মেইন ম্যেনু

ইরানের ঐতিহাসিক নগরী ‘লোরেস্তান প্রদেশ’

ইরান দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র। ইরান বিশ্বের সবচেয়ে পর্বতময় দেশগুলির একটি। এখানে রয়েছে পৃথিবীর ঐতিহাসিক সব নগরী। ইরানের ঐতিহাসিক নগরী গুলোর একটি হচ্ছে লোরেস্তান প্রদেশ।

লোরেস্তান প্রদেশটি বেশ প্রাচীন। লোরেস্তন ইরানের ৩০টি প্রদেশের ঐতিহাসিক প্রদেশের একটি । এটি দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে জাগ্রোস পর্বতমালাতে অবস্থিত। এখানে ১৭ লক্ষেরও বেশি লোক বাস করে। প্রদেশের রাজধানীর নাম খোর্‌রামাবাদ। স্বাভাবিকভাবেই প্রাচীন ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ লোরেস্তান। সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং প্রাকৃতিক শত শত নিদর্শনে ভরপুর এই প্রদেশ অনাবিল সৌন্দর্য, চমৎকার আবহাওয়া আর দর্শনীয় বিচিত্র স্থান ও স্থাপনার জন্য ইরানের অন্যতম প্রদেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত।

img_4321

বর্তমানে লোরেস্তান প্রদেশের আয়তন ত্রিশ হাজার বর্গকিলোমিটার। ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই প্রদেশটি। ঐতিহাসিক লোরেস্তান প্রদেশ সবুজ শ্যামল। এর উত্তরে রয়েছে হামেদান এবং কেন্দ্রীয় প্রদেশ। দক্ষিণে রয়েছে খুজিস্তান প্রদেশ। পূর্বদিকে রয়েছে ইস্পাহান প্রদেশ আর পশ্চিম দিকে রয়েছে কেরমানশাহ প্রদেশ এবং এইলাম প্রদেশ।

লোরেস্তানে প্রদেশে রয়েছে প্রচুর পাহাড় পর্বত। যাগরোস পর্বতমালার মাঝখানে পড়েছে। এখান থেকে দেখতে পাওয়া যায় পার্বত্য উপত্যকার পাশাপাশি অনেক উন্মুক্ত প্রান্তরও। প্রাকৃতিক এই গঠনের কারণে লোরেস্তান প্রদেশের আবহাওয়াতেও বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। আর এই আবহাওয়ার কারণে প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশ যেমন গড়ে উঠেছে তেমনি বিচিত্র বুনো প্রাণীর নিশ্চিন্ত জীবনযাপনেরও প্রাকৃতিক ব্যবস্থা রয়েছে। এদিক থেকে বলা যায় লোরেস্তান হচ্ছে প্রকৃতিপ্রেমিকদের জন্য একটা সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। এর পাশাপাশি প্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্যের সমৃদ্ধি প্রদেশটির গুরুত্ব আরও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

আবহাওয়াগত বৈচিত্র্যের দিক থেকে লোরেস্তান তিন ভাগে বিভক্ত। পার্বত্য এলাকার আবহাওয়া ঠাণ্ডা। ভূমধ্যসাগরীয় আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। আর অর্ধ মরু আঞ্চলিক আবহাওয়া গরম। উত্তর, উত্তর পশ্চিম এবং পূর্ব এলাকার আবহাওয়া গরমের সময় নাতিশীতোষ্ণ আর ঠাণ্ডার সময় থাকে বরফে ঢাকা। এর কারণ হলো এইসব এলাকা বেশ উঁচু। কোনো কোনো এলাকার উচ্চতা দুই হাজার মিটারের মতো। লোরেস্তান প্রদেশের প্রায় পঁচাশি ভাগ এলাকাই পার্বত্য। লোরেস্তানের এরকম আরেকটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিদর্শন হলো ‘গাহার’। ওশতুরানকুহ পাহাড়ের পাশেই গাহারের অবস্থান।

20130630164333-f3f03477-me

আবহাওয়াগত আনুকূল্যের কারণে এই এলাকাটিতে বন জঙ্গলের প্রাচুর্য লক্ষ্য করা যায়। বিচিত্র গাছ গাছালিতে ভর্তি লোরেস্তানের শতকরা প্রায় তেইশ ভাগ এলাকা। এখানে পানি যেমন আছে তেমনি এই এলাকার মাটিও বেশ উর্বর। এই দুই বৈশিষ্ট্যের কারণে লোরেস্তানের মানুষের প্রধান দুটি পেশাই হয়ে দাঁড়িয়েছে পশুপালন ও কৃষিকাজ। লোরেস্তান প্রদেশে শিল্প কলকারখানা যেমন প্রচুর রয়েছে তেমনি খনিও রয়েছে অনেক। রাসায়নিক শিল্প, ইস্পাত শিল্প এবং নির্মাণ শিল্পের বিশাল একটা অংশ কারখানাজাত। খুররামাবাদে অবস্থিত ফ্রিজ তৈরির কারখানা এবং ‘নির পার্স’ কমপ্লেক্সের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এবার লোরেস্তানের নৃ-তত্ত্ব নিয়ে কিছুটা কথা বলা যাক। লোরেস্তানের অধিবাসীদের বলা হয় লোর। ইরানের সবচেয়ে প্রাচীন গোত্র হলো লোর। তারাই আর্যদের মধ্যে সর্বপ্রাচীন। ইরানের প্রাচীন ইতিহাসে এরাই ‘কসিহা’ কিংবা ‘কসিতহা’ নামে বিখ্যাত। দুটি ভাষাভঙ্গি রয়েছে তাদের। একটি হলো ‘লোরি’ আরেকটি হলো ‘লাকি’। এই দুই ভাষাতেই সাধারণত লোরেস্তানের লোকজন কথাবার্তা বলে।

লোরেস্তানের বেশিরভাগ মানুষ মুসলিম এবং শিয়া মাজহাবের অনুসারী। দ্বীনি বিধিবিধানের ব্যাপারে তারা খুবই নিষ্ঠাবান। লোরেস্তানের জনগণ ভীষণ দেশপ্রেমিক, সত্যবাদী এবং পুণ্যবান। কাউকে কোনো কথা দিলে তারা তা রক্ষা করার ব্যাপারে ভীষণ দৃঢ় ও আমানতদার। অতিথি পরায়নতার জন্যও লোরেস্তানের জনগণের নামডাক রয়েছে।-সূত্র: উইকিপিডিয়া।






মন্তব্য চালু নেই