মেইন ম্যেনু

উখিয়ায় রোহিঙ্গা শ্রমিকরা অতিরিক্ত মজুরী নেওয়াতে বিপাকে কৃষকরা

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের ৫শ টাকা মজুরীতে বিপাকে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা। স্থানীয় শ্রমিকের মারাত্মক সংকটের কারণে শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গা শ্রমিকদের নিয়ে ধানকাটা শুরু করতে গিয়ে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক কৃষকরা কম টাকার আশায় রোহিঙ্গা শ্রমিক এনে ধানকাটা শুরু থেকে শেষ করে পরে মজুরী বৃদ্ধির বির্তকের জের ধরে তারা আর কাজে আসতে চাইছে না। এমতাবস্থায় বোরো পাকাধান ঘরে তুলতে না পেরে কৃষকেরা হতাশায় ভোগছে।

জানা যায়, দক্ষিণ পুকুরিয়া গ্রামের কৃষক মাস্টার জানে আলম এ প্রতিবেদককে জানান, সে প্রায় ২ একর জমিতে বোরো চাষ করেছে। ধানকাটার মৌসুম শুরু হলেও শ্রমিক সংকটের কারণে সে ধানে কাঁচি বসাতে না পেরেই হতাশ হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় আর ক’দিন থাকলে পাকাধান মাঠে ঝড়ে পড়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। সিকদার বিল গ্রামের কৃষক ফয়সাল হক টিটু জানায়, তার ৩ কানি জমির ধান কাঁটার জন্য রোহিঙ্গা শ্রমিকের দ্বারস্থ হলে তারা দৈনিক ৫শ’ টাকা মজুরী দাবী করছে।

সে জানায় জমির লাগিয়ত, পানি খরচ, বিদ্যুতের বিল, শ্রমিকের মজুরী, সার, পরিচর্যাসহ প্রতিকানিতে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এমতাবস্থায় দৈনিক ৫শ’ টাকায় মজুর কাটাতে হলে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করেও পোষাবে না। দরগাহবিল গ্রামের কৃষক নাজির হোসেন জানায়, সে রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে ধানকাটা শুরু করেছে। প্রথম দিনেই দরদামে বণিবনা না হওয়ায় শ্রমিকেরা পরদিন আর কাজে আসেনি। ফলে মাঠের কাটা ধান মাঠে পড়ে রয়েছে। এভাবে শত শত কৃষক শ্রমিক সংকটে পড়ে বিপাকে পড়তে দেখা গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার ৫ ইউনিয়নে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকার সুযোগে ফলনও হয়েছে ভাল। কৃষি কর্মকর্তা শংকর কুমার মজুমদার শ্রমিক সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রতিকানিতে কমপক্ষে ১শ’ আড়ি ফলন উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজারে ধান চালের দরপতন হওয়ায় কৃষকের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।






মন্তব্য চালু নেই