মেইন ম্যেনু

আ. লীগ নেতাকে ছেলের গুলি, অল্পের জন্য রক্ষা!

ঝালকাঠি পৌরসভার মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি লিয়াকত আলী তালুকদারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তাঁর ছেলে আমিনুল ইসলাম লিটন তালুকদারকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের কোর্ট রোডে তাঁদের বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ঝালকাঠি পৌরসভায় লাইসেন্সবিহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ করে দেন মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার। নতুন করে লাইসেন্স দেওয়াও বন্ধ করেন তিনি। কিন্তু মেয়রের বড় ছেলে আমিনুল ইসলাম লিটন তালুকদার লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার জন্য তাঁর বাবাকে চাপ দেন। এ নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মেয়রের কোর্ট রোডের বাস ভবনে বাবা ও ছেলের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ছেলে লিটন তালুকদার উত্তেজিত হয়ে বাবা পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। তবে ভাগ্যক্রমে গুলি মেয়রের শরীরে লাগেনি।

তাৎক্ষণিক মেয়র পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ বাসা থেকে লিটন তালুকদারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোর্ট রোড এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, সন্ধ্যার দিকে পৌর মেয়রের বাসায় চারটি গুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে মেয়রের বড় ছেলেকে আটক করে।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহে আলম বলেন, ‘মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার আমাকে ফোন করে বলেছেন, তাঁর ছেলে মদপান করে মাতলামি করছেন। খবর পেয়ে আমি তাঁর বাসা থেকে বড় ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ঘটনার তদন্ত চলছে। পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে পরে কথা বলুন বলে সংযোগ কেটে দেন।

থানায় আটক থাকায় লিটন তালুকদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সুপার মো. জোবায়দুর রহমান জানান, মেয়রের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। মেয়র তাঁকে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে লিটন তালুকদার তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করেছিলেন। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পরপর পুলিশ মেয়র বাসায় গিয়ে একটি পিস্তল, একটি গুলির খোসা, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৪টি গুলি উদ্ধার করেছে। পিস্তলটি লিটন তালুকদারের অবৈধ অস্ত্র। এর কোনো লাইসেন্স নেই।






মন্তব্য চালু নেই