মেইন ম্যেনু

উপজেলা আ’লীগ সভাপতির প্রাইভেটকারে চোরাই ছাগল

মৌলভীবাজারের বাহুবল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির প্রাইভেটকারে চোরাই ছাগল পাচারকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও হাইওয়ে ফাঁড়ির পুলিশ ছাগলসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে। ওই প্রাইভেট কারের নাম্বার (ঢাকা মেট্রো-গ ১১-৪১৫৪)। চোরাই ছাগলসহ আটককৃত দুজন হলো- বাহুবল উপজেলার হরিতলা গ্রামের সফিক মিয়ার ছেলে কার ড্রাইভার কামাল মিয়া (৩০) ও একই উপজেলার করিমপুর লালটিলা গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া (২৫)।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চোরাই ছাগলসহ গাড়িটি জব্দ করে। আটক দুইজনকে আসামি করে সাতগাঁও পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই হুমায়ূন কবির বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি মামলা রুজু করেন।

পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘সাতগাঁও ফাঁড়ির এএসআই হুমায়ুন কবিরসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আমি সোমবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের সাতগাঁও চা বাগান এলাকায় ডিউটি পালন করছিলাম। এ সময় আমাদের কাছে গোপন সংবাদ আসে শ্রীমঙ্গল শহরতলীর সুরমা ভ্যালী এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ চোরেরা একটি ছাগল চুরি করে প্রাইভেটকারযোগে যাচ্ছে। এ সংবাদের ভিত্তিতে প্রাইভেটকারটিকে থামানোর জন্য সংকেত দেই। কিন্ত কারের চালক আমাদের সংকেত অমান্য করে প্রাইভেটকার দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাওয়ার সময় সাতগাঁও চাবাগানের ফ্যাক্টরি এলাকা থেকে ছাগলসহ তাদের আটক করি।

তখন ওই প্রাইভেটকার চালক জানায়, এই প্রাইভেটকারের মালিক বাহুবল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুন নুর মানিক। সে তার ড্রাইভার।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো জানায়, শ্রীমঙ্গল শহর তলীর সুরমাভ্যালী এলাকা থেকে লোকজনের অগোচরে কারের পেছনের সিটে ছাগলটিকে লুঙ্গি দিয়ে ঢেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এ সময় গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চাইলে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারে নাই। আটককৃতরা আরও জানায় এভাবে বিভিন্ন সময়ে কারে করে ছাগল চুরি করে আসছিল।

শ্রীমঙ্গল থানায় নিয়ে আসার পর ড্রাইভার এ সাংবাদিকদের জানায় এ প্রাইভেটকারের মালিক বাহুবল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুন নুর মানিক মিয়া। সে শ্রীমঙ্গলে প্রাইভেটকারটি ওয়ার্কসশপে নিয়ে আসছিল। চোরাই ছাগল কারে কেন এমন প্রশ্নের জবাব সে দিতে পারেনি।

তবে আটক শামীম মিয়া জানায়‘ড্রাইভার কামালের কথামতো সুরমাভ্যালীর ওয়ার্কসশপের সামনের গাড়ির চিপাগলি থেকে ছাগলটি প্রাইভেটকারে তুলে নিই। কামাল এই ছাগল চুরির সাথে জড়িত। সে শ্রীমঙ্গলে তার গাড়ি মেরামতের কথা বলে আমাকে বাহুবল থেকে শ্রীমঙ্গলে নিয়ে আসে।

বাহুবল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুন নুর মানিক রাত ৮টার দিকে বলেন, ‘ড্রাইভার কামাল আমাকে বলেছে রোগী নিয়ে সে মৌলভীবাজারের মাতারকাপনে যাবে। আমি ঘুম থেকে বিকেল ৪টার পর শুনেছি সাতগাঁও পুলিশ ফাঁড়িতে আমার প্রাইভেটকারটি নিয়ে চোরাই ছাগলসহ আটক হয়েছে। কিন্তু আমি একজন সম্মানী লোক। ড্রাইভার আমাকে না জানিয়ে চুরির ছাগলের ট্রিপ নিয়ে গেছে তা আমি জানি না। চোরাই ছাগল নিয়ে পুলিশের কাছে যে সে ধরা পড়েছে এ নিয়ে পুলিশের কাছে তার জন্য কোনো তদবির করি নি। আমি তার ‍উপযুক্ত শাস্তি চাই।’






মন্তব্য চালু নেই