ্যা বলবেন না
মিথ্যা কথা বলাটা কেউই পছন্দ করে না। আর দাম্পত্য জীবনের সম্পর্কে কোন কিছু নিয়ে মিথ্যা বলা একেবারেই উচিত না। তাই ভালো স্বামী হতে হলে স্ত্রীকে মিথ্যা কথা বলা বন্ধ করুন। সবসময় স্ত্রীকে জানিয়ে যান কোথায় যাচ্ছেন, যেখানেই যান না কেন তাকে ফোনে যোগাযোগ রাখুন। সত্যি কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সবসময় খোলা মনে কথা বলুন, যা একটি সম্পর্কের জন্য খুব জরুরী।

কখনো প্রতারণা করবেন না
প্রতারণা করা, সেটা যে কারো সাথেই হোক না কেন, কোনভাবেই এটি কারো জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। আর দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর সাথে প্রতারণা করা থেকে খারাপ অন্য কিছু হতে পারে না। হতে পারে জীবনে একসাথে চলতে গিয়ে কোন কারণে স্ত্রীকে ভালো লাগছে না, তার মানে তো এই না যে স্ত্রীর সাথে আপনি প্রতারণা করবেন। প্রতারণা যে কোন ধরনেরই হতে পারে। স্ত্রীর কাছে লুকিয়ে যে কাজগুলো আপনি করবেন এবং আপনি জানেন যে কাজগুলো করা উচিত না সেটাই প্রতারণা। তাই এই ব্যপারে সৎ থাকুন।

অলসতা দূর করুন
অলসতা কোন নারীই পছন্দ করে না। কিন্তু অনেক পুরুষের স্বভাবেই এই আলসেমি করার ব্যাপারটা থাকে। আরাম মানে ছুটির দিনে টিভি দেখা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে বসে থাকা নয়। নিজের কাজ গুলো নিজে করুন। মাঝে মাঝে স্ত্রীর সাথে কাজে, রান্নায় সহায়তা করুন। এক্সারসাইজ করুন নিজেকে ফিট রাখতে, সপ্তাহে একদিন নিজেদের মধ্যে সাংসারিক কাজগুলো ভাগাভাগি করে নিন। দেখবেন আপনার স্ত্রী খুশি হবে এবং আপনি নিজেও আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবেন।

স্বার্থপর হবেন না
স্বার্থপর, এই বিষয়টি কারো চরিত্রে থাকেলে সে কখনোই জীবনে ভালো করতে পারবে না। স্বার্থপর মানে যে মানুষগুলো নিজের ভালো ছাড়া অন্য কারো ভালো মন্দ বোঝে না। অনেকেই বিয়ে করেন নিজের স্বার্থের জন্য। ১০ জন পাত্রী দেখে একজনকে বিয়ে করেন যার কাছ থেকে আর্থিক ভাবে সাহায্য পাবেন। কিন্তু একজন ব্যক্তিত্ববান পুরুষের মধ্যে এই ধরণের স্বভাব কোন স্ত্রীর কাম্য নয়। কখনো এই ভেবে বিয়ে করবেন না যে বিয়ে করলে আপনি কী পাবেন তার কাছ থেকে। স্বার্থপরতা আপনাকে ধ্বংস করবে তাই নিজেকে এই সব খারাপ বিষয় থেকে দূরে রাখুন।

খারাপ ব্যবহার করবেন না ও গায়ে হাত তুলবেন না
স্ত্রীর সাথে চিৎকার করে কথা বলবেন না এবং ভুলেও গায়ে হাত তুলবেন না মনে রাখবেন এই ধরণের জঘন্য কাজ গুলো একমাত্র ছোট নোংরা মানসিকতার পুরুষেরা করে থাকে। জীবনে চলতে গেলে সমস্যা আসবেই, আপনার স্ত্রী ভুল করতেই পারে তাই বলে আপনি তার গায়ে হাত তুলবেন তার সাথে চিৎতকার করবেন তা নিশ্চয়ই কোন ভদ্র পুরুষ লোকের কাজ না। সমস্যা হলে তা নিজেরা মিলে সমাধান করাটাই একজন ভদ্র পুরুষের লক্ষন।

স্ত্রীর প্রতি আপনার ভালোবাসা প্রকাশ করুন
ভালোবাসেন ঠিকই কিন্তু প্রকাশ করতে পারছেন না, তাহলে কীভাবে চলবে বলুন? ভালোবাসা প্রকাশ করা মানেই কিন্তু শারীরিক সম্পর্ক না, ভালোবাসা প্রকাশ করার অনেক মাধ্যম আছে। যেমন, মাঝে মাঝে ছোট কোন উপহার সাথে ছোট একটি কাগজে ভালবাসার কথা জানিয়ে দিন, কারণ ছাড়াই জড়িয়ে ধরুন, ভালবাসি কথাটি মেসেজ করে বলুন, বাইরে থাকলে তাকে আপনি মিস করছেন জানিয়ে দিন এইভাবেই প্রকাশ করুন স্ত্রীর কাছে নিজের ভালোবাসাগুলো।

এই বিষয়গুলো ছাড়াও আরও অনেক বিষয় আছে নিজেকে একজন ভালো পুরুষ ও স্বামী হিসেবে গড়ে তুলতে। জীবনে চলতে গেলে বিষয় গুলো এমনিতেই চলে আসবে আপনার সামনে তখন ভালো মন্দটা বুঝে চলুন দেখবেন স্ত্রীকে নিয়ে সুখী হবেন।






মন্তব্য চালু নেই